• অারও

আজ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক

মিয়ানমারকে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরুর তাগিদ দেবে বাংলাদেশ

  আরিফুজ্জামান মামুন

১৭ মে ২০১৮, ০০:৫৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দুদেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক রয়েছে আজ। বৈঠকে ঢাকার পক্ষ থেকে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরুর তাগিদ দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় আজ সকাল ১০টায় দুদেশের পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে।
গত বছরের নভেম্বরে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের বাসিন্দাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে দুদেশের মধ্যে চুক্তি সই হয়। এর পর প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। শুরুতে বলা হয়েছিল, ২২ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে দুদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে প্রত্যাবাসনের জন্য এ দেশে আশ্রিত ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। যাচাই-বাছাই শেষে মাত্র ৮৭৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করে মিয়ানমার। ঠিক কবে থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই দীর্ঘ ৪ মাস পর আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক।
সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকে বাংলাদেশ দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে জোর তাগিদ দেবে। এ ছাড়া রাখাইন রাজ্যে আগস্ট-পরবর্তী নৃশংসতার অভিযোগে সেখানকার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি তুলেছে নিরাপত্তা পরিষদসহ বিশ্ব সম্প্রদায়। এ বিষয়টিও বৈঠকে তুলবে ঢাকা। এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের তাগিদ দেবে ঢাকা। এ ছাড়া সূত্রের খবর, প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের কাছে নতুন করে রোহিঙ্গাদের একটি তালিকা হস্তান্তর করা হবে ঢাকার পক্ষ থেকে। ইতিপূর্বে ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা থেকে মাত্র ৮৭৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশটির কাছে আজকের বৈঠকে ব্যাখ্যা চাইবে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্তের বিষয় আলোচনায় আসায় আজকের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ঘুরে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার পর গত সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চুক্তিতে সই করে। মিয়ানমারের নেপিডোতে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে এবং গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর ৮৭ হাজার এবং ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে ৬ লাখ ৯২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন তত্ত্বাবধানে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কথা বলা হয়। জানুয়ারিতে দুদেশের পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে ৩২ সদস্যের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। এ ছাড়া প্রত্যাবাসনে সহায়তায় জানুয়ারি ও এপ্রিলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গে পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে