শ্রীলংকা পরিস্থিতি

দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রয়োজন

  সম্পাদকীয়

০৯ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৮, ০২:৩০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এবার শ্রীলংকা থেকে সহিংসতার খবর আসছে। ক্রিকেটপাগল দেশবাসী তাকিয়ে আছে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠানরত নিদাহাস কাপে বাংলাদেশের খেলার দিকে। এই সময়ে খবর আসছে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জেরে শ্রীলংকার সরকার দেশজুড়ে ১০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছে। উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের বাড়াবাড়ির ফলে বাংলাদেশ ভালোভাবেই ভুগছে। মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন অঞ্চলে যা ঘটেছে তাকে জাতিসংঘই রীতিমতো জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে। ফলে এ সময় আবার দক্ষিণ এশিয়ার আরেকটি দেশে একই রকম সহিংসতা ছড়াবে তা কাম্য নয়। আমরা আশা করব, শ্রীলংকার সরকার কঠোর হাতে দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেবে।

শ্রীলংকায় সংঘটিত দাঙ্গার পরিসর হয়তো তেমন বড় নয়। যেটুকু তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে তাতে জানা যাচ্ছে, ক্যান্ডি শহরে একজন বৌদ্ধ ও একজন মুসলিমের মৃতদেহ পাওয়া গেছে এবং বেশ কয়েকটি মসজিদ ও মুসলিম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা চললেও হামলা এবং দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বন্ধে সরকার দ্রুত সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে ও সামরিক বাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে শান্তি দীর্ঘায়িত করতে হলে সমঝোতা ও সম্প্রীতির মনোভাব বাড়াতে হবে।

শ্রীলংকার জনসংখ্যা মাত্র ২৩ মিলিয়ন, যার ৭০ ভাগ সিংহলি বৌদ্ধ, প্রায় ১৫ ভাগ তামিল হিন্দু, ৯ ভাগ মুসলমান এবং বাকি ৬ ভাগ খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। এ রকম জনবিন্যাসে সংখ্যাগুরু সিংহলি বৌদ্ধদের ওপরই সমাজে সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব বর্তায়। সরকার বৌদ্ধ নেতাদের এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে তাগিদ দিতে পারে। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি বাড়ছে, মানবতা বিপর্যস্ত হচ্ছে। ধর্মের ভিত্তিতে পৃথিবী অনেক যুদ্ধবিদ্রোহ অশান্তি দেখেছে। এক সময় রাজনীতি সমাজে সমঝোতা ও শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টিতে কাজ করেছে। আজকের দিনে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বাড়ছে এবং এর সুযোগ নিচ্ছে উগ্র ধর্মীয় জাতীয়তাবাদীরা। আমাদের দেশে এদের ধ্বংসাত্মক ভূমিকা আমরা একাত্তরে দেখেছি। তাই আজ মিয়ানমার, শ্রীলংকা বা ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের মূলধারার রাজনীতিতে ধর্মীয় উগ্র জাতীয়তাবাদ স্থান করে নিলে আমরা তার ফল নিয়ে শঙ্কিত না হয়ে পারি না। এদিক থেকে বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ উগ্র ধর্মান্ধতামুক্ত রাজনীতি এবং বিভিন্ন মত-পথের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো এদিক থেকে বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে পারে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে