মূলধারায় যুক্ত করা হচ্ছে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের

তাদের নিয়েই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে

প্রকাশ | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০০

অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষার অধিকার মৌলিক মানবাধিকার। যে শিশুটি এই মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত, সে সুস্থ আর স্বাভাবিকভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রে গড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। যার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে তার অবস্থান হয় সবচেয়ে দুর্বল। এই দুর্বলতার দায়ভার আজন্ম শুধু তাকে নয়, বয়ে বেড়াতে হয় সমাজ ও রাষ্ট্রকেও। একজন প্রতিবন্ধী শিশুর ক্ষেত্রে এই ‘অবস্থান’ একজন সুস্থ-স্বাভাবিক শিশুর চেয়ে কতটুকু বৈষম্য, পীড়ন আর দুর্বিষহ হতে পারে, তা কেবল ভুক্তভোগীই ভালো জানেন। এই দায়ভার থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হতে পারে তাকে শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা। সেই লক্ষ্যে সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কিছু কাজ ইতোমধ্যে করেছে। আরও একটি আশার খবর হলো, শিগগির দেশে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য একটি ইশারা ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও ইশারা ভাষাবিষয়ক কর্মকা- চালুর চিন্তা করছে সরকার।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, স্কুলগুলোতে বিদ্যমান সম্পদ, অবকাঠামো, শিক্ষক ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শিক্ষাব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন সম্ভব। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন প্রধানত নীতিনির্ধারক ও শিক্ষক পর্যায় থেকে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ। তা ছাড়া শ্রেণিকক্ষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া এবং সহপাঠীরা যাতে তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করে, সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করা, ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া।

বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ মূলত বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগ, দুর্ঘটনা এবং যুদ্ধ। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা তথা সার্বিক সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রতিবন্ধীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আমাদেরই সন্তান। তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্যকে সম্পৃক্ত করতে পারলে আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় তারাও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। তাদের নিয়েই আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।