স্বাগত ফুটবলপ্রেমীদের

  অনলাইন ডেস্ক

১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৮, ১২:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরব। তার ত্রিশ মিনিট আগে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া হবে। হলিউডের উইল স্মিথ, সংগীতবিদ রবি উইলিয়ামস ও সোপ্রানো এইডা গারিফুলিনা উদ্বোধনী মঞ্চে গাইবেন। এবার বিশ্বকাপের থিম সং ‘লিভ ইট আপ’ গাওয়া হবে। স্মিথের অবদান আছে এ গানে। এ ছাড়া ৫০০ নৃত্যশিল্পী, জিমন্যাস্ট ও দরাবাজিকর থাকবেন প্রোগ্রামে।

গত বিশ্বকাপে জেনিফার লোপেজ ও পিটবুল গেয়েছিলেন উদ্বোধনীতে। এবার বাড়তি আনন্দ থাকবে আশা করাই যায়। শুরুর গান বেজে গেছে। এবার রঙ্গমঞ্চে নাটকীয়তা, অঘটন, লড়াই ও ঘাত-প্রতিঘাতের অপেক্ষা। ফিফা ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়েই গেল। স্বাগত ফুটবলামোদীদের।

প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে কয়েক দিন আগে বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এ বিশ্বকাপে রাশিয়া কেমন খেলবে? জবাবে নির্বিকারভাবে বলেছিলেন, ‘আমরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। সুন্দর ফুটবল খেলার চেষ্টা করা হবে। পুরো বিশ্বকে আমরা সেটাই দেখাতে চাই।’

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সব সময় বাড়তি চাপের। বিশেষ করে আয়োজক রাষ্ট্রকে খেলতে হয়। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে আজ কুড়ি আঠারো বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক রাশিয়ার প্রতিপক্ষ এশিয়ার অন্যতম শক্তি সৌদি আরব। সামর্থ্যরে বিচারে যাওয়ার আগে বলতে হয় লুজনিকির গ্যালারিতে ৮০ হাজার সমর্থকের সমর্থন আর চিৎকার মাথায় রাখতে হবে। স্বাগতিকদের জন্য এটা বড় শক্তি। ২০১০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থকরা ভুভুজেলা নামের এক বাঁশির শব্দ প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করেছিল। সৌদি আরব এ ম্যাচে এগিয়ে। তবে স্বাগতিক সুবিধা রাশিয়ার পক্ষে যেতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সেবার ভুভুজেলার জ্বালায় মাঠের খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে ঠিকমতো যোগাযোগ রাখতে পারেনি। সৌদি আরবকে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

বিশ্বকাপের প্রথা অনুযায়ী যেখানে শুরু সেখানেই শেষ হয়। আজ লুজনিকিতে শুরু হবে বিশ্বকাপ। ১৫ জুলাই লুজনিকিতেই একুশতম বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্টের দেখা হবে। যোগ্য দলটির হাতেই উঠবে শিরোপা। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর মাত্র ৮টি দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে। এর মধ্যে ব্রাজিল ৫টি আর জার্মানি-ইতালি সমান ৪টি করে। আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের ঘরে রয়েছে ২টি করে বিশ্বকাপ। আর ১টি বিশ্বকাপ নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন। এবার কি নতুন কোনো দল চ্যাম্পিয়ন হবে না আবার পুরনো কারো হাতে উঠবে বিশ্বকাপ? অপেক্ষা শেষের আজ শুরু।

র্যাংকিংয়ে রাশিয়া ৭০ ও সৌদি আরব রয়েছে ৬৭ নম্বরে। বিশ্বকাপে বোধহয় এটাই র্যাংকিংয়ে সবচেয়ে পেছনের সারির দুটি দলের খেলা। রাশিয়া স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছে ২০০৬ সালে। গত বছর রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলেছিল। অবশ্য গ্রুপ পর্বেই তারা বিদায় নেয়। এবার স্বাগতিক হিসেবেও তারা বড় প্রত্যাশা করছে না। এটা চাপমুক্ত থাকার জন্য হতে পারে। গ্রুপ ‘এ’-তে অপর দুটি দল মিসর ও উরুগুয়ে। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়াটাই কঠিন হবে। মিসর মোহামেদ সালাহতে উড়ছে। উরুগুয়ে তো দুবারের চ্যাম্পিয়ন। বিশ্বকাপে ফেবারিটতত্ত্বের গল্প না করাই বোধহয় ভালো।

রাশিয়ার কোচ স্ট্যানিসলাভ শেরশেসভ রক্ষণাত্মক খেলতে পছন্দ করেন। রুশরা এজন্য তাকে খুব একটা পছন্দ করেন না। গতকাল তিনি বলেছেন, আমি বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় কোনো ফাঁক রাখিনি। জানি সৌদি আরব বেশ ভালো খেলে। এটা বিশ্বকাপ। অনেক কিছুই হতে পারে। আমি আশাবাদী ভালো করার ব্যাপারে।

সৌদি আরবের কোচ জুয়ান অ্যান্তোনিও পিজ্জি পোড়-খাওয়া ব্যক্তি। ২০১৬ সালে চিলিকে কোপা আমেরিকা জেতান। লড়াইটা তিনি ভালোই জানেন ও বোঝেন। তবুও পা মাটিতে রাখছেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ভালো দল। আর স্বাগতিক হিসেবে বাড়তি সুবিধা তারা পাবে। আমরা ভালো খেলায় আছি।’

ইনজুরি অবশ্য ভোগাচ্ছে রাশিয়াকে। অ্যালেকজান্ডার কোকোরিন, ভিক্টর ও জর্জি ভালো ইনজুরিতে পড়েছে। কোকোরিন ও ভিক্টর হয়তো মাঠে নামতে পারবেন না। রাশিয়া সৌদির ম্যাচে চার ডিফেন্ডার নিয়ে খেলতে পারে।

রাশিয়া ও সৌদি আরবের খেলোয়াড়দের বয়সের গড় ২৯। বেশ অভিজ্ঞ দল বলা চলে। বিশ্বকাপে এমনটা খুব একটা দেখা যায় না। এর মধ্যে অনেকে শতম্যাচও খেলেছেন।

রাশিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ইগোর আকিনফিভ; যিনি ১০৫টি ম্যাচ খেলেছেন। গোলবার আগলে দাঁড়ালে লেভ ইয়াসিনের কথা মনে পড়বে। সৌদির ওসামা হাওসামি ১৩৫ ও তাইসার আল জেসিম ১৩২টি ম্যাচ খেলেছেন। দুটি দলেই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছেন। তাই উদ্বোধনী ম্যাচে র্যাংকিংয়ের নিচের দল খেলছে বলে প্রাণহীন হবে এমনটা ভাবার কারণ নেই।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে