নেইমার কেন পড়ে যান

  মাইদুল আলম বাবু, সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে

২৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ জুন ২০১৮, ০৯:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এবার তিনি সেখানে যেতে বেশ আকুল হয়ে আছেন। আসলে ব্যাপারটি একটু জটিলও। মেডিক্যাল পরীক্ষা হবে আগে। তার পর যেতে পারবেন নেইমার। কাতালানদের রাজধানী বার্সেলোনায় আসলেন নেইমার। মেডিক্যাল পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে ওজন মাপা। নেইমারের ওজন তখন ছিল ৬০ কেজি। নেইমার ফ্রন্ট লাইনের খেলোয়াড়। ওই ওজন দেখে বার্সেলোনার ডাক্তাররা বেশ চিন্তায় পড়ে গেলেন। কী করা যায়! সবই ঠিক আছে, তবে এই ওজনই ঝামেলা পাকিয়েছে। পরে নেইমারের ওজন বাড়াতে খাবারে রকমারি আয়োজন করেছে, যতদিন নেইমার ছিলেন সেখানে। এখন ৬৮ কেজি ওজন তার। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পড়ে যাওয়ার অভ্যাস ছিল তার। কিংবদন্তি পেলে বেশ সমালোচনা করেন। নেইমার এর পর ইচ্ছেকৃত ফাউল আদায় ছেড়ে দেন। বিশ্বকাপে কোস্টারিকার ম্যাচে নেইমারের পড়ে যাওয়া নিয়ে অনেক কথা উঠেছে। নেইমারের ইচ্ছাকৃত পড়ে লাভ হয়নি। ভিএআর রয়েছে। তবে ফুটবল বডি কন্ট্রাক্ট খেলা। এত ফাউল আর এত কিছু রেফারি যদি ধরা শুরু করেন তো খেলা থাকবে না। ২২ জন মানুষকে সামলানো খুব কঠিন কাজ।

নেইমার কেন পড়ে যান, সে ব্যাখায় যাওয়া যাক। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির মতোই নেইমারকে সে পর্যায়ে রাখে ফুটবলবিশ্ব। যদিও নেইমার এখন টানা দশ-বারো মৌসুম এত এত গোল করেননি। মেসির ওজন ৭২ ও রোনালদোর ৮৪ কেজি। অবশ্য উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নির্ধারিত হয়। ঠিক কত হলে আদর্শ সেটা উচ্চতায় নির্ভর করে। নেইমারের পড়ে যাওয়ার কারণ ওজনও বটে। ফ্রন্ট লাইনের ফুটবলাররা ফাউলড হবেন এটা স্বাভাবিক। নেইমার রোনালদোর মতো দীর্ঘদেহী ও চওড়া কাঁধসম্পন্ন নন। আবার নেইমার রোনালদো মেসির মতো ছুটে চলেন না। নেইমার জোগো বনিতোর সাধক। একটু আর্ট করে খেলতে পছন্দ করেন। এই বল নিয়ে কাড়িকুড়ি আর কি। অন্য দলের ডিফেন্ডারদের যে শক্তিমত্তা, এতে নেইমার শৈল্পিক কিছু করতে গেলেই যে ফাউলড হবেন এটা স্বাভাবিক।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবলে ইচ্ছাকৃত পড়ে যাওয়ার প্রবণতা নেই বললেই চলে। নেইমার সান্তোসে খেলা অবস্থায় প্রায় এই কাজ করতেন। এত বড় প্রতিভাবান ফুটবলার নেইমার। নেইমারের কাছ থেকে এটা আশা করেন না পেলে। একবার পেলে তাকে ডেকে পাঠালেন। নেইমার মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পেলে বললেন, তুমি পড়ে যাও কেন? নেইমার, আমার তখন মাথা কাজ করে না। ডিফেন্ডার ইচ্ছা করে ধাক্কা দিচ্ছে। রেফারি কিছু বলছে না। তখন আমার কী করার থাকতে পারে। আমি কতক্ষণ তার এই লাথি আর ধাক্কা সামলাতে পারি? পেলে আর কিছু বললেন না। নেইমারও এর পর থেকে পড়ে যাওয়া বাদ দিয়ে দেন। এখন ডিফেন্ডাররা তো ছেড়ে কথা বলেন না। নেইমার এই বিশ্বকাপে টার্গেট হয়ে গেছেন। যেমন টার্গেট থাকেন মেসি ও রোনালদো। রোনালদোর ফিটনেসের সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন। অমন সিক্স প্যাকের সঙ্গে কে বাবা যাবে লড়াই করতে! এক্কেবারে বুনো ষাঁড় একটা!

নেইমার তা হলে রেফারির উদাসীনতায় পড়ে যান! এটাও হতে পারে। মাঠে হয় কী, অনেক হ্যান্ডবল আর অনেক ফাউল ধরা হয় না। রেফারি মনে করেন, এটা না দিলে কোনো দলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এমনও হয় মাঝে মাঝে। প্রতিটি ট্যাকলে যদি ফাউল আর ন্যায়-অন্যায় বিচার করা হয়, তো ৯০ মিনিটের খেলা চলতে পারে ১৩০ মিনিট পর্যন্ত। কারণ এত ফাউল হলে তো অ্যাডিশনাল টাইমও বাড়বে। রেফারিও চান খেলাটা সুন্দর হোক। দর্শকরা উপভোগ্য ম্যাচ দেখুক। কারইবা কার্ড দিতে ভালো লাগে। তবে এমন কিছু পড়ে যাওয়া আছে, যেটা রেফারি বোঝেন! আর আজকাল ভিএআরও বোঝে!

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে