কিশোর অপরাধ

গডফাদারদের ধরতে হবে

  সম্পাদকীয়

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে অনেক কিশোর ইদানীংকালে ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। দেখা যাচ্ছে গুলশান-বনানীর ধনী পরিবারের সন্তানরা যেমন দল বেঁধে অপরাধ করছে, তেমনি আবার বস্তিবাসী কিশোররাও অপরাধে শামিল হচ্ছে। কখনো কখনো দুই শ্রেণির কিশোর অপরাধ কর্মে এক হয়ে যাচ্ছে।

কেন শিক্ষিত সচ্ছল পরিবারের শিশুরা অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে? তাদের তো পারিবারিক পরিবেশ অপেক্ষাকৃত ভালো এবং তারা সাধারণত দেশের প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত স্কুলের ছাত্র। তা হলে? গরিব ঘরের সন্তানরা না হয় অভাবের সংসারে এটা-ওটা করতে গিয়ে ভুল সম্পর্কে জড়িয়ে বিপথে পা বাড়াচ্ছে।

আজকাল স্কুলে বা পরিবারে শিশু-কিশোররা যথাযথ যতœ ও মনোযোগ পাচ্ছে না। তাদের জন্য খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। কেবল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে পরীক্ষার চাপ, ভালো ফলের চ্যালেঞ্জ। কিন্তু কিশোর বয়সের অন্যতম চাহিদা হলো শরীর ঘামিয়ে খেলাধুলা আর মনের আনন্দে সৃজনশীল কিছু করা। তারা অ্যাডভেঞ্চার বা অভিযান ভালোবাসে, দলে মিলে সাহসী কাজ করতে চায়; তারা সাহসের সঙ্গে কঠিন কিছু করে দেখাতে চায়; তারা সাফল্য চায়, সেটা মহৎ ত্যাগের মাধ্যমে করতে পারলেও তারা তৃপ্তি পায়। এ কথাগুলো ধনী-দরিদ্র সব কিশোরের জন্যই খাটে।

দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের সমাজে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিশোরদের এসব চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা নেই। খেলার সময়টা কেটে যায় কোচিং সেন্টারে। আর দরিদ্র ঘরের ছেলেরা ভবঘুরে জীবন কাটায়। এ অবস্থায় অতৃপ্ত আকাক্সক্ষাগুলো পূরণের জন্যই যেন কিশোররা ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। তাদের নায়ক হয়ে উঠছে এলাকার সেসব বড়ভাই যারা নানা অপরাধ করেও টিকে থাকে এবং তাদের কচি মনে সাহসী ব্যক্তির ভাবমূর্তি অর্জন করে। এরা আড়ালে থেকে কোমলমতি কিশোরদের দুঃসাহসী অপরাধে প্ররোচনা দেয় এবং তাদের মধ্যে জিঘাংসা, হিংসার জন্ম দেয়। এভাবেই আজকাল কিশোররা গ্যাংস্টার এবং অপরাধীতে পরিণত হচ্ছে, জড়িয়ে যাচ্ছে মাদক ও খুন-জখমের মতো অপরাধে।

এই সর্বনাশা প্রবণতা বন্ধ করতে হলে কেবল অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর কিশোরদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিলে কাজ হবে না। এদের গডফাদারদের ধরা জরুরি এবং সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হলো সব ধরনের কিশোরদের এবং অবশ্যই কিশোরীদের জন্যও সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করা। এ কাজে যেন তারা নির্ভার মনে আনন্দের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে তার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এভাবেই সমাজ থেকে এই ভয়ঙ্কর প্রবণতা দূর করা সম্ভব হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে