ফারজানার খুনি চাচাতো ভাই কিশোর শরিফুল

  জাহাঙ্গীর হোসেন ঝানু, কেরানীগঞ্জ

১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০১:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের সিরাজনগর এলাকায় শিশু ফারজানা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যা করেছে তার চাচাতো ভাই কিশোর মাদ্রাসাছাত্র শরিফুল (১৫)। সম্প্রতি ঢাকার একটি আদালতে এ ব্যাপারে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সে। গতকাল আমাদের সময়কে এ তথ্য জানান ফারজানা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয় ফারজানা। পরদিন চাচা রহমত আলীর বাড়ির পেছন থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার লাশ। শরিফুল বর্তমানে গাজীপুর জেলার শিশু ও কিশোর সংশোধনাগারে আটক আছে। ফারজানার পরিবার ও এলাকাবাসী এ জঘন্য অপরাধীর ফাঁসি দাবি করেছে।
শরিফুলের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন আসরের নামাজের পর বাড়ির আশপাশে কেউ ছিল না। নিরিবিলি থাকায় সে ফারজানাকে ডাকে। কাছে এলে তার মুখ চেপে ধরে এবং পাশের কক্ষে নিয়ে যায়। ওই কক্ষে স্কচটেপ দিয়ে সে ফারজানার মুখ বাঁধতে চেয়েছিল, কিন্তু অসাবধানতায় সে নাক-মুখ বেঁধে ফেলে। তখনও ফারজানা নড়াচড়া করছিল। এর মধ্যে রশি আনতে বাইরে যায় শরিফুল। রশি নিয়ে ফিরে এসে দেখে ফারজানা নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেছে। কাছে গিয়ে বুঝতে পারে শিশুটি মারা গেছে। পরে লাশ খাটের একপাশে রেখে দরজা বন্ধ করে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় হাঁটতে থাকে শরিফুল। তখন মাগরিবের আজান হচ্ছিল। ফারজানাকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মাইকিংও হচ্ছিল। মাইকিং শুনে শরিফুল ভয় পেয়ে যায়। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরে এসে লোকজনের সঙ্গে ফারজানাকে খোঁজার ভান করে। পরে বাসায় ফিরে তার কক্ষের দরজা খুলে পেপার দিয়ে ফারজানার লাশ ঢেকে রেখে বাইরে যায়। তবে খোলা রাখে কক্ষের গ্রিলবিহীন জানালা। ওই জানালা দিয়েই লাশ বের করে পাশের জঙ্গলে রেখে আসে।
মামলা তদন্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা জানান, ফারজানা খুনের ঘটনায় পাঁচজন গ্রেপ্তার হলেও তারা এ ঘটনা অস্বীকার করেছিলেন। ফারজানার লাশ যেখানে পাওয়া গিয়েছিল, সেখানটা টানা তিন দিন তিনি পরিদর্শন করেন। মুক্তিপণের জন্য পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিল অপহরণকারীরাÑ ফারজানার বাবা কবিরের কাছ থেকে তিনি এ তথ্য সংগ্রহ করেন। যে মুঠোফোনে অপহরণকারীরা বিমানবন্দরের কথা বলে ফোন দিয়েছিল, সেটির কললিস্টে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে ফোন করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত হন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, কিশোর শরিফুল ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর সন্দেহ হচ্ছিল শরিফুলকে। তাকে শুরু থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়। তার বন্ধুবান্ধব কারা, সে ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হয়। শরিফুল মাদ্রাসাছাত্র, অত্যন্ত মেধাবী ও চালাক। সুন্দর করে মিথ্যা বলতে পারে, যা সত্যের প্রতিচ্ছবি। ৭ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর সে ফারজানাকে ধর্ষণ ও খুনের করার কথা বারবার অস্বীকার করে আসছিল। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, ফারজানাকে মেরে ফেলতে চায়নি, অসাবধানতায় মারা গেছে সে। মুঠোফোনে অন্য সিম ভরে কবিরের কাছে মুক্তিপণ চেয়েছিল সে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে