কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার

খেলাপি ঋণের ১ টাকার তথ্যও জমা দিতে হবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:৫৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণের বিপরীতে জামানত সংক্রান্ত প্রতারণা ও দুর্নীতিরোধে ডাটাবেজ প্রস্তুতের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)। তাই এখন থেকে ঋণের এক টাকা খেলাপির তথ্যও পাঠাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি ঋণ দেওয়ার সময় জামানতেরও সিআইবি রিপোর্ট নিতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, একই সম্পদ একাধিক ব্যাংকে জামানত রেখে বিপুল পরিমাণ ঋণ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা অহরহ। এর মধ্যে চট্টগ্রামের মিজানুর রহমান মিলন ও মুজিবুর রহমান শাহীন নামে দুই ভাই একই সম্পদ ৯ ব্যাংকে বন্ধক রেখে হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। পুরান ঢাকার এক ব্যক্তি একই বাড়ি জামানত দিয়ে ৬ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আবার সেই বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় পার্টির নেতা শওকত চৌধুরীর বিরুদ্ধেও একই জমি বন্ধক রেখে বেসিক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এভাবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়ায় আর ঋণ আদায় করা সম্ভব হয় না। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক জামানত রাখা সম্পদের সিআইবি করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে অবশেষে সেই জামানত সিআইবি গঠনের জন্য সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে শুধু স্থাবর জামানতের (ভূমি, দালান, ফ্ল্যাট এবং যন্ত্রপাতি) তথ্য ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর এ ডাটাবেজ পরিচালিতি হবে কোলাটোরেল ইনফরমেশন সিস্টেম নামে নতুন সিস্টেমে। প্রতি ত্রৈমাসিকে জামানাতের তথ্য এ সিস্টেমে আপলোড করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্চ প্রান্তিকের সব তথ্য আপলোড করতে হবে আগামী ৩১ মের মধ্যে। জুন থেকে প্রতি ত্রৈমাসিকের তথ্য পরবর্তী মাসের ২০ তারিখের মধ্য পাঠাতে হবে। ঋণ মঞ্জুরির সময় কলাটোরেল নেওয়া হবে এমন সম্পদের সিআইবি রিপোর্ট ওই সিস্টেম থেকে সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। সিস্টেমে পৃথক ফাইল জামানত রাখা সম্পদের যাবতীয় তথ্য আপলোড করতেও বলা হয়েছে।
এদিকে পৃথক আরেকটি সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতিমালা অনুসারে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার এবং ক্রেডিটকার্ডের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা ঋণগ্রহীতার তথ্য সিআইবিতে পাঠানো বাধ্যতামূলক। এখন সেটি সংশোধন করে এক টাকার ঋণগ্রহীতার তথ্যও পাঠাতে হবে। ১০ মের মধ্যে সব তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে ঋণগ্রহীতার সব তথ্য পাঠায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। কোনো গ্রাহককে ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের সিআইবি রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী খেলাপি গ্রাহকরা নতুন করে ঋণ নিতে পারেন না; কিন্তু আগের সিস্টেমে ৫০ হাজার টাকার নিচে খেলাপিদের তথ্য থাকত না। এখন এক টাকার খেলাপি হলেও তিনি নতুন করে ঋণ নিতে পারবেন না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে