নববর্ষ : আনুষ্ঠানিকতা থেকে জীবন ঘনিষ্ঠতা

  আবুল মোমেন

১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০১:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিটিশ আমলে যে আধুনিক নাগরিক জীবনের বিকাশ শুরু হয়, তা ক্রমে গ্রাম ও গ্রামজীবনকে পেছনে ফেলে দেয় এবং তার সঙ্গে নগরজীবনের বিচ্ছিন্নতার সম্পর্ক তৈরি হতে থাকে। ইংরেজের আদর্শে পশ্চিমের আদলে যে জীবন তার সঙ্গে আবহমান গ্রামবাংলার জীবনের মৌলিক বিচ্ছেদ ঘটতে থাকলÑ তার বসত ও মনোজগতে আগেকার মতো প্রকৃতি-সান্নিধ্য ও নির্ভরতা কমতে শুরু করেছে এবং ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির কাছে গ্রামীণ কৃষিজীবনের অতি প্রাসঙ্গিক বাংলা বর্ষপঞ্জির পরাভব ঘটতে থাকল। এরই সঙ্গে নাগরিকদের জীবন থেকে মৌসুমের ও প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত মেলা ও উৎসবও হারাতে থাকে প্রাসঙ্গিকতা। আমাদের ঐতিহ্যবাহী মেলা ও উৎসবের উৎস ও বিকাশের স্বাভাবিক ক্ষেত্র গ্রাম, কৃষি এবং তা থেকে উদ্ভূত ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত আচার-বিশ্বাসনির্ভর জীবন।

অনেককাল পর উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়, বিলম্বিত ও সীমিত শিল্পায়নে (এখানে তো ইউরোপ-আমেরিকার মতো শিল্পবিপ্লব ঘটেনি), সাম্প্রতিক কালে দ্রুত-বিস্তারী নগরায়ণে এবং বাজার অর্থনীতির দাপটে আমরা সারা দেশে নগরে-গ্রামে মেলা-উৎসবের সাংবাৎসরিক প্রকোপ দেখতে পাচ্ছি। এর সুস্পষ্ট দুটি ধারা দেখতে পাই। একদিকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য মূলত পুরনো মজুদ সাফ করার অভিপ্রায়ে, নতুন পণ্যে ভোক্তাকে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে, কোনো উপলক্ষের গুরুত্ব বাড়াতে নানা রকম মেলা ও উৎসবের আয়োজন হচ্ছে। সেখানে জ্ঞানগর্ভ বই থেকে বাড়িঘরের মতো স্থাপনা, পুণ্যার্থীর বিনীত সদিচ্ছা থেকে পেটুকের আগ্রাসী কামনা, সস্তার সুলভ পণ্য থেকে বহুমূল্য দুর্লভ সামগ্রী, উচ্চমানের শিক্ষা ও ঝকঝকে ডিগ্রি থেকে শান্তি ও স্বস্তিময় ধ্যানী জীবনের জন্য মোক্ষম জীবনশৈলীর প্রতিশ্রুতি অবধি মেলার পরিধি বিস্তৃত। প্রকৃতি বা নিছক আনন্দের বিলাস ততটা নেই, এখানে বাণিজ্যলক্ষ্মীর কৃপাপ্রার্থীদের প্রধানত ভোগ-বিলাস মেটানোর পসরা সাজানো থাকে, এটি আয়-বিত্তের মাপকাঠিতে ভোক্তার জন্য নির্দিষ্ট, আমজনগণ এখানে রবাহূত হয়েও সাহস করে ঢোকেন না, কারণ তাঁরা অনাহূত, অপাঙ্ক্তেয়, তাদের উপস্থিতি অনভিপ্রেত। বৃহৎ সমন্বিত বাণিজ্যমেলার পাশাপাশি এ ধরনের খাতওয়ারি অসংখ্য মেলায় বছরটা এখন ভরে থাকে। তাতে নাগরিকদের কেনাকাটা বাড়ছে, ভোক্তাস্বভাবের বাড়বাড়ন্ত চলছে। এসব মেলা মুক্ত পরিবেশে প্রকৃতির অঙ্গনে আমজনগণকে সম্পৃক্ত করে আর হয় না, প্রকৃতিকে হটিয়ে কখনো বহুমূল্য পাঁচতারকা হোটেল বা কনভেনশন হলের অভ্যন্তরে মূল্যবান সজ্জায় কৃত্রিম আলোর সীমা টেনে তার মধ্যে জমে চোখ-ধাঁধানো আয়োজন, ঘটে বিক্রি বা বিক্রি চুক্তির কাজ। দ্বিতীয় ধারায় রয়েছে বছরের ও ইতিহাসের নানা উপলক্ষকে ঘিরে প্রধানত দিবসের উপলক্ষের তাৎপর্য তুলে ধরার জন্য মূলত সাংস্কৃতিক আয়োজনকেন্দ্রিক উৎসব ও মেলা। এখানে অংশগ্রহণই মুখ্য, তাই সবার জন্য উন্মুক্ত, প্রায়ই প্রকৃতির অঙ্গনেই এটি আয়োজিত হয়। নববর্ষ, বসন্তবরণ, বর্ষামঙ্গল, শরৎবন্দনার মতোই বিজয় দিবস, শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস প্রভৃতি ঘিরে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নানা উৎসব মেলা আয়োজিত হচ্ছে। এখানে বাণিজ্য মুখ্য নয়, বড়জোর অনুষঙ্গী উপচার, অংশগ্রহণই মূল উদ্দেশ্য।

এই শেষোক্ত ধারার বিস্তার বুঝতে হলে একবার সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজর ফেরাতে হবে। বাঙালির সম্মিলিত অবচেতন স্মৃতিতে নিশ্চয় সেই ফেলে আসা প্রকৃতির কোলজুড়ে ছড়ানো গ্রামীণজীবনের আনন্দময় সর্বজনীন উৎসব ও নানা আয়োজনের অভিজ্ঞতা মুছে যায়নি। গত শতকের ছয়ের দশকে এ দেশে নাগরিক জীবনে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার জোয়ার এসেছিল, তাতে এই স্মৃতি আবার সতেজ ও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। সবাই জানি তার সূচনা হয়েছিল ভাষা ও সংস্কৃতিচেতনা থেকে, তবে সেটা পূর্ণতা পেয়েছে রাজনীতির ভূমিকায়, প্রভাবে। সেদিন নাগরিক বাঙালি, যারা অধিকাংশই ধর্মে ছিলেন মুসলমান, নিজ পরিচয়ের ধর্মীয় গ-ি ছাপিয়ে ভাষিক ও ভূমিজ সংস্কৃতির যত উপচার তা অন্বেষণ করেছেন, সেসব চর্চা করতে চেয়েছেন। রাজনীতি ও সংস্কৃতির এক নবজাগরণে সেদিন জাতি নিজের এক অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রূপ দাঁড় করাতে চেয়েছিল। তখন খদ্দরের ব্যবহার বেড়েছিল, সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারের ইচ্ছা জেগেছিল, স্বদেশচেতনার গানে তারা মজেছিল, এই নবচেতনার পূর্ণতা চেয়ে তারা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল এবং সর্বোপরি ক্রমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা আপসহীন সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

এই সময়ে একুশে ফেব্রুয়ারি আর বাংলা নববর্ষ নাগরিক বাঙালির জীবনে ব্যাপকতর ব্যঞ্জনায় বাঁধভাঙা উদ্দীপনারই সৃষ্টি করেছিল। একুশে কেবল বায়ান্নর স্মৃতিবেদনায় কাতর দিনটি স্মরণের উপলক্ষ থাকল না আর, এদিনটি হয়ে উঠল নবজাগ্রত বাঙালির নবলব্ধ অধিকার চেতনাকে শানিত করার, তা অর্জনের জন্য অঙ্গীকারের দিন। একুশে সমকালে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল, তার চেতনা বিস্তৃততর হলো এবং সংগ্রামের ক্ষেত্রে এর প্রতীকী মূল্য তৈরি হলো।

একইভাবে ওই ছয়ের দশকেই নববর্ষ উদযাপনে প্রাণের স্পন্দন বাড়তে থাকে, তার তাৎপর্য সংস্কৃতিচর্চার গ-ি ছাপিয়ে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক জাগরণের প্রেরণায় আরও গভীর ও ব্যাপ্ত হয়ে ওঠে।

তবে স্বাধীনতার পর বাঙালি জাতীয়তাবাদী ধারায় জাতি ও রাষ্ট্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রথমে ১৯৭৫-এ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে রাষ্ট্রীয় কাজে তথা রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার পুনরুত্থান এবং পরে বিশ্বায়নের সূত্রে মুক্তবাজার অর্থনীতির আগ্রাসনে জাতি ও রাষ্ট্রের অভিমুখ ঘুরে গেল। রাজনীতি, এমনকি অতীতের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির মূলধারাও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথা আপস করেই চলতে শুরু করল। রাজনীতির এই তালগোলের মধ্যে সংস্কৃতি অঙ্গন ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগে অনেকগুলো উপলক্ষ নানা তাৎপর্যে বিকাশ লাভ করেছে। একুশে ও বাংলা নববর্ষ ছাড়াও ছাব্বিশে মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ষোলই ডিসেম্বরের বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করেও শহরে-গ্রামে নানারকম মেলা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। ক্রমে এর অধিকাংশই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে-দখলে আয়োজিত হচ্ছে। তাতে সংস্কৃতি অঙ্গনের মূলধারা ও নাগরিক সমাজ পেছনে পড়ে গেল। ফলে অধিকাংশ আয়োজনই গতানুগতিক, লক্ষ্যহীন, অনেক ক্ষেত্রে রুচি ও চিন্তার ছাপহীন বার্ষিক প্রথাপালনেই শেষ হচ্ছে। উৎসব অনেক ক্ষেত্রে উৎপাতেও পরিণত হচ্ছে।

তবে নববর্ষে রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রাÑ দুটি ভিন্ন ধরনের আয়োজন আজ জাতীয় জীবনে নববর্ষের প্রধান অনুষ্ঠানের মর্যাদা পেয়েছে। ছায়ানটের সংগীতভিত্তিক প্রভাতি অনুষ্ঠানটি প্রতিবছর নির্বাচিত গানের, আবৃত্তি ও পাঠের এবং সমাপনী বাণীর সৌন্দর্যে, গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতায় বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের তাৎপর্যবাহী সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হিসেবে আজ স্বীকৃত। আবার নানা লোকজ রূপ ও নকশার শৈল্পিক রূপায়ণে সুসজ্জিত মঙ্গল শোভাযাত্রা তো জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিসংক্রান্ত সংস্থা ইউনেস্কোর কাছ থেকে মূল্যবান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়ে নতুনতর মাত্রা অর্জন করেছে। মঙ্গল শোভাযাত্রাও এখন নববর্ষের প্রভাতি অনুষ্ঠানের মতো শহরে-গঞ্জে-সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

একটি বিষয় প্রায় নিশ্চিত যে, বাংলা বর্ষপঞ্জি মুসলিম নাগরিক সমাজে আদতে একমাত্র নববর্ষ উদযাপনের কাজে লাগছে, অনেকটা হালে অধিকাংশ বাঙালি নারীর শাড়ির শোভার মতোÑ উৎসবে, অনুষ্ঠানে, বিশেষ দিনের বিশেষ পোশাক হিসেবেই যা আদৃতমাত্র, নিত্যদিনের ব্যবহারিক পোশাক হিসেবে নয়। না, সংবৎসর অর্থাৎ নিত্যদিন আর বাংলা বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হয় না, যেমন হচ্ছে না শাড়ি। আরেকটা তুলনা টানব। হঠাৎ করে বাঙালি উপলব্ধি করেছে জীবনে সফল হতে হলে মাতৃভাষা বাংলা নয়, আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি শিখতে হবে, ক্রমে চোখের সামনে শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলা দ্বিতীয় ভাষায় অবনমিত হচ্ছে বাংলা ভাষার দাবি থেকে সৃষ্ট এই বাংলাদেশে। এই বাস্তবতায় আজ যে কোনো শিক্ষার্থীর জন্য শুদ্ধভাবে বাংলা বলা ও লেখা আয়ত্ত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে। প্রমিত ভাষাকে ছাপিয়ে আঞ্চলিক উপভাষার দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। যেমন আমরা স্বেচ্ছায় হার মেনে নিয়েছি ইংরেজি ক্যালেন্ডারের কাছে বিনা চ্যালেঞ্জে, বিনা প্রয়াসে, ঠিক তেমনটাই ঘটেছে মাতৃভাষার ক্ষেত্রেও।

আমার মনে হয় ভাষার মতোই বাংলা ও ইংরেজি ক্যালেন্ডার যুগপৎ ব্যবহার করা সম্ভব, সরকারি, আধা সরকারি দাপ্তরিক কাজে এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু বাংলা বর্ষপঞ্জির ব্যবহার না থাকায় কাজটা কার্যত ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করেই হচ্ছে। এটা গোঁজামিল, আরোপিত, ওপরের হুকুম পালনমাত্র। সরকারি নির্দেশনা বা প্রথা পালনের বেশি এতে আন্তরিক স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ ও দায়বোধের কোনো তাড়না ও মনোযোগ না থাকায় খামখেয়ালে বা নেহাত ঔদাসীন্যের ফলে ছেদ পড়তে দেখা যায়। অথচ ইচ্ছা করলে ক্যালেন্ডারের ব্যবহারটা আমরা উল্টে দিতে পারি অর্থাৎ বাংলা বর্ষপঞ্জিটি মূল হিসেবে গণ্য হবে, ইংরেজি ক্যালেন্ডার তাকে অনুসরণ করবে মাত্র। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা উচিত বলে মনে করি। মনে করি এ কারণে যে, ভাষা ও বর্ষপঞ্জির অর্থপূর্ণ নৈমিত্তিক ব্যবহারিক মূল্য ছাড়া একুশে বা নববর্ষ উদযাপন, শৌখিন, কৃত্রিম ও ভঙ্গুর বিষয় হতে থাকবে। বাঙালি হিসেবে যে অহঙ্কার আমাদের, তার ভিত্তি তো উন্নত সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। কিন্তু এভাবে চললে যে নিজ উত্তরাধিকারের সঙ্গে বিচ্ছেদ অনিবার্য। তাতে নববর্ষ হয়তো আর দশটা উপলক্ষের মতো হৈ-হুল্লোড় বা বাণিজ্যের বহরে বাড়বে, কিন্তু তার সাংস্কৃতিক তাৎপর্য ও ভূমিকা হারিয়ে যাবে। এভাবে রুচিসমৃদ্ধ মানসম্পন্ন সাংস্কৃতিক সম্পদে উন্নত জীবন উদযাপন বাঙালির অধরা থেকে যাবেÑ অর্থনৈতিক উন্নতি সত্ত্বেও।

আত্মপরিচয়-সন্ধানী বাঙালি মুসলমান ধর্মের দোহাই শুনে কিংবা ধর্মান্ধদের চোখ রাঙানিতে তার ভূমিজ-লোকজ সংস্কৃতিকে কাঠগড়ায় তুলে আরবি কৃষ্টি গ্রহণ-পালনের চেষ্টা করেছে, কেউ কেউ এখনো করছেন। তাতে তার বাঙালি থাকা-হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, আরবি হওয়া তো অসম্ভব। অথচ দেখা যাচ্ছে ইরানসহ পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া, ককেশাস অঞ্চল ও কৃষ্ণসাগর অববাহিকার বহু দেশেই মুসলিম সমাজে ব্যাপক উদ্দীপনায় উদযাপিত হয় নওরোজÑ পারসি বর্ষপঞ্জির নববর্ষ। এ ঐতিহ্য কম করে তিন হাজার বছরের পুরনো। নওরোজের উৎপত্তি যেহেতু জরথুস্ত্রবাদের সময় থেকে, তাই উৎসবে অগ্নি প্রজ্বালন আবশ্যিক অনুষঙ্গ। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া দাবানলপ্রবণ বলে এখানকার ইরানিরা স্থানীয় আইন বাঁচিয়ে সৈকতে গিয়ে উৎসব পালন করে। কোনো কোনো দেশে যেমন ইরান, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তানে এ উপলক্ষে তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত উৎসব চলে, জাতীয় ছুটি থাকে। ঠিক একইভাবে চীন-হংকং-তাইওয়ান ও আশপাশের অন্যান্য দেশে তাদের নববর্ষে ছুটি ও উৎসব চলে বেশ কয়েক দিন ধরে, যেমনটা আমাদের পাহাড়ে আদিবাসীদের মধ্যে প্রচলিত আছে। এই ধারা মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস ও ভিয়েতনাম পর্যন্ত প্রসারিত।

বাংলা নববর্ষকে জাতীয় জীবনের গভীরে প্রোথিত করতে হলে এভাবেই চর্চা ও ব্যবহারিক কাজে এর অনুষঙ্গগুলোর ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা সে রকম উপলব্ধি ও কর্মোদ্যোগের প্রত্যাশা করছি সবার কাছ থেকে।

আবুল মোমেন : কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে