তারকা কথন

রোনালদো বলেই যত আশা

  অনলাইন ডেস্ক

১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানির মতো আলোচনায় নেই পর্তুগাল। তাতে কি ইউরো টুর্নামেন্টের আগেও আলোচনায় ছিল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। তবে সব বড় দলকে মাত করে শিরোপা জয় করে পর্তুগিজরা। শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো; যার কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। দলের কা-ারি ক্রিশ্চিয়ানো বলেই এবারের বিশ্বকাপে আশা দেখছে পর্তুগাল। আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানোর ইতিবৃত্ত।

শৈশব

১৯৮৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্ম হয়। মাদেইরোর দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন এই তারকা। তার পুরো নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ডাস সান্তোস এভেইরা। তার পিতা জোসে দিনিস আভেইরো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ভক্ত ছিলেন বলে তার নাম রাখা হয় রোনালদো। তার মায়ের নাম ডোলোরেস দাস সান্তোস আভেইরো। রোনালদো পরিবারের চতুর্থ সন্তান। তার বড় এক ভাই এবং দুই বোন রয়েছেন। মাদেইরোতেই কাটে ক্রিশ্চিয়ানোর শৈশবের বেশিরভাগ সময়।

‘ক্রাই বেবি’

ছোটবেলায় ক্রিশ্চিয়ানোকে তার বন্ধুরা ক্রাই বেবি নামে ডাকত। কারণ তার পাস থেকে গোল করতে না পারলে কেঁদে দিতেন রোনালদো। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি রোনালদোর ছিল প্রবল আকর্ষণ। তার খেলায় ছিল ক্ষিপ্রতা। ছোটবেলায় তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘লিটল বি’। কারণ রোনালদো বল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলে তাকে কেউ থামাতে পারতেন না।

ক্লাব ক্যারিয়ার এবং সাত নম্বর জার্সি

১৯৯৯-০২ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের কাব আন্দোরিনহো, ন্যাশনাল এবং স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে খেলেছেন রোনালদো। এর পর তাকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলে টানে। লিসবনে রোনালদোর জার্সি নম্বর ছিল ২৮। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ স্যার অ্যালেক্স ফর্গুসেনের প্রিয় ছিলেন রোনালদো। তিনিই ২০০৩ সালে রোনালদোকে পর্তুগালের কাব থেকে ইউনাটেডে তুলে আনেন এবং তাকে ডেভিড বেকহ্যামদের ৭ নম্বর জার্সি দেন। সেই থেকেই সিআর সেভেন নামে পরিচিতি পান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এরপর ২০০৯ সালে প্রায় ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৬ বছরের কিনে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। এখানেও তার জার্সি নম্বর হয় ৭। ২০১০-২০১১ মৌসুমে ক্রিশ্চিয়ানো ৫৪ ম্যাচে ৫৩ গোল করেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন সবগুলো লিগ।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

২০০১-২০০৪ পর্তুগালের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে চুটিয়ে ফুটবল খেলেছেন রোনালদো। অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ৯ ম্যাচে ৭টি, অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ৭ ম্যাচে ৫টি, অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ৫ ম্যাচে ১টি, অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে ১০ ম্যাচে ৩টি ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ৩ ম্যাচে ২টি গোল করেন ক্রিশ্চিয়ানো। ২০০৩ থেকে ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত পর্তুগালের সিনিয়র দলের হয়ে ১৫০ ম্যাচে ৮১টি গোল করেছেন সিআর সেভেন। ২০১৬ সালে জাতীয় দলের হয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন রোনালদো।

ব্যালন ডি’অর

সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার সমান পাঁচটি ব্যালন ডি’অর আছে লিওনেল মেসিরও। এ ছাড়া ফিফা দ্য বেস্ট ট্রফি আছে ২টি। রিয়াল মাদ্রিদ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন পাঁচটি। এ ছাড়াও আরও অনেক অর্জন রয়েছে এই জীবন্ত কিংবদন্তির

বান্ধবী মাঠের বাইরে

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বেশ আমুদে। পার্টিতে মেতে থাকতে পছন্দ করেন তিনি। রোনালদোর বান্ধবীর তালিকা অনেক বড়। ২৭টির অধিক বান্ধবী ছিল রোনালদোর। বর্তমানে রোনালদোর বান্ধবীর নাম জর্জিনা রদ্রিগেজ। এই বিশ্বকাপের পরেই রোনালদো এবং জর্জিনার বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। রোনালদোর রয়েছে চার সন্তান। রোনালদোর বড় ছেলের নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। এর পর তার যমজ সন্তান জন্ম হয়, যাদের নাম মাতেও এবং ইভা। রোনালদোর সব শেষ কন্যাসন্তানের নাম আলানা মার্টিনা।

জানা অজানার

রোনালদো

য় রোনালদোর অসাধারণ ড্রিবলিং আর ক্ষিপ্রগতি তাকে অল্পদিনেই পরিচিত করে তোলে। তাকে নিয়ে ক্যাস্ট্রোল এজ নামের একটি কোম্পানি তৈরি করে ডকুমেন্টারি।

য় ডকুমেন্টারির নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো : টেস্টেড অব লিমিট। ডকুমেন্টারিতে দেখা যায় রোনালদোর ফ্রি-কিকের গতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার; যা অ্যাপোলো ১১ রকেটের গতির চেয়েও বেশি।

য় ক্রিশ্চিয়ানোর পছন্দের পড়ার বই ইতিহাস।

য় রোনালদো হরর ফিল্ম দেখতে পছন্দ করেন।

য় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ১০০০তম গোলটি করে রোনালদো।

য় ফুটবলের পাশাপাশি রোনালদো ভালো টেনিস খেলোয়াড়।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে