ট্রাম্প-কিম বৈঠক

চমকের সঙ্গে আশাবাদও সৃষ্টি হয়েছে

  অনলাইন ডেস্ক

১৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ০০:৪৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

বহু প্রতীক্ষিত ট্রাম্প-কিম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্ষুদ্র নগর রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের দ্বীপ রিসোর্ট সেনটোসার এক হোটেলে। দুই সপ্তাহ আগেও বৈঠকের ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত, তার দুসপ্তাহ আগে দুই নেতা পরস্পর সম্পর্কে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু দুজন ভিন্ন বয়সী আত্মম্ভরী মেজাজের মানুষ সবাইকে বিস্মিত করে হঠাৎই পরিস্থিতির সব উত্তাপ ও অনিশ্চয়তাকে দূর করে বৈঠকটি সম্ভব করে তুললেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরীয় নেতার বয়সে ব্যাপক তফাত থাকলেও তাদের ব্যক্তিত্বে কিছু মিল আছে তারা দুজনেই উগ্রভাবে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী, কর্তৃত্ব পছন্দ করেন, সরাসরি মনোভাব ব্যক্ত করতে অভ্যস্ত এবং তাদের মেজাজ ও মর্জি দ্রুতই পাল্টাতে পারে। ফলে এই বৈঠক অনুষ্ঠানের এবং বৈঠকের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কখনো কাটেনি। বৈঠকটি হওয়ার পর মনে হচ্ছে এটি এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ এক বৈঠক হয়েছে যার তুলনা চলতে পারে ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের চীন সফর ও তার ফলের সঙ্গে।

দেহভাষা বিশেষজ্ঞরা দুনেতার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে দৃশ্যমান আত্মবিশ্বাসের আড়ালে অতিরিক্ত সতর্কতার মনোভাব দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু হাত মিলিয়ে পরস্পরকে সম্বোধনের পরই তারা সহজ হয়ে যান। কিমের পিতার বয়সী ট্রাম্প বৈঠকের আগেই বলেছিলেন, এটি মস্তবড় ঘটনা হতে যাচ্ছে। পরে তার প্রতিক্রিয়ায় আরও সন্তুষ্টি ও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। যে কিমকে তিনি রকেটম্যান আখ্যা দিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন মাত্রই মাসখানেক আগে, বৈঠকের পর দরকষাকষিতে অত্যন্ত পারঙ্গম এক যোগ্য নেতা হিসেবে অভিহিত করে তার প্রশংসা করেছেন। বৈঠক সম্পর্কে ট্রাম্প মুক্তকণ্ঠে সাফল্যের দাবি করেছেন এবং শীর্ষ বৈঠকের পর তারা স্ব স্ব জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে যৌথ বৈঠক করে লাঞ্চ সেরেছেন। এর পরই দুই নেতা একটি বিস্তারিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তার পর সংবাদ সম্মেলনে আরও খোলামেলা কথা বলছেন।

কিম উন জং মনে করেন, এ পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক বাধা পেরোতে হয়েছে। তবে সেসব প্রতিবন্ধকতাকে তিনি অতীতের বিষয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। বস্তুত এক মাস আগে আকস্মিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সীমান্তে তার বৈঠকের মাধ্যমেই জট খুলতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরীয় নেতার আগ্রহ ও আন্তরিকতাই বেশি ছিল তা বোঝা গেছে। তবে পশ্চিমা বিশ্বের চাহিদা সম্পূর্ণ মিটিয়ে শেষ পর্যন্ত এ ঐতিহাসিক বৈঠক থেকে তার কী প্রাপ্তি ঘটবে তা এখনই বলা মুশকিল।

এক অর্থে ১৯৫০ সালে কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তা আজও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে বলা যাবে না। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে তা বন্ধ রয়েছে, কিন্তু যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা কোনো পক্ষই দেয়নি। সেদিক থেকেও এ বৈঠকের গুরুত্ব অনেক। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রত্যাশা হলো চুক্তির পর উত্তর কোরিয়া একতরফা নিঃশর্তভাবে বিপারমাণবিকীকরণে আন্তরিক হবে এবং তা হবে সম্পূর্ণ, অন্য পক্ষের যাচাইয়ের সুবিধা সংবলিত এবং কোনো অবস্থাতেই এ চুক্তি থেকে পিছু হটা যাবে না। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, কিম চটজলদি এ রকম শর্তে রাজি হবেন না। ট্রাম্প অবশ্য বৈঠক-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় জানিয়ে দিয়েছেন তারা আবার বসবেন, তাদের মধ্যে আরও অনেক বৈঠক হবে। এমন কথা কিমেরও। ফলে বোঝা যাচ্ছে ১২ জুনের বৈঠকটির সত্যিকার অর্থে ঐতিহাসিক তাৎপর্য পেতে হলে দুই নেতার আরও পরিশ্রম, দক্ষতা, ধৈর্যশীল তৎপরতা, দূরদর্শিতার প্রয়োজন হবে। সেই সঙ্গে একদিকে চীন-রুশ ও অন্যদিকে পশ্চিমা শক্তিধর দেশের যথাযথ সমঝোতা-প্রয়াসী ভূমিকার প্রয়োজন থাকবে।

তবে এ কথা অনস্বীকার্য কিম-ট্রাম্পের বহু প্রতীক্ষিত বৈঠকটি যেমন চমক সৃষ্টি করেছে তেমনি বিশ্বব্যাপী তৈরি করেছে ব্যাপক আশাবাদ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে