এর মাধ্যমে দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে

  বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

১৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ মে ২০১৮, ০৩:৫০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করল। স্বপ্নের স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ গত রাতে সফলভাবে মহাকাশ যাত্রা শুরু করেছে। স্যাটেলাইটের গায়ে লেখা আছে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। মহাকাশে বাংলা ও বঙ্গবন্ধু নাম নিয়ে অবস্থান করবে এটি। প্রথমবারে শেষ মুহূর্তে উৎক্ষেপণ বাতিল হলেও কাল রাতে আর কোনো সমস্যা হয়নি এটির যাত্রায়।

বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে এই মহাকাশ প্রযুক্তির অধিকারী হয়ে বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের এলিট কাবের সদস্য হলো। ফ্রান্সে তৈরি বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেনেডি স্পেস সেন্টারের ঐতিহাসিক লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯-এ থেকে। এটি ঐতিহাসিক স্থাপনা কারণ ১৯৬৯ সালে এখান থেকেই চাঁদে মানুষ নিয়ে অবতরণকারী প্রথম চন্দ্রযান অ্যাপোলো-১১ যাত্রা শুরু করেছিল। ফ্যালকন-৯ রকেট ৩ হাজার ৭০০ কেজি ওজনের বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটকে নিয়ে রওনা হয়েছে রাতেই। ১০ দিনের মধ্যে এটি মূল কক্ষপথে পৌঁছবে আর ২০ দিন পর এটি বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও কোরিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। সব মিলিয়ে প্রায় তিন মাস সময় লাগবে এটি কার্যকর হতে। এটির সেবা প্রদান ও নিয়ন্ত্রণের কাজে থাকবে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড।

বঙ্গবন্ধু-১ কার্যকর হওয়ার পর এটি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ অনেক রকম সেবা লাভ করবে। সীমান্তে বাংলাদেশের নজরদারি জোরদার ও দক্ষ হবে, ২০টি ট্রান্সপন্ডার দিয়ে দেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে সেবা দেওয়া যাবে, দেশের সর্বত্র সহজে-সুলভে ইন্টারনেট সরবরাহ করা যাবে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এটি ব্যবহার করা যাবে, সমুদ্রসীমা নজরদারিতে কাজে লাগবে ইত্যাদি। এ ছাড়া স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০টি অন্য দেশকে ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

বঙ্গবন্ধু-১ সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বলা যায় পিতার সূচিত কাজ কন্যার হাতে পরিণতি লাভ করল। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়াতে প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করে মহাকাশ যোগাযোগের সূত্রপাত করেছিলেন। এর ৪৩ বছর পর কন্যার হাত ধরে বাংলাদেশ যোগাযোগের জন্য নিজস্ব মহাকাশ কেন্দ্রের অধিকারী হলো। বঙ্গবন্ধুর এক দূরদর্শী স্বপ্নের সফল পরিসমাপ্তি ঘটালেন কন্যা শেখ হাসিনা।

সার্কভুক্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা আগে থেকেই মহাকাশ স্যাটেলাইটের অধিকারী। এবার বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে যুক্ত হলো। উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের যাত্রা ক্রমেই শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে টেকসই হয়ে উঠছে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ তারই আরেকটি নমুনা।

এটি সরকারের সাফল্য, জনগণের গৌরব। এমন সাফল্য ও গৌরবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবে। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন, অভিনন্দন দেশবাসীকে যারা এ দেশের প্রকৃত মালিক।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে