১৬ হাজার কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ

  গোলাম রাব্বানী

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণ বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারণে সরকারি খাতের আটটি ব্যাংকে ১৬ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো যেমন মেরুদ- সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কর্মকা-। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল ও বিশ্বব্যাংক থেকেও মূলধন ঘাটতি মেটাতে বলা হচ্ছে। এসব কারণে সরকারও ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যেই ব্যাংকগুলো থেকে প্রস্তাবনা সংগ্রহ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এসব বিষয় নিয়ে আজ বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণসহ তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থ থেকে তাদের নতুন করে আরও মূলধনের জোগান দেওয়া হবে। এ ছাড়া কয়েকটি ব্যাংক বন্ড ছেড়ে মূলধন ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। এগুলো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে।
এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে সোনালী ব্যাংকের তিন হাজার ১৪০ কোটি টাকা। গত চার বছরে ব্যাংকটিকে মূলধন হিসাবে সরকার তিন হাজার পাঁচ কোটি টাকা জোগান দিয়েছে। সর্বশেষ গত অর্থবছরে দেওয়া হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এর পরও ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে তাদের ঘাটতি বেড়েই চলেছে।
বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি দুই হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। গত তিন বছরে সরকার ব্যাংকটিকে মূলধন হিসাবে তিন হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এখন তারা বন্ড ছেড়ে মূলধন ঘাটতি মেটাতে চাচ্ছে।
জনতা ব্যাংক গত তিন বছরে নিয়েছে ৮১৪ কোটি টাকা। এর পরও ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংক তিন বছরে নিয়েছে ৩১০ কোটি টাকা। এর পরও এদের মূলধন ঘাটতি ৬৯০ কোটি টাকা। সরকার মালিকানাধীন বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি সাত হাজার ৫৪০ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ঘাটতি ৭৪২ কোটি টাকা। এ দুই ব্যাংকের জন্য সরকার জোগান দিয়েছে হাজার কোটি টাকা। অনিয়মের পাশাপাশি এ দুই ব্যাংকে কম সুদে ঋণ বিতরণ ও ঋণের সুদ মওকুফ করার কারণে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এসব অর্থ সরকার থেকে দেওয়া হচ্ছে না।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে