বিদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যু

এমন মৃত্যু রোধ করতে হবে

  অনলাইন ডেস্ক

৩০ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৮, ০৭:৩৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশ থেকে মাঝে মাঝেই এমন কিছু দুঃসংবাদ আসে যা কেবল স্বজন নয়, সারা দেশবাসীকেই উদ্বিগ্ন ও দুঃখিত করে। গতকালের আমাদের সময়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া মাত্র ২৬ বছরের তরুণ হাসান রহমান বাঁধনের মর্মান্তিক হত্যাকা-ের খবর। ইদানীং এ ধরনের খবর প্রায়ই আসছে। আসছে বিভিন্ন দেশ থেকে। কারণ আজ বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষত তরুণরা বিশ্বের নানা দেশে শিক্ষা ও জীবিকার জন্য ছড়িয়ে পড়ছে। এমনিতেই প্রবাসী শ্রমজীবীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং মালয়েশিয়া থেকেই বেশি স্বাভাবিক মৃত্যুর খবর আসে, আসে মৃতদেহ। এসব মৃত্যু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় স্বাভাবিক হলেও সমাজবিজ্ঞানের বিশ্লেষণে এসব মৃত্যুর পেছনে নিঃসঙ্গতা, হতাশা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, অপুষ্টি, নানা উদ্বেগের ভূমিকাই প্রধান বলে জানা যায়। এসব কারণ স্বাভাবিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে একজনের জীবনে হানা দেওয়ার কথা নয়। ফলে এক অর্থে এসবও অস্বাভাবিক মৃত্যু।

বাঁধন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ রকম অপঘাতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা আরও ঘটেছে। কিছুদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহর থেকে তরুণ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এমন হত্যাকা-ের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কিছুদিন আগে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচারকারীদের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ইদানীং বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া নারী শ্রমজীবীরা দেশ নির্বিশেষে প্রায় একচেটিয়াভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

আমাদের একটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রমিক কল্যাণ মন্ত্রণালয় আছে। বিভিন্ন দূতাবাসে আছেন শ্রম অ্যাটাচি। কিন্তু প্রবাসীদের ভোগান্তির শেষ নেই, বরং তা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এ নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সন্তোষজনক পদক্ষেপ পাওয়া যায় না।

অনেক সময় বাংলাদেশিরা নিজেদের মধ্যেও দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং এর ফলেও অনেক খুনাখুনির ঘটনা ঘটেছে। আমরা জানি না, তরুণ বাঁধনের হত্যার জন্য কে বা কারা দায়ী; কিন্তু এমন মৃত্যু একেবারেই কাম্য নয়। আমাদের মনে হয় এ ধরনের যে কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে সরকারের উচিত কারণ জানার চেষ্টা করা এবং দোষীদের শাস্তির জন্য আইনি ব্যবস্থার খোঁজখবর রাখা। বিদেশগামী তরুণ ও শ্রমজীবীদের সংশ্লিষ্ট দেশের সংস্কৃতি, আচরণ-আচারসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে ওয়াকিবহাল করা দরকার এবং প্রয়োজনে বিদেশি ভাষা ও কৃষ্টির বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা যায়। এসব ব্যবস্থা নিলে কিছুটা উপকার হবে বলে মনে হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে