• অারও

মোবাইল টাওয়ার পরিচালনায় আসছে নতুন ৪ কোম্পানি

  শাহিদ বাপ্পি

০৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ০১:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

দেশের সবগুলো মুঠোফোন কোম্পানির মালিকানাধীন ৩০ হাজারেরও বেশি টাওয়ার পরিচালনায় ৪টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়ার অনুমোদিত নীতিমালাটি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

গত ৪ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত নীতিমালা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়ে সেটি বিটিআরসির কাছে পাঠিয়ে দেয়। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিটিআরসি অনুমোদিত নীতিমালাটি প্রকাশ করেছে তিন মাস পর। নীতিমালার কিছু ক্লজে সংশোধন আনার বিষয়ে আলোচনা করার কারণে বিলম্ব হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

অনুমোদিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশি ৩০ শতাংশ ও বিদেশি ৭০ শতাংশ যৌথ বিনিয়োগে নতুন টাওয়ার পরিচালনা করতে পারবে কোম্পানিগুলো। পরে বিটিআরসি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কথা বলে শতভাগ বিদেশি মালিকানায় নেওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু কমিশন খাত সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। ফলে আগের অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এসব কারণে তিন মাস বিলম্ব হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন নীতিমালার আলোকে বিটিআরসি টাওয়ার পরিচালনায় যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। দরপত্র আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৩ মে। মূল্যায়ন কমিটি তিন সপ্তাহের মধ্যে যোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করবে। জুনের মধ্যে লাইসেন্সের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। দরদাতার মধ্যে থেকে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হবে।

জানা গেছে, টাওয়ার পরিচালনায় যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ‘বিউটি কনটেস্ট’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন কমিটি নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য নির্বাচিত করবে। এতে অংশ নেওয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও আর্থিক সামর্থ্যরে বিষয়গুলো নির্দিষ্ট মানদ-ের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করা হবে। বর্তমানে টাওয়ার পরিচালনাকারী ইডকো বিটিআরসি কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। পরে অন্য তিনটি কোম্পানির মতো তাদের লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, টাওয়ার পরিচালনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এতে দেশে ৪টি কোম্পানি মিলে সুশৃঙ্খলভাবে টাওয়ার পরিচালনা করতে পারবে। তিনি বলেন, দেশে টাওয়ারের সংখ্যা কমানো, জমি ও বিদ্যুতের অপচয় ঠেকাতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, যে ৪টি প্রতিষ্ঠান টাওয়ার পরিচালনার লাইসেন্স পাবে, সেগুলোয় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা থাকতে পারবে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশ মালিকানা দেশি কোম্পানির হাতে থাকবে। অর্থাৎ এসব কোম্পানিতে দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ থাকবে।

নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা, আবেদন ফি ৫ লাখ টাকা। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্বিতীয় বছর থেকে গ্রস রেভিনিউ শেয়ারিং করতে হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। এ ছাড়া দ্বিতীয় বছর থেকে বিটিআরসির সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে (এসওএফ) আয়ের এক শতাংশ জমা করতে হবে। আর পারফরম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে ২০ কোটি টাকা। অফার সিকিউরিটি মানি জমা দিতে হবে এক কোটি টাকা। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, মোবাইল অপারেটর ও ওয়াইম্যাক্স অপারেটররা সরাসরি টাওয়ার পরিচালনায় লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না। তবে কোনো আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের উল্লিখিত অপারেটরের শেয়ার থাকলে এবং ওই আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান যদি লাইসেন্সের জন্য বিবেচিত হয়, তা হলে লাইসেন্স গ্রহণের আগেই বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের ওই শেয়ার ত্যাগ করে টাওয়ার পরিচালনায় লাইসেন্স গ্রহণ করতে পারবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে