খালাসের সাড়ে ৫ বছর পর খুলছে মুক্তির পথ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ মে ২০১৮, ০০:৩০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একটি হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে খালাস পাওয়ার পর কেটে গেছে সাড়ে সাত বছর। আর আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের পরও কেটেছে সাড়ে পাঁচ বছর। মেলেনি মুক্তি। মামলার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিতে কয়েক দফা চিঠি চালাচালিও হয়। অবশেষে খুলছে মুক্তির পথ।
আপিল বিভাগের ইতিপূর্বে দেওয়া আদেশসংক্রান্ত রায়ের কপি রবিবার দিনাজপুর কারাকর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়। এর মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের উত্তর জয়দেবপুর গ্রামের আজহার ওরফে রাজার মুক্তির পথ খুলতে যাচ্ছে। সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে


 ওই আদেশ পাঠানো হয়।
১৯৯৮ সালের একটি হত্যা মামলায় ২০০৫ সালে বিচারিক আদালতের রায়ে আজহারের মৃত্যুদ- হয়। দ-াদেশের বিরুদ্ধে তার করা জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর হাইকোর্টের রায়ে খালাস পান আজহার। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ, যার ওপর শুনানি নিয়ে ২০১২ সালের ১ অক্টোবর সিদ্ধান্ত দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত লিভ টু আপিল করবে, তা না হলে ফৌজদারি বিবিধ আবেদনটি খারিজ হয়ে যাবে। পরে কারাকর্তৃপক্ষ লিভ টু আপিলের ফল ও বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করতে কয়েক দফা চিঠি দেয়।
চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল কারাকর্তৃপক্ষের এক চিঠিতে বলা হয়, ২০১০ সালের এক স্মারকে ওই বন্দির মুক্তির আদেশনামা দিনাজপুর অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে পাওয়া যায়। তবে ভুল মুক্তি এড়ানোর জন্য যোগাযোগ করা হলে সুপ্রিমকোর্টের সহকারী  রেজিস্ট্রার ২০১০ সালের ৩০ মার্চ তারিখে স্বাক্ষরিত লিভ টু আপিলসংক্রান্ত একটি আদেশনামা ফ্যাক্সযোগে এ দপ্তরে পাঠান। দিনাজপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজের সঙ্গে লিভ টু আপিলের তারিখের গরমিল থাকায় বন্দির মুক্তিতে সংশয় দেখা দিলে পৃথক তিনটি স্মারকে অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবরে চিঠি পাঠিয়ে বন্দির মুক্তি বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রার্থনা করা হয়। পরে ২০১১ সালে অতিরিক্ত দায়রা জজের এক স্মারকে বন্দির লিভ টু আপিলের ফল হাইকোর্ট থেকে পাওয়া যায়নি বলে এই দপ্তরকে অবহিত করা হয়। সর্বশেষ ২০১২ সালে লিভ টু আপিলের বিষয়ে ফল জানতে অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবরে চিঠি পাঠানো হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। বন্দি (আজহার) মৌখিকভাবে জানিয়েছেন তিনি ওই মামলায় খালাস পেয়েছেন। বন্দিকে অবস্থানের জন্য ২০১২ সালের ১০ জুলাই কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর দিনাজপুর কারাগারে বদলি হয়ে ফিরে যান।
এর পর ১২ মে ওই বন্দির লিভ টু আপিলের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করতে অনুরোধ জানান দিনাজপুরের জেল সুপার। পরে সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিবের স্বাক্ষরে ১৫ মে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার বরাবরে লিভ টু আপিলের ফল ও মামলার বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে চিঠি পাঠানো হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে