এক প্রাচীরের গল্প

  আবীর রহমান

২৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ জুন ২০১৮, ০১:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

ফুটবল মানেই গোলের খেলা যেখানে বল পজেশনে এগিয়ে থাকা, দূর্দান্ত ড্রিবলিং, অসাধারণ পাস বা ক্রসিং সমর্থকদের আনন্দ দিয়ে থাকলেও ফলাফলের ক্ষেত্রে গোলটাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আর গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গোলরক্ষকরা। একটি ভুল পাসের মাসুল হয়তো একজন মিডফিল্ডার পুষিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু একজন গোলরক্ষকের একটি ভুল তাকে ইতহাসের খলনায়কে পরিণত করে। তাই স্বাভাবিকভাবেই গোলরক্ষকের ভূমিকা অত্যন্তু গুরুত্ব বহন করে। ইতোমধ্যেই সবার নজর কেড়েছেন কোস্টারিকার গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারলেও সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

ম্যাচের প্রায় ৯০ মিনিট পর্যন্ত গোলপোস্টের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে ছিলেন নাভাস। শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের আক্রমণের কাছে হারতে হয়েছে তাকে। তবে পুরো ম্যাচে স্পার্টান যোদ্ধার মতো বুক চিতিয়ে লড়েছেন এই গোলরক্ষক। ম্যাচে ২-০ গোলে জিতলেও গোলের জন্য কী পরিমাণ হাপিত্যেশ করতে হয়েছে পুরো ব্রাজিল দলটাকে, সেটা জানেন স্টেডিয়ামে বসে থাকা দর্শকরা; জানেন টিভিতে খেলা উপভোগ করা সমর্থকরা। নখ কামড়ানো উত্তেজনা কী জিনিস, সেটা টের পেয়েছেন দলের কোচ তিতে। স্কোরশিট অনেক কিছুই বলে না; বলে না গোলরক্ষকের একক অবদানের কথা। কেইলর নাভাস যা করেছেন, সেটাকে অতিমানবীয় বললে কি বাড়াবাড়ি হবে? খুব সম্ভবত হবে না। কারণ ব্রাজিলের বাঁধভাঙা আক্রমণ রুখতে পারেনি কোস্টারিকার ডিফেন্স, রুখে দিয়েছেন নাভাস একাই। একের পর এক ফিরিয়েছেন শট, হেড; হতাশ করেছেন ব্রাজিলিয়ানদের। স্কোরশিটে নাভাসের নাম লেখা নেই কোথাও, তবু যেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষকই! ব্রাজিল তো নব্বই মিনিট ধরে অসহায় হয়ে ছিল এক নাভাসের কাছেই। পুরোটা মাঠে নেইমারদের আধিপত্য, সেই আধিপত্য খর্ব হয়ে যাচ্ছিল কোস্টারিকার গোলপোস্টের সামনে এসেই। তবে অতিরিক্ত সময়ে আর দলকে আগলে রাখতে পারলেন না নাভাস। কোটিনহো, নেইমারের দুই গোলে অসহায় হয়ে পড়লেন এই রক্ষণপ্রাচীর। নব্বই মিনিট বীরের মতো গোলপোস্ট আগলে রাখা নাভাসের চোখেমুখে তখন কান্তির বিষণœ ছাপ। দুর্দান্ত খেলেও নাভাস পরাজিতের দলে; কারণ প্রতিপক্ষ দলটার নাম যে ব্রাজিল! মেরিট আর স্কিলের সমন্বয়ে যারা গুঁড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষকে!

২০০৮ সালে অভিষেকের পর, নাভাস কোস্টারিকার হয়ে সত্তরেরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি দুটি কনকাকাফ গোল্ড কাপ এবং ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপে কোস্টারিকাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নাভাস মূলত আলোচনায় আসেন ২০১৪ বিশ্বকাপের মাধ্যমেই। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ। কোস্টারিকা বনাম গ্রিসের মধ্যকার টাইব্রেকারে শট নিতে এসেছেন গ্রিসের থেওফানিস গেকাস। পোস্টের নিচে তখন কোস্টারিকার কেইলর নাভাস। গেকাস ছুটে এসে ডান পায়ে শট নিয়েছিলেন পোস্টের বাঁ দিকের ফাঁকা জায়গা লক্ষ্য করে। কিন্তু বল পোস্টে ঢোকার আগেই কেইলর নাভাস যেন চিলের মতোই শোঁ করে বলটাকে ঠেলে দিলেন পোস্টের বাইরে। আর তাতেই টাইব্রেকারে কোস্টারিকা ম্যাচ জিতেছিল ৫-৩ এ। প্রথমবারের মতো উঠেছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন কোস্টারিকার স্বপ্ন পূরণের নায়ক কেইলর নাভাস। এর পর কাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে পথচলা শুরু হয় নাভাসের। প্রথম দিকে রিয়ালের কর্তৃপক্ষ গোলবারের নিচে আরও হাইপ্রোফাইল গোলরক্ষক চাইলেও নাভাসে মুগ্ধ হয়েছে দলটি। অনেক কঠিন সময়েই রিয়ালকে রক্ষা করেছেন নাভাস। এবারের বিশ্বকাপেও দলকে আশা দেখাচ্ছেন কোস্টারিকার গোলপোস্টের এই অতন্দ্র প্রহরী।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে