রাখাইনে গণহত্যা

জাতিসংঘসহ চাপ তৈরি করতে হবে

  সম্পাদকীয়

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৫৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের মিয়ানমারসংক্রান্ত বিশেষ দূত ইয়াংহি লি মনে করেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের খবর সে দেশের কার্যকর সরকারপ্রধান নোবেলজয়ী অং সান সু চি জানতেন। কিন্তু এটা বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে তিনি সামরিক বাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। এ কারণে সু চির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলা সঙ্গত বলেই তিনি মনে করেন। এ অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলার বিষয়টি বাংলাদেশও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে পারে। কেননা তার ভাবমূর্তির সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তিও যুক্ত।

এদিকে ঢাকায় যখন মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বৈঠক করছিলেন তখনো সীমান্তে অন্তত ৬০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গাদের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, মিয়ানমার সীমান্তে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সে দেশের সামরিক বাহিনী প্রচুর বাংকার তৈরি করে তাতে অবস্থান নিচ্ছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা সতর্ক প্রহরায় রয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তা ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

লক্ষ করা যাচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্বের পূর্ণ সমর্থন বাংলাদেশের দিকে থাকলেও প্রতিবেশী ভারত ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র চীন এবং বৃহৎ শক্তি রাশিয়ার সমর্থন পাচ্ছে মিয়ানমার। অতিসম্প্রতি থাইল্যান্ড মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে সর্বোচ্চ মিলিটারি খেতাব দিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক বিবেচনায় বেশ কিছু দেশ এত অমানবিক ভূমিকা সত্ত্বেও মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘসহ পশ্চিমের জোরালো সমর্থন কাজে লাগানোর বিকল্প নেই।

আমরা বুঝতে পারছি রোহিঙ্গা সমস্যা ক্রমে জটিল আকার ধারণ করছে। ওদের প্রত্যাবাসনের কাজটা দীর্ঘায়িত হবে বলেই মনে হচ্ছে। অথচ সামনেই বর্ষা আসছে, এ অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হলে পাহাড়ধস, পানি দূষণ এবং রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব ঘটবে। এতে জীবনহানি ঘটবে, তার মধ্যে শিশুমৃত্যু মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। বর্ষাকালে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এ পর্যন্ত বিদেশি সাহায্য মোটামুটি চাহিদা অনুযায়ী এসেছে। কিন্তু তা কতকাল চলবে সে নিশ্চয়তা কে দেবে।

আমাদের মনে হয়, দ্বিপক্ষীয় পদ্ধতিতে মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে খুব বেশি অগ্রসর হওয়া যাবে না, ইতোমধ্যে তারা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। কিন্তু এ নিয়ে তাদের কোনো ভাবান্তর নেই। বরং একদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা চালাচ্ছে, অন্যদিকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ অব্যাহত রেখেছে। ফলে আলোচনার সময়ও প্রত্যাবাসনের পরিবর্তে শরণার্থীর আগমন ঘটছে। বাংলাদেশের উচিত হবে, জাতিসংঘ ও অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের ওপর মানবতার বিরুদ্ধে সব অত্যাচার ও অপরাধ বন্ধ করে দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তাসহ প্রত্যাবাসনের জন্য চাপ অব্যাহত রাখা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে