‘খলনায়ক’ তারা

  ওবায়দুল্লাহ সনি

৩০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ৩০ জুন ২০১৮, ০৯:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়ে মহানায়কের বেশে এসেছিলেন বিশ্বজয়ে, অথচ হয়ে গেলেন খলনায়ক। বাস্তব কিংবা চলচ্চিত্রের খলনায়করা ইচ্ছে করেই এ ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও তারা হয়েছেন অপ্রত্যাশিতভাবে। এখন পর্যন্ত রাশিয়া বিশ্বকাপের সর্বশেষ খলনায়ক জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। দেশকে ৮০ বছর আগের লজ্জায় ডুবিয়ে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে তার দল। অথচ ভক্তদের স্বপ্ন ছিল ট্রফিটা এবারও ধরে রাখা। লোর এমন দশা দেখে নিশ্চয়ই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন লুই ফেলিপে স্কোলারি! কারণ আজ থেকে চার বছর আগে এই জার্মানিই যে তাকে মহায়নয়ক থেকে খলনায়ক বানিয়ে ছেড়েছিল।

কয়েক দিন আগেও সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের ছোট্ট তালিকায় ছিল জার্মানির নাম। সেই পরশক্তি বিদায় নিয়েছে গ্রুপপর্ব থেকে। এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন সম্ভবত এটিই। আর এ ব্যর্থতার কারণে রোষানলে কোচ জোয়াকিম লো। তার পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠেছে। লো অবশ্য সেই আবেগে নিজেকে ভাসাননি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে কেবলে বলেছেন, ‘এটা একটা ঐতিহাসিক ব্যর্থতা বলতে পারেন। চলতি বিশ্বকাপে আমাদের পরিচায় এখন এটিই। আমি নিশ্চিত, এই ব্যর্থতার কারণে জার্মানিতে গণবিক্ষোভ হয়ে যাবে।’

অবশ্য লোকেও ছাপিয়ে যেতেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার উইলি কাবায়েরো, যদি তার দল দ্বিতীয় রাউন্ডে স্থান না পেত। উইলি কাবায়েরোকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনার জীবনের বাজে দিন কোনটা? চোখ বন্ধ করেই তিনি বলে দেবেন, উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিনটা অর্থাৎ ২১ জুন। একটা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তিনি। অবশ্য তার মতো ভুল পাড়ার ফুটবলেও করতে দেখা যায় না। নিজের সেই ভুলের জন্য চরম অনুশোচনায় ভুগছেন তিনি। কিন্তু সে জন্য তাকে ক্ষমা করতে চান না উগ্রবাদী সমর্থকরা। উল্টো তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি স্ত্রী ও মেয়ের সম্ভ্রমহানির হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে শিশুসুলভ ভুল করেছিলেন কাবায়েরো। তাই গোল হজম করতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ব্যাক পাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল দেন প্রতিপক্ষের পায়ে! সেই ভুল শোধরানোর সুযোগ দেননি অ্যান্টি রেবিচ। জোরালো শটে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে এগিয়ে নেন দলকে। এই একটা ম্যাচেই যেন কাবায়েরোর জীবনের সব কেড়ে নিয়েছে।

হতাশ করেছেন আর্জেন্টিনার কোচ জর্জ সাম্পাওলিও। মিশন শুরু হয় তলানির দল আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে জাগান বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কা। পরের ম্যাচে অবশ্য সেই কূল রক্ষা করেছেন মেসি ও রোহো। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ওই বাঁচা-মরার ম্যাচ ঘিরেও কোচকে নিয়ে দলের মধ্যে ভয়ানক কোন্দল দেখা দেয়। ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারের পর থেকে খেলোয়াড়রা তার কোনো নির্দেশনার তোয়াক্কাই করছেন না। একাদশ সাজানোর ক্ষমতাও নাকি কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার কাছ থেকে। সেই দায়িত্বে সিনিয়র ফুটবলাররা। সুতরাং চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায় সাম্পাওলির ভবিষ্যৎ।

জার্মান বনাম সুইডেন ম্যাচ প্রায় ড্র-ই হয়ে যাচ্ছিল। আর তাতেই এক ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত হয়ে যেত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়। তবে শেষ মুহূর্তের একটা ভুলে সব হিসাব গোলমাল হয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে ডি-বক্সের কাছে ফাউল করে বসেন সুইডিশ তারকা জিমি ডারমাজ। ফ্রি-কিক পায় জার্মানি। অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সেখান থেকে গোল করেন টনি ক্রুস। জার্মানদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের সময় দূরেই হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন জিমি। হয়তো ভাবছিলেন, ইস্ ফাউলটা যদি না করতাম! পা-টা যদি সরিয়ে নিতাম! তাকে সান্ত¦না দেওয়ার যেন কেউই নেই।

সব ক্ষোভ গিয়ে পড়ে জিমির ওপরই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে একের পর এক আক্রমণ। দেওয়া হয় জঙ্গি তকমা, তুলনা করা হয় সুইসাইড বোম্বারের সঙ্গে। পরিণতি ভয়াবহ দেখে পুলিশের দ্বারস্থ হতে হয় দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে। মুখ খোলেন জিমিও। এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল খেলছি আমি। যে কোনো সমালোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সমালোচনা এক জিনিস আর আক্রমণ আরেক। অনুপ্রবেশকারী, জঙ্গি বা সুইসাইড বোম্বার বলে যেভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। এমনকি আমার সন্তানদেরও টার্গেট করা হচ্ছে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে