দলীয় কার্যালয়ে তোপের মুখে ওবায়দুল কাদের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

পর পর দুদিন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে ফেসবুকে ফাঁস হওয়া আওয়ামী লীগের সব উপকমিটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল রবিবার রাতে ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় পদবঞ্চিত শতাধিক সাবেক ছাত্রনেতা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এমএ সবুর ও উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া উপস্থিত ছিলেন। একাধিক সূত্র খবরটি নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলো জানায়, কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন সম্পাদকম-লীর উপকমিটির নেতাদের তালিকা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার রেশ ধরে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা গত শনিবারের মতো গতকালও বিকাল থেকে আওয়ামী লীগের ধানম-ি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি গাড়ি থেকে নামলে পদবঞ্চিতরা ওবায়দুল কাদেরকে ঘিরে তাদের ক্ষোভের কথা বলতে শুরু করেন। এ সময় আবু আব্বাস নামে ১/১১-এর সময় কারানির্যাতিত ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতা কথা বলা শুরু করলে কাদের বলেন, আব্বাস আমি তো গতকালকেই সব বলেছি। আবার কেন? এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবু আব্বাস বলেন, স্যার আমরা কি রাজনীতি করিনি? আমাদের তো কমিটিতে নাম নেই। আমরা তো আপনার কাছে বলতেই এসেছি। উপকমিটি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করার জন্য আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এর জবাবে কাদের বলেন, কই আমাকে তো বলোনি। আমি তোমার সব দায়িত্ব নিলাম। এ কথা বলে তিনি ধানম-ি কার্যালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে আবার ফিরে এসে আব্বাসসহ অন্যদের উদ্দেশ্যে কিছু বলেন। এ সময় কার্যালয়ের গেটের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এর পর ওবায়দুল কাদের কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বসে পদবঞ্চিত নেতাদের অভিমান, অভিযোগ ও ক্ষোভের কথা শোনেন। বিক্ষুব্ধ সবার কথা শুনে ওবায়দুল কাদের উপকমিটির সব কমিটি অবৈধ বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এগুলো কোনো কমিটি না। এগুলো খসড়া করা হচ্ছিল। এখন নতুন করে যাচাই-বাছাই করে কমিটি ঘোষণা করা হবে। একটি কমিটিতেও আমার স্বাক্ষর নেই। তোমরা বোঝ না এগুলো সব অবৈধ। তিনি এ সময় সবার কাছে তিন মাসের সময় চেয়ে নিয়ে বলেন, তিন মাসের মধ্যে সব কমিটি পর্যালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশক্রমে আমার স্বাক্ষরসহ কমিটি ঘোষণা করা হবে। ঘটনাস্থলে আমাদের সময়ের এ প্রতিবেদকসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী পদবঞ্চিতদের জটলার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই যে তোমরা আমার কাছে তোমাদের অভিযোগের বিষয়ে আবেদন জানালে আর মিডিয়াগুলো লিখল কী? তোমরা আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছ। তোমরা আমার আশ^াস শুনে বিজয় মিছিল করলে আর মিডিয়াগুলো লিখলÑ বিক্ষোভ মিছিল করলে। এভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ের সামনে সিনক্রিয়েট করা কী ঠিক? আমি এসব বেয়াদবি সহ্য করব না।

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে