গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা দেবে কে

  মোহাম্মদ অংকন

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবার হোক আর নিজের প্রয়োজনেই হোক পুরুষের মতো নারীদেরও দিনদুপুরে কিংবা রাতবিরাতে পথ চলতে হয়। যাত্রী হয়ে গণপরিবহনে পা রাখতেই হয়। সব সময় তো পুরুষের ওপর নির্ভরশীল হওয়া যায় না। আত্মনির্ভরশীলতা নিয়ে গণপরিবহনে নারীযাত্রীদের অনেক সময় রাতে পথ চলতে হয়। দিনে যতটা নয়, রাতে তার চেয়ে বেশি নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়ে যায়। বাংলাদেশে নারীযাত্রীদের চরম যৌন হয়রানি ও ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে রাতে চলাচলের ক্ষেত্রে গণপরিবহনসংশ্লিষ্ট লোকজন কিংবা পুরুষ যাত্রীদের দ্বারা শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। আমাদের দেশে একদিকে যেমন নিরাপত্তা নিয়ে আস্থাহীনতা রয়েছে, তেমনি অন্যদিকে রয়েছে সামাজিক সচেতনতার অভাব। এ রকম নানা কারণেই দিন দিন গণপরিবহনে নারী যাত্রীদের নির্যাতন ও নিগ্রহের ঘটনা বাড়ছে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গণপরিবহনে নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতিত হওয়ার অনেক ঘটনাই সামনে এসেছে। গণপরিবহনে নারীদের ওপর এমন যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন রোধে এবং নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নারীদের প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। আজকাল শুধু রাজধানী কিংবা জেলা শহরের গণপরিবহনে নয়, দূরপাল্লার গণপরিবহনগুলোয় রাতের বেলায় যেসব নারীযাত্রী ভ্রমণ করেন তাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা নেই। গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ সব সময় বলে আসে, তাদের পরিবহনে নারীযাত্রীরা যথেষ্ট নিরাপদ। পরিবহনে যদি একলা মহিলা যাত্রী থাকে, তা হলে তার পাশের সিটে একজন মহিলা যাত্রী দেওয়ার চেষ্টা করা হয় ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। দেশবাসী সবাই জানেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দেশজুড়ে আলোচিত কলেজছাত্রী রুপা হত্যাকা-টি ঘটেছিল। যেটি ছিল একটি চলন্ত বাসের ভেতরে। আর অপকর্মটি চালিয়েছিল বাসের চালক ও তার সহযোগীরা। তা হলে পরিবহন কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? অর্থাৎ এটা প্রমাণ হলো যে, পরিবহনসংশ্লিষ্টরাই অনেক সময় ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আশার কথা হলো, কলেজছাত্রী রুপা হত্যার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। চারজনের ফাঁসির দ- দেওয়া হয়েছে। রায়টি কার্যকর করার মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য অনুরোধ করছি, যাতে পরবর্তীকালে অন্তত গণপরিবহনে এমন নাশকতামূলক কার্যক্রম হবে না বলে আশা করি।

বাংলাদেশের বড় শহরগুলোয় দিনের বেলায়ই নারীযাত্রীদের একটা বড় অংশ যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে নানারকম হেনস্তার শিকার হন। অ্যাকশন এইডের একটি জরিপে দেখা গেছে, গণপরিবহনে ৪২ শতাংশ নারীযাত্রী পুরুষযাত্রীদের মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হন। এ ছাড়া পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে ৫৩ শতাংশ নারীযাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হন। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাতে নারীযাত্রীদের হয়রানি, ধর্ষণ এমনকি হত্যার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে ভীতি বাড়ছে। ফলে দিনের বেলা নারীদের স্বাভাবিক চলাচল দেখা গেলেও রাতে তা অনেকটাই কমে আসে। তাই রাতে মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। পাশাপাশি আমাদের পুরুষদেরও মনমানসিকতার পরিবর্তন দরকার। তা হলে নারীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

য় মোহাম্মদ অংকন : কলাম লেখক

[email protected]

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে