তরুণ প্রজন্ম গড়ে উঠুক বই পড়ার অভ্যাসে

  অলোক আচার্য্য

০৯ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৮, ০২:২২ | প্রিন্ট সংস্করণ

বই পড়ার শখ অন্য সব শখ থেকে ভালো। অনেকেই বইপড়াকে নিজেদের শখ বলে উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে শখের বশে কতটা বইপড়াকে আপন করে, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। একটা সময় ছিল, যখন বই পড়ার প্রতি ছেলেমেয়েদের মধ্যে তীব্র আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। বই হাতে পেলেই তা পড়ে দেখার এক ধরনের কৌতূহল ছিল লক্ষণীয়। তবে আমি এটা বলছি না যে, সবার মধ্যেই এ প্রবণতা ছিল; কিন্তু তা এখনকার চেয়ে অনেকটাই বেশি ছিল বলে ধারণা। আমার মনে হয়, দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আজকালকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে থেকে বইপড়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। নতুন বই পেলে যে এক ধরনের মুগ্ধতা তৈরি হয় তা ঠিক আছে, কিন্তু কয়েক মাস যেতেই সেই মুগ্ধতা আর থাকছে না। মূল বই থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ঝুঁকছে গাইড বই, লেকচার শিট, প্রাইভেট এসবের প্রতি। এসব কিছুই অবশ্য পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য। পাস করা, ভালো ফল করা এসবই যেন মুখ্য উদ্দেশ্য! অবশ্য আজকালকার সচেতন অভিভাবকমাত্রই সন্তানের ভালো ফলের আশা করেন। আমিও করি। কিন্তু ভালো ফল করতে গিয়ে যদি পাঠ্যবইয়ের বদলে গাইড বা প্রাইভেট কিংবা লেকচার শিটের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়, তবে সেটা একদম ভালো কথা নয়। তারপর আবার এসবের বাইরে গিয়ে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, কবিতা এসবের ভেতরের যে জ্ঞানের এক অফুরন্ত ভা-ার আছে তার খোঁজ এরা করছে না। তার কারণও কি শুধুই পরীক্ষায় ভালো ফল? ফলে জ্ঞান হয়ে পড়ছে সীমাবদ্ধ। সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে মুক্ত আকাশের সন্ধান মেলে কি? শুধু পাস করা বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে (প্রাইভেট বা কোচিংয়ে বেশি সময়) ভালো ফল করা যায় বৈকি, তবে প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় কি? মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তজ্ঞানের চর্চা থাকা আবশ্যক।

একজন ছাত্র যখন তার মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে যে তীব্র আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে সেই আগ্রহ যদি বইয়ের পৃষ্ঠার প্রতি থাকত, তাহলে কত ভালোই না লাগত। তবে বিষয়টা শুধু আমার ভালো লাগা বা মন্দ লাগার না, বিষয়টা জাতির ভবিষ্যতের। আমাদের মোবাইলের দরকার আছে কিন্তু মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়–য়া একজনের দিনের কয়েক ঘণ্টা মোবাইলের সঙ্গে কাটানো কতটা প্রয়োজন আছে তা বোধগম্য নয়। এর অর্থ আমি প্রযুক্তির বিপক্ষে নই। সে ইচ্ছাও আমার নেই। কারণ বিজ্ঞানের আশীর্বাদে মানবসভ্যতা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার তো চিন্তা একে সঠিকভাবে ব্যবহারের ওপর।

আমি বিভিন্ন সময় আমার বক্তৃতায় বইপড়ার আগ্রহের বিষয়টি বলতে চেয়েছি। আমি বলেছি, বইপড়া বিষয়টি তখনই স্বাভাবিক মনে হবে, যখন ভেতর থেকে এক ধরনের তৃষ্ণা জাগ্রত হবে। তিনবেলা খাওয়ার জন্য আমাদের যে হাহাকার, একবেলা হঠাৎ না খেলে যে ক্ষুধাবোধ, তেমনি একবেলা বই না পড়লে যদি সে রকম কোনো বোধ হয় তখন বইপড়াটা মজ্জাগত হবে। অর্থাৎ অতিরিক্ত কোনো কাজ হিসেবে নয়, বরং আর দশটা স্বাভাবিক কাজের মতোই বইপড়া একটি স্বাভাবিক কাজ হবে। খেলাধুলা বা বিনোদন লাভের উপায় যেমন আমাদের আনন্দের উৎস, তেমনভাবে বই যদি আমাদের আনন্দ উপকরণ হতে পারে তখন তা হবে মনের ক্ষুধা মেটানোর অন্যতম অনুষঙ্গ। তা ছাড়া আমরা যত চেষ্টাই করি না কেন, লাভ কিছু হবে না।

য় অলোক আচার্য্য : সাংবাদিক ও কলাম লেখক

[email protected]

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে