রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে রাখাইন এখনো নিরাপদ নয় : ইউএনএইচসিআর

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ডেপুটি কমিশনার কেলি ক্লেমেন্টস বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে পরিস্থিতি এখনো নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসা অব্যাহত রেখেছে। গত এক সপ্তাহেই নতুন এসেছে ১৫০০ জন। এ ছাড়া যেসব সংস্থা অর্থ প্রদানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ সফর শেষে গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্লেমেন্টস এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র রিজিওনাল পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার মোহাম্মদ আবু আসকর।

ডেপুটি হাইকমিশনার কেলি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা সহিংসতা, ধর্ষণ এবং বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের বেশিরভাগেরই বাড়ি-ঘর ও গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফিরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো বাস্তুচ্যুত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান তিনি।
কেলি ক্লেমেন্টস বলেন, রাখাইনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ নিরসনে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় মানবিক সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আগে এসব বিষয় সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নেপিডোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের আলোচনায় ইউএনএইচসিআরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে এমওইউতে ইউএনএইচসিআরের সম্ভাব্য ভূমিকার উল্লেখ থাকাটা ইতিবাচক। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে শরণার্থীদের তথ্যসমৃদ্ধ (ইনফর্মড) ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পর্যায়ক্রমে তাদের নিজ দেশে সুরক্ষিত পরিবেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সার্বিক নির্ভরযোগ্যতা পর্যবেক্ষণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের সরকার এসব বিষয়, বিশেষ করে ইউএনএইচসিআরের ভূমিকা, কাজের পরিধি, প্রত্যাবাসনের সময়সীমা এবং যেসব শর্ত পূরণ করে একজন শরণার্থী প্রত্যাবাসনের যোগ্য বিবেচিত হবে, তার বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে