আমরাও সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন চাই না-বিএসএফ ডিজি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:৫৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতীয় সিমান্তবাহিনী বিএসএফের মহাপরিচালক কে কে শর্মা বলেছেন, সাধারণত মধ্যরাতে সীমান্তে অপরাধমূলক কর্মকা- হয়। এগুলো নজরে এনে আমরা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছি না। সে কারণে এ বছর সীমান্তে একটি হত্যাকা-ের ঘটনাও ঘটেনি। সীমান্তহত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবির সঙ্গে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন হোক, এটা আমরা চাই না।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার পিলখানায় ৪৬তম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে সীমান্ত সম্মেলন শেষে দুই বাহিনীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএসএফপ্রধান এসব কথা বলেন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যৌথ আলোচনার দলিল (জেআরডি-জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন) স্বাক্ষরিত হয়।
গত মঙ্গলবার থেকে কে কে শর্মার নেতৃত্বে বিএসএফ প্রতিনিধি দলে ১০ জন এবং বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের ১০ সদস্য সীমান্তে সম্মেলনে অংশ নেন। এতে সীমান্ত দিয়ে দুই দেশে মাদক চোরাচালান, গরু পাচার, মানব পাচার, অপরাধীদের তথ্য বিনিময়, কাঁটা তারের বেড়া, সড়ক নির্মাণ, উভয় দেশে নদীতীর সংরক্ষণ এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির আলোচনা গুরুত্ব পায়।
ফেনসিডিল চোরাচালান বন্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছেÑ জানতে চাইলে কে কে শর্মা বলেন, ভারতে ফেনসিডিল উৎপাদন এবং বিক্রি দুটোই নিষিদ্ধ থাকায় বৈধভাবে কেউ এটি তৈরি করতে পারে না। এর পরও ফেনসিডিলের চোরাচালান থাকায় সীমান্তপথে আমরা আটকও করছি। গত বছরে আমরা আটক করছি ৩৪ হাজার ৯৬৪ পিস ইয়াবা। গবাদিপশু ও মাদক চোরাচালানপ্রবণ এলাকায় যৌথ টহল পরিচালনা, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বন্ধে আমরা যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছি।
বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেন, বহিরাগত নাগরিকদের বর্ডার পারাপার বন্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কাজে লাগিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে কোনো অপকর্ম কিংবা ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে ব্যাপারে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে দুদেশের সীমান্ত বাহিনী।
সীমান্তে ফেলানী হত্যাকা-ের বিচার সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজিবিপ্রধান বলেন, ফেলানী হত্যার বিষয়টি ভারতের আদালতে বিচারাধীন। সে কারণে আমরা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারছি না।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে