ভারতে বিজেপি নিরঙ্কুশ প্রভাব কতটা পড়বে বাংলাদেশে

  অমিত গোস্বামী

১৩ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৮, ০২:২৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন রাজ্যের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল দেখলে এটা আর অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ধীরে ধীরে ভারতে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠছে বিজেপি বকলমে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ জুটি। তাতে কী যায় আসে? অবশ্যই যায় আসে তবে একেক দেশের কাছে একেকভাবে। সে আলোচনায় যাওয়ার আগে বর্তমান চিত্রটি দেখে নেওয়া যাক। বাংলাদেশের সীমান্ত ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। নাগাল্যান্ড, মনিপুর ও অরুণাচলের সঙ্গে ভৌগোলিক সংস্পর্শ না থাকলেও অন্য রাজ্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দূরত্ব তাদের কাছে কিছুই নয়। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ বাদে বাকি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থের সম্পৃক্ততা মোটেই উপেক্ষণীয় নয়। এই আট রাজ্যের মধ্যে পাঁচ রাজ্যে আসাম, মনিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড রাজ্যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী এখন বিজেপি। মেঘালয় ও মিজোরামে কংগ্রেস সরকার। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস। মিজোরামে কংগ্রেস সরকারের মেয়াদ এ বছর অবধি। সেখানে বিজেপি ক্ষমতা দখলের জন্য পাঁয়তারা কষছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ঘিরে থাকবে ভারতের রাজ্যগুলো। প্রশ্ন করাই যেতে পারে, তাতে বাংলাদেশের কী? বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে ভারতের রাজ্যগুলোর ক্ষমতার সমীকরণের সংযোগ বুঝতে গেলে ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামো আগে বুঝতে হবে।

ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোভিত্তিক দেশ। এই ধরনের ফেডারেল শাসনব্যবস্থা চালু ছিল ইউরোপে রোমান আর ওসমানীয় সাম্রাজ্যের আমলে। বর্তমানের যুক্তরাষ্ট্র একই ধারার অনুসারী। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পঞ্চাশটি অঙ্গরাজ্যে বিভক্ত। এসব অঙ্গরাজ্যের আবার নিজস্ব পতাকা আছে। নিজস্ব আইন-কানুন। শাস্তির বিধিবিধান আলাদা। কিন্তু বিদেশনীতির ক্ষেত্রে বা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো রাজ্যের ট্যাঁ ফোঁ করার অধিকার নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো সিদ্ধান্ত যতই বিরুদ্ধ মতাবলম্বী হোক না কেন, চিরতা ভক্ষণের মুখভঙ্গি করে যে কোনো রাজ্যকে তা মেনে নিতে হবেই। কিন্তু ২৯টি রাজ্য আর ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়ে গঠিত ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ব্যাপারটা একটু আলাদা। রাজধানী দিল্লির আবার পৃথক সত্তা। তারও একটি সরকার আছে। কিন্তু তার ক্ষমতা অতিসীমিত। রাজ্যগুলো অনেক ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসিত হলেও বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্রের কাছে তাদের জবাবদিহির দায় থেকে যায়। অনেকটা মালিক-কর্মচারীর মতো। অর্থাৎ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতার অধিক্রমণ বা ওভারল্যাপিং আছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নিতে পারে। কিন্তু পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা আর অর্থনীতির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। তবে যদি তা কোনো একটি রাজ্যের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হয় সে ক্ষেত্রে সেই রাজ্যকে সিদ্ধান্তের অংশীদার করতে হয়।

ভারতের সংসদের দুটি কক্ষ আছে। একটি লোকসভা এবং অন্যটি রাজ্যসভা। লোকসভায় প্রতিনিধি বা এমপিরা নির্বাচিত হন সরাসরি জনগণের ভোটে। কিন্তু রাজ্যসভায় প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন রাজ্যের বিধানসভার এমএলএ বা বিধায়কদের ভোটে। অর্থাৎ প্রতি ৫০ জন বিধায়ক একজন সাংসদ রাজ্যসভায় পাঠাতে পারেন। লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৫২ এবং রাজ্যসভার আসনসংখ্যা ২৪৫। ভারতে সরকার যদি কোনো বিল পাস করাতে চান তা হলে আলাদা করে লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস করাতে হয়। ভারতীয় সংবিধানে এই পদ্ধতির প্রয়োগের পেছনে একটাই কারণ ছিল, তা হলো কেন্দ্রীয় সরকার যাতে স্বৈরাচারী না হতে পারে। কিন্তু এতে অসুবিধার দিক হলো রাজ্যসভায় যদি বিরোধীদের সংখ্যা বেশি থাকে তা হলে তারা সরকারের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আটকে দিতে পারে। তাই সরকারকে আলাপ-আলোচনার পর এই পরিস্থিতিতে অনুমোদনের জন্য বিল পাঠাতে হয়। চার বছর আগে বিজেপি লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারে আসার পর রাজ্যসভায় তাদের সদস্য সংখ্যা কম থাকায় প্রায়ই আটকে যেত। গত চার বছরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে কারণ ক্রমে বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারা রাজ্যসভায় শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে এই সংযোগ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই যে বিষয়টি আসে তা হলো জঙ্গি কার্যকলাপ। একটা কথা আজ অস্বীকার করার উপায় নেই যে, উল্লেখিত সাত রাজ্যে যেভাবে স্থানীয় জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল পাকিস্তানের প্ররোচনায় এবং তার জন্য সেনা নিয়োগে ভারতের প্রতিরক্ষা বরাদ্দের একটা বড় অংশ খরচ হতো। জঙ্গিদের কোনো ধর্ম বা জাতি হয় না। তারা সন্ত্রাসের বিনিময়ে আদায়কারী সম্প্রদায়। যদি ভারতীয় উপমহাদেশে সব কটি রাষ্ট্রপ্রধানকে ধরা হয় এই সারসত্যটা সম্যকভাবে সবচেয়ে ভালো বুঝেছিলেন শেখ হাসিনা। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তির যে বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে তার জন্য এই সাত রাজ্য সবচেয়ে উপকৃত এবং তারা তা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ বিগত ত্রিপুরা নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার ও আগত মেঘালয় রাজ্যের নির্বাচনের প্রচার। অবশ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল উমেদারীর কৃতিত্বটা নিজের দিকে নিতে চাইছে কিন্তু সবাই একবাক্যে সোচ্চারে বলছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জঙ্গিবাদের টুঁটি টিপে তাকে খতম করেছেন। এ-ও এক বড় স্বীকৃতি। কিন্তু চোখ ফেরানো যাক পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের দিকে কারণ তিস্তাচুক্তি এতদিন ঝুলিয়ে রাখার জন্য এদের অবদান কম নয়।

জঙ্গি কার্যকলাপের সামান্য ঢেউ উঠলেও পশ্চিমবঙ্গ কখনই উগ্রবাদের শিকার হয়নি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখানে প্রশ্নাতীত। মাঝে মধ্যে হিন্দুত্ববাদীরা সামান্য চুলকানোর চেষ্টা করলেও আমজনতা সে আবদারে তাদের বহমান সম্প্রীতির সম্পর্কে আঁচড় দিতে দেয়নি। ফলে সন্ত্রাসবাদ এখানে দানা বাঁধেনি। স্বাভাবিক কারণে সন্ত্রাসবাদের অভিঘাত বোঝার জায়গায় পশ্চিমবঙ্গ বা সিকিম নেই। কাজেই বাংলাদেশের শুধু এই একটি জায়গায় অর্থাৎ জঙ্গি কার্যকলাপ দমনের ক্ষেত্রে যে অপরিসীম অবদান আছে তা হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতা এই দুই রাজ্যের নেই। তাই এরা ‘তিস্তা ইস্যু’ এতদিন ঝুলিয়ে রেখেছে। পরিতাপের বিষয়, এই যে দুই বাংলার যৌথ সাংবাদিকদের সভায় তাদের অনুরোধ করতে হয়েছে যে, তিস্তার ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ যেন বাংলাদেশের ওপর সহৃদয় থাকে। এটা ঠিক যে, তিস্তাচুক্তি হতে চলেছে। কারণ এই চুক্তি ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন চূড়ান্ত রাজনৈতিক ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছে। তবু সাংবাদিকরা ঘর পোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। তাই এমন আবেদন। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হয়ে এসেছে। এবার আসবে অনেক কিছু হিসাব-নিকাশের পালা।

দুই দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশ কিছু জায়গায় আজ ঐকমত্যের প্রয়োজন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে। ইস্যুভিত্তিক আলোচনা যদি করা যায় তা হলে প্রথম ইস্যু আসবে তিস্তাচুক্তি। এই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কথাটা বারবার বলেছেন তা হলো তিস্তা বাঁধমুখে কমপক্ষে ১৬০০ কিউসেক জল না এলে এই চুক্তি অর্থহীন। কিন্তু সিকিম ৯টি বাঁধ দিয়ে প্রায় পুরো জলটাই আটকে রেখেছে। তাই বর্তমানে ১০০ কিউসেক জলও আসে না। তাও যদি দিতে হয় তবে তো পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলা শুখা হয়ে যাবে। এবার দেখা যাক ক্ষমতার রসায়ন। সিকিমের লোকসভা আসন ১, রাজ্যসভা আসন ১। বিজেপির কোনো কাজে লাগার কথা নয়। ৩২ আসনবিশিষ্ট সিকিম বিধানসভায় পবন চামলিংয়ের সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের আসন ২৯। কোনো জাতীয় দলের অস্তিত্ব সেখানে নেই। এদিকে লোকসভার ৪২ আসনবিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এবার কয়েকটি আসন জিততে বদ্ধপরিকর। সে ক্ষেত্রে সিকিমের ঔদ্ধত্যের রাশ অবিলম্বে টেনে ধরে তিস্তার জল সিকিম থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করাই তাদের আশু কর্তব্য। পরিস্থিতি ক্রমেই সেদিকে এগোচ্ছে।

দ্বিতীয় ইস্যু হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে অনেক দ্রব্যই উত্তর-পূর্ব ভারতে রপ্তানি হচ্ছে। যেমন ইমারতি দ্রব্য, কৃষিজাত দ্রব্য, বস্ত্র ইত্যাদি যা থেকে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রা আমদানির পরিমাণ মন্দ নয়। বিনিময়ে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো পর্যটক পাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। কিন্তু তারা তাকিয়ে আছে তৃতীয় ইস্যুর দিকে।

এই তৃতীয় ইস্যু হলো ফ্রি করিডর বা ট্রানজিট। বাংলাদেশের ভূখ- ব্যবহার করে ভারতের এক সীমান্ত থেকে অন্য সীমান্তে যাওয়ার পথ ও পদ্ধতির বিস্তার এই ট্রানজিট পাওয়ার উদ্দেশ্য। ভারতকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করার অনুমতি ও বাংলাদেশের স্থলপথ দিয়ে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের জন্য করিডর বা ‘ট্রানজিট’ সুবিধা নেওয়ার কথাই ভারত বলেছে। ট্রানজিট বলতে নির্দিষ্ট একটি ভূমি বা জলপথ দিয়ে সুনির্দিষ্ট চুক্তি ও নিয়ম-নীতির ভিত্তিতে আন্তঃরাষ্ট্রীয় যাত্রী এবং মালপত্র পরিবহন বোঝায়। আন্তর্জাতিক পরিসরে এরূপ করিডর সুবিধা সচরাচর কোনো ‘ল্যান্ডলক কান্ট্রি’ই পেয়ে থাকে। কিন্তু ভারত মোটেই ‘ল্যান্ডলক কান্ট্রি’ নয়। কিন্তু পণ্য চলাচলের সমধর্মী সুবিধা ভারতকে দেওয়া হয়। এবার কিন্তু উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো ফ্রি করিডরের জন্য অবশ্যই চাপ দেবে।

চতুর্থ ইস্যু বাংলাদেশি অভিবাসী সমস্যা। আসামের জনসংখ্যা ৩ কোটির বেশি, যার ৩৪ ভাগ মুসলমান। মুম্বাই থেকে প্রকাশিত উর্দু টাইমসের এক প্রবন্ধ মোতাবেক কাশ্মিরের পর আসাম হচ্ছে দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। অবশিষ্ট ৬৬ ভাগ ছোট ছোট বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ ও গোত্রে বিভক্ত। স্বাধীনতার পর বর্তমান পর্যন্ত সৈয়দা আনোয়ারা তৈমুরের এক বছরের শাসনকালের কথা বাদ দিলে এত বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও কোনো মুসলিম মুখ্যমন্ত্রী আসামে হননি। উচ্চবর্ণের হিন্দুরাই সেখানে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। বিপুলসংখ্যার কারণে মুসলমানদের ক্ষমতায় আসার উজ্জ্বল সম্ভাবনা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের কাছে আশঙ্কারূপে প্রকাশ পায়। এ কারণে তারা এক কোটির এত বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বহিরাগত অভিবাসীর তকমা লাগিয়ে দেয়। বলা হয়, এসব মুসলমান বাংলাদেশি অভিবাসী। এই প্রবণতা যদি অন্য রাজ্যগুলো গ্রহণ করে তা হলে জাতিগত সমস্যা সৃষ্টি হবে, যেমন হয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে। যেমন ধীরে ধীরে হিন্দুদের দুর্লভ প্রজাতি বানানো হয়েছে বাংলাদেশে। তার পাল্টা যদি মুসলমান খেদাও আন্দোলন শুরু হয় এসব রাজ্যে তা হলে বর্তমান শান্তির বাতাবরণ নষ্ট হবে।

অসম দখলের পরই কংগ্রেসমুক্ত উত্তর-পূর্ব গড়তে নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা নেডা গড়েছিল বিজেপি। অমিত শাহ নেডার ভার তুলে দিয়েছিলেন অসম জয়ের কা-ারি হিমন্তবিশ্ব শর্মার হাতে। দায়িত্ব হাতে নিয়ে হিমন্ত শুধু কংগ্রেস নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতকে কমিউনিস্টমুক্ত করেও ছাড়লেন। বামপন্থার দুর্গ ত্রিপুরা যে বিজেপি ছিনিয়ে নেবে তা হয়তো সিপিএম নেতৃত্বও বিশ্বাস করতে চাননি। আজ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ যারা তীব্র হিন্দুবাদী সংগঠন তারা আজ চূড়ান্ত সক্রিয়। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ চূড়ান্ত বানিয়া। তারা বিশ্বাস করে দেবে আর নেবে মিলাবে মিলিবে। ২১টি রাজ্যে ক্ষমতা দখল করে তারা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী।

এদের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা আছে বাংলাদেশের একমাত্র শেখ হাসিনার, যা গত চার বছরে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই অনেক সমীকরণ নির্ভর করছে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ওপর। বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে সমগ্র এশিয়ার রাজনীতির ভরকেন্দ্রে যে প্রভাব পড়বে তা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারত ও বাংলাদেশ দুজনেই। কাজেই সমৃদ্ধির পথে কতটা এগোবে বাংলাদেশ তা নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচনেই।

য় অমিত গোস্বামী : কবি ও কলাম লেখক

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে