রাখাইনে হত্যার পর লাশ পোড়াচ্ছে মিয়ানমার বাহিনী

  সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার

১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০১:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক চাপে কিছুদিন প্রকাশ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ থাকলেও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনী আবারও বর্বরতা শুরু করেছে। তারা রোহিঙ্গাদের ধরে নিয়ে হত্যা করছে। আর লাশ স্তূপ করে আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে। বর্বরতার মুখে গতকাল শুক্রবার রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা একথা জানিয়েছেন।  
অনুপ্রবেশকরা রোহিঙ্গা নারী রোকসানা বেগম ও রহিম উদ্দিন জানান, তারা রাখাইনে রাতে ঘুমাতে পারেন না, খেতে পারেন না; মিয়ানমারের সেনারা রাস্তার পাশে বোমা পুঁতে রাখছে। আবারও তারা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং কেটে হত্যা করছে; বাড়িতেও আগুন দিচ্ছে। অনেককে হত্যার পর লাশ স্তূপ করে তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। তাই কোনো রকমে তারা প্রাণটা নিয়ে এ দেশে এসে স্বস্তি পেয়েছেন।
বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) থেকে আবারও নতুন করে রাখাইনে শুরু হয়েছে সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন। তারা অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে। এপার থেকে আগুনের কু-লী দেখা যাচ্ছে, গুলির শব্দও শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সীমান্তের অধিবাসীরা। এতে করে প্রাণ বাঁচাতে প্রতিদিন দলে দলে আসছে রোহিঙ্গারা। আবারও বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সীমান্ত সংসিøষ্টরা। সদ্য অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। গত এক সপ্তাহে ভেলায় ভেসেই এসেছে দেড় হাজারের বেশি। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা।
অনুপ্রবেশকারীদের ভাষ্যমতে, রাখাইনের মংডু শহরের পেরাংপুরু, ঢেকিবুনিয়া, চাকমাকাটা ও রাইম্মাখালী এলাকায় নতুন করে বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। উখিয়ার আনজুমানপাড়ার বাসিন্দা মোক্তার আহমদ জানান, সীমান্তের শূন্য রেখায় তিনি অনেক রোহিঙ্গাকে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় থাকতে দেখেছেন।
ঘুমধুমের বাসিন্দা মাস্টার জহিরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকালে আর দুপুরে তারা মিয়ানমার থেকে গুলির শব্দ শুনেছেন। একই সময়ে ওপারে আগুনের কু-লী দেখা গেছে বলে জানান ঘুমধুমের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও ফরিদুল আলম। স্থলভাগের পাশাপাশি সাগরপথেও রোহিঙ্গারা আসছে। এক সপ্তাহে ভেলায় করে দেড় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আসার তথ্য জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদ হোসেন ছিদ্দিক।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৭টি ক্যাম্পে বর্তমানে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এসব রোহিঙ্গার মাঝে ২৩টি পয়েন্টে চলছে নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ। শীতবস্ত্র বিতরণের প্রতিও বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে জানিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, ত্রাণ কার্যক্রমে এখন পুরোপুরি শৃঙ্খলা ফিরেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে