খালেদা জিয়ার সাজা

কূটনৈতিক চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০৫ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:৩২ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে যে কোনো বিদেশি চাপ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও বিদেশি সংস্থাগুলোতে খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের সারসংক্ষেপ ও ব্যাখ্যা পাঠাতে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অবহিত করতে বলা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

দলীয় চেয়ারপারসনের সাজা নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক ব্রিফ করেছে বিএনপি। এ ছাড়া রায়ের বিরুদ্ধে বিদেশি সমর্থন পেতে বিভিন্ন ফোরামে যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। গতকালও দলটির পক্ষ থেকে বিদেশিদের এ বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে। দলীয় প্রধানের সাজা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দেওয়া হয়েছে বলেও সেখানে দাবি করে বিএনপি। এ ছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে কূটনীতিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সৌদি আরব, জাপান, জার্মানি, তুরস্ক, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আর বিএনপির পক্ষ থেকে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা।

তবে এসব মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সরকারও। যে কোনো চাপ সামাল দিতে ঢাকায় খ--খ- ব্রিফিং করার চিন্তা চলছে বলেও সরকারের কূটনৈতিক উইং সূত্রে জানা গেছে। সেই সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতার কারাবাসের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ধরে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সমন্বিত পদেক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছে, খালেদা জিয়ার কারবাস দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির তৎপরতা জোরদার হলে বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন। এ নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ বা প্রতিক্রিয়াও আসতে পারে। সম্ভাব্য এ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় ইতোমধ্যে রায়ের সারসংক্ষেপ ও ব্যাখ্যা বিদেশে বাংলাদেশের সব মিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সেটি অবহিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশে অবস্থানরত কূটনীতিকরা কোনো বিষয়ে জানতে আগ্রহী হলে, উদ্বেগ বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে যাতে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সে জন্য মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীকে এতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের আসন্ন ভারত সফরেও এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত ওই সফরে বেগম জিয়ার কারাবাস ছাড়াও চলমান রাজনীতি, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বর্তমান আমলেই তিস্তা চুক্তি সইয়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে জানা গেছে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে