মেয়েদের ঐতিহাসিক জয়

এ থেকে আরও সাফল্যের ভিত রচিত হোক

  অনলাইন ডেস্ক

১১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ জুন ২০১৮, ০১:৫১ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপে জয়ের ধারাতেই ছিল। শেষ পর্যন্ত তারাই এশিয়া কাপ জয়ী হয়েছে। এ পর্যন্ত এশিয়া কাপের সব আসরের চ্যাম্পিয়ন দল ভারতকে তারা ফাইনালে পরাস্ত করে কাপ ছিনিয়ে নিয়েছে। যে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এটি বাংলাদেশের প্রথম অর্জন। সে দিক থেকে মেয়েরা ইতিহাস সৃষ্টি করল। ছেলেরা দ্বিপক্ষীয় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে অনেক বার, কিন্তু স্বীকৃত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জয় করতে পারেনি। মেয়েদের এ অর্জন আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। অধিনায়ক সালমা ও দলে সব সদস্য কর্মকর্তা কোচসহ সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন।

এবারের ঈদে মেয়েদের এ সাফল্য জাতির জন্য সবচেয়ে বড় উপহার। এ বিজয় ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিল। এ টুর্নামেন্টে মেয়েরা কেবল প্রথম খেলায় শ্রীলংকার কাছে হেরেছিল। তবে তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সিরিজের পাঁচটি ম্যাচই হেরে এসেছিল। টানা ৬ হারের পর এবারের টানা ৫টি বিজয় এক মধুর চমক। এভাবে সালমা-রুমানারা ঘুরে দাঁড়াবে তা হয়তো আমাদের ক্রিকেট কর্তারাও ভাবতে পারেননি। কিন্তু মেয়েরা প্রমাণ করল তারা অদম্য, তারা ঘুরে দাঁড়াতে জানে।

এশিয়া কাপে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া আমাদের চেয়ে দুর্বল, বাকি ৩টি দল ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা আমাদের তুলনায় শক্তিশালী। র্যাংকিং ও মাঠের খেলায় এতকাল এটাই ছিল সত্য। কিন্তু এবারের এশিয়া কাপের পর হিসাব পাল্টে গেল। বাংলাদেশের মেয়ে ক্রিকেট দলকে এখন থেকে হিসাবে রাখতে হবে। তাতে আবার খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বাড়ল। অর্জিত সম্মান ও সবার প্রত্যাশা রক্ষার দায় এখন তাদের। বিসিবি মেয়েদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমরা আশা করব তারা আসল কাজে মনোযোগ দেবেন। মেয়েদের ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজে যথাযথ পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করবেন। যে কোনো সাফল্য কেবল আনন্দের উৎস নয়, তা সবার জন্য পথের দিশাও তৈরি করে। এ সাফল্য থেকে সেই দিশার পথ ধরে আরও সাফল্যের ভিত রচিত হবেÑ এ আমাদের প্রত্যাশা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে