'সাইবার নিরাপত্তায় দরকার সর্বজনীন সচেতনতা'

  উজ্জ্বল এ গমেজ

১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৮:২৫ | আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৮:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে সাইবার নিরাপত্তায় দরকার সর্বজনীন সচেতনতা। শুধু একটি সফটওয়্যার দিয়ে দিলেই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একান্ত আলাপে এসব কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক আইটি প্রতিষ্ঠান ‘হোস্টন’-এর সিনিয়র আইটি এক্সিকিউটিভ আজাদুল হক।
পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক ১৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি কোম্পানিতে সিনিয়র আইটি এক্সিকিউটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি হোস্টনে নাসা জনসন স্পেস সেন্টারেও কাজ করেছেন। এ ছাড়া ফোবানার এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। সম্প্রতি রাজধানীর জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সাইবার নিরাপত্তার বর্তমান অবস্থা, কেন  সাইবার আক্রমণ হচ্ছে, এ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়সহ সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে আজাদুল হক কথা বলেন দৈনিক আমাদের সময়ের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন উজ্জ্বল এ গমেজ

দেশের সাইবার নিরাপত্তা অবস্থাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আজাদুল হক : দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে এখন সরকার, ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সাইবার নিরাপত্তার শেষ নেই। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক সেক্টর অনেক সিকিউরড, পাবলিক সেক্টর কম সিকিউরড। এসব জায়গায় আরও অনেক কিছু করা যেতে পারে।

বাংলাদেশকে হ্যাকাররা টার্গেট করে কেন?
আজাদুল হক : আমাদের দেশের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। কয়েক বছর আগেও হ্যাকাররা হ্যাকিংয়ের জন্য বাংলাদেশকে টার্গেট করত না। কিন্তু এখন করছে। কারণ আমাদের দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশ সম্ভাবনাময় দেশগুলোর অন্যতম। আমাদের রেমিট্যান্স আয় অনেক গতিশীল। আমাদের রিজার্ভ অনেক ভালো অবস্থানে আছে। আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটা অনলাইন ট্রানজেকশন, লেনদেন, কেনাকাটা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের হ্যাকিং ভ্যালু বেশি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা বেশ অরক্ষিত। তাই এখন বাংলাদেশকে হ্যাকাররা টার্গেট করছে।

বিশ্বব্যাপী সাইবার ঝুঁকির অবস্থা সম্পর্কে বলুন-
আজাদুল হক : সম্প্রতি উবার, ইয়াহুসহ বড় জায়ান্টরা হ্যাকিংয়ের কবলে পড়ছে। তাই সবাই সাইবার নিরাপত্তায় লাখ লাখ ডলার ব্যয় করছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সার্বিক মূল্যায়নে বলব যেখানে বিশ্বের টেক জায়ান্টগুলো হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে, সেখানে যে কোনো দেশই সাইবার ঝুঁকিমুক্ত নয়।

বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষায় সমস্যাগুলো কী?
আজাদুল হক :
প্রধান সমস্যা সচেতনতা ও মানসিকতায়। কেননা সাইবার সিকিউরিটি কোনো সাধারণ আইটি প্রবলেম না। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষব্যক্তিরা মনে করেন আইটির যারা আছেন, বিষয়টি তারা দেখবেন। কারণ সাইবার সিকিউরিটি তার প্রবলেম না। কিন্তু তাকে চিন্তা করতে হবে সাইবার সিকিউরিটিটা আমার প্রবলেম। এটা বোঝানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে একজন লোককে ভাড়া করে সার্বিক সুরক্ষা সম্ভব না। তাই বলছি সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে, মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তার উপায় বলুন-
আজাদুল হক :
সচেতনতা। ব্যক্তি সচেতন না হলে তার ব্যবহৃত ডিভাইসের নিরাপত্তা বাইরের কেউ চাইলেও সঙ্গে সঙ্গে দিতে পারবে না। এ জন্য প্রয়োজন ব্যক্তি বা ব্যবহারকারীর সচেতনতা। ব্যক্তিপর্যায় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক এবং সরকারি পর্যায়ে গুরুত্বসহকারে কাজ করার উদ্যোগ নিতে হবে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি প্রচার থাকা দরকার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সচেতন হয়ে উঠতে পারবেন। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারলে সব প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে