ফাইনালে ব্যর্থ সাকিবরা

আইপিএল চ্যাম্পিয়ন ধোনির চেন্নাই

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

২৮ মে ২০১৮, ০১:০১ | আপডেট : ২৮ মে ২০১৮, ০৭:৫৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১১তম আসরের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস। গতকাল রবিবার ফাইনালে সাকিবের সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। অপরাজিত ১১৭ রানের দারুণ এক ইনিংসে দলকে প্রায় একাই শিরোপা জেতান শেন ওয়াটসন। দুর্নীতির দায়ে আইপিএলের গত দুই আসরে নিষিদ্ধ ছিল চেন্নাই। ধুন্ধুমার চার-ছক্কার স্বল্পদৈর্ঘ্যরে ক্রিকেটে ফিরে আবার বাজিমাত দলটির। গত ১১ আসরের সাতটির ফাইনালে খেলে ধোনিরা। তাতে ২০১০, ২০১১ ও ২০১৮ (গতকাল) চ্যাম্পিয়ন এবং ২০০৮, ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৫ সালে রানার্সআপ হয় চেন্নাই।
ফাইনালে সংগ্রহটা একেবারে মন্দ ছিল না হায়দরাবাদের। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৮ রানের পুঁজি গড়ে। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ৪৭ ও ইউসুফ পাঠানের অপরাজিত ৪৫ রানের ওপর ভর করে এ সংগ্রহ পায় দলটি। ব্যাট হাতে সাকিবের অবদান ১৫ বলে ২৩ রান। এ ছাড়া শিখর ধাওয়ান ২৬ ও ব্রাফেট করেন ২১ রান। জেতার জন্য ধোনির দলকে ১৭৯ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেন সাকিবরা। রশিদ খান, সাকিব, ভুবনেশ্বর কুমার, সন্দ্বীপ শর্মা, সিদ্ধার্থ কাউলদের মতো পরীক্ষিত বোলাররাও ওয়াটসনের উইলোবাজি রুখতে পারেননি। হায়দরাবাদের বোলারদের গলির বোলারে নামিয়ে এনে ৮ উইকেট এবং ৯ বল হাতে রেখে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান ওয়াটসন।
ইনিংসের শুরুটা কিন্তু ভালো ছিল না চেন্নাইয়ের। স্কোর বোর্ডে ১৬ রান তুলতেই ফাফ ডু প্লেসিকে হারায় দলটি। ১০ রান করে সন্দ্বীপের বলে সাজঘরে ফেরেন প্লেসি। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ওয়াটসন-সুরেশ রায়না জুটি। এ দুজনের ১১৭ রানই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। চেন্নাইকে এনে দেয় একতরফা জয়ের স্বাদ। ৩২ রান করে ব্রাফেটের শিকার হন রায়না। এর পর বাকিটা পথ রাইডুকে নিয়ে পাড়ি দেন ওয়াটসন। শেষ পর্যন্ত ১৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ওয়াটসনের সঙ্গে জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়েন রাইডু। বল হাতে এদিন ব্যর্থই ছিলেন সাকিব। ১ ওভারে ১৫ রান দেন। হায়দরাবাদের সবচেয়ে সফলতম বোলার রশিদ খান ৪ ওভার বল করে ২৬ রানে ছিলেন উইকেটশূন্য।
ফাইনাল ভাগ্য এতদিন মন্দ ছিল না সাকিবের। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আগে দুবার ফাইনালে ওঠে দুবারই শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন। গেল সাত মৌসুম কলকাতায় কাটিয়ে এবার নতুন দল হায়দরাবাদের ডেরায় ভেড়েন। দলকে ফাইনালে তুলে আনলেও শিরোপা জেতাতে পারেননি। হায়দরাবাদকে শিরোপা জেতাতে পারলে মোস্তাফিজের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে শিরোপা জয়ের সাক্ষী হতে পারতেন। ফাইনালের পারফরম্যান্সটা একপাশে রাখলে একেবারে খারাপ ছিল না সাকিবের হায়দরাবাদ জার্নি। ১৭ ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে ২১.৭২ গড়ে ২৩৯ রানের পাশে ১৪ উইকেট শিকার করেছেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার।
চেন্নাইয়ের কাছে এবার শুরু থেকেই পাত্তা পায়নি হায়দরাবাদ। গ্রুপপর্বে দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরেছে। একটি ৪ রানে, অপরটি ৮ উইকেটে। এর পর প্রথম কোয়ালিফায়ারেও চেন্নাইয়ের কাছে হারে হায়দরাবাদ। সেখানে পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ২ উইকেটে। ধোনির দলের বিপক্ষে ফাইনালসহ চার ম্যাচ খেলে চারটিতেই হারের তেতো স্বাদ পায় উইলিয়ামসনের হায়দরাবাদ।  

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে