পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র পেল বাংলাদেশ

  আরিফুজ্জামান মামুন

১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র ও স্থল সীমানাসংক্রান্ত প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। ফলে জল ও স্থলে বাংলাদেশ একটি পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র পেল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাম্প্রতিক মিয়ানমার সফরে এ চুক্তি সই হয়। মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির ইউনিয়নমন্ত্রী কিয়াও সউইঅলসো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১২ সালে মিয়ানমার ও ২০১৫ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। এতে সমুদ্রে বাংলাদেশের সার্বভৌম্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ২০১৫ সালে ভারতের লোকসভায় পাস হয় বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল। এর মধ্য দিয়ে ৬৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্থল সীমান্ত বিশ্বে প্রথমবারের মতো শান্তিপূর্ণ উপায়ে চিহ্নিত হয়। আর এবার বাংলাদেশের আরেক সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তিসংক্রান্ত সম্পূরক সীমান্ত প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে।
জানা গেছে, আসেম সম্মেলনে যোগ দিতে গত ১৯ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে করেন তিনি। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির পাশাপাশি নাফ নদের স্থায়ী সীমান্ত নির্ধারণে সম্পূরক সীমান্ত প্রটোকলও সই করেন। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের কার্যালয়ের পক্ষে দেশটির ইউনিয়নমন্ত্রী কিয়াও সউইঅলসো দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ১৯৬৬ সালের ২৮ এপ্রিল পাকিস্তান এবং মিয়ানমারের মধ্যে প্রথম স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে প্রকোটল স্বাক্ষরের সব কিছু চূড়ান্ত করে ২০০৭ সালে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবার মিয়ানমার সফরে প্রকোটল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সীমান্ত চুক্তির দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো। ফলে বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত হলো। আর ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সেখানেও বাংলাদেশের সীমানা চিহ্নিত। কোনো ধরনের রক্তপাত ছাড়াই দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সীমান্ত নির্ধারণ সম্পন্ন করল বাংলাদেশ।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে বাংলাদেশের কোনো বিরোধ নেই। ফলে দ্রুত সম্পূরক সীমানা প্রটোকল স্বাক্ষর করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে অষ্টম পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে (এফওসি) পররাষ্ট্র সচিব পদমর্যাদার মিয়ানমারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ থান্ট কিয়াওয়র বাংলাদেশ সফরে এসে সিলেট জেলার দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময়ে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমান্ত এলাকাও পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলটি সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানের বিষয়গুলো দেখেন।
সূত্র আরও জানায়, রোহিঙ্গার বাইরে দুই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ-মিয়ানমার স্থল সীমান্ত চুক্তিটি। ১৯৬৬ সালে প্রথম পাকিস্তান ও বার্মার মধ্যে সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি সই হয়। এ সময়ে নাফ নদকে সীমান্ত হিসেবে চিহ্নিত করে দুই দেশ। এর পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৮০ সালে প্রথম বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি সই হয়। ১৯৯৮ সালে নাফ নদ কেন্দ্র করে সীমানা নির্ধারণের জন্য আবারও এটি অনুসমর্থন করা হয়। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ দুই দেশের সম্মত সম্পূরক সীমান্ত প্রটোকল সই করতে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মিয়ানমারকে চিঠি পাঠায়। সেই চিঠির উত্তর ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল পাঠায় দেশটি। সেই চিঠিতে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে এ প্রটোকলটি স্বাক্ষর করতে রাজি বলে জানায়। এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে সেটি স্বাক্ষর হলো।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে