বিদেশে কারাবন্দি

প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা বন্ধ করুন

  অনলাইন ডেস্ক

২২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ জুন ২০১৮, ০১:৩৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি আমাদের প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী সংসদে এক প্রশ্নোত্তরে জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের কারাগারে ৫ হাজারের বেশি মানুষ বন্দি আছেন। খবরটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। মন্ত্রী মহোদয় বন্দির সংখ্যাটি উল্লেখ করলেও তাদের মুক্তির ব্যাপারে সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেননি। তা ছাড়া বিদেশের কারাগারে বন্দিদের পরিচয়, তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রত্যেকের মামলার পরিস্থিতি সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের বিপুল মানুষ বিদেশে কর্মরত। তবে তাদের মধ্যে অনেকে দালালের খপ্পরে পড়ে সঠিক কাগজপত্রের অভাবে আইনি সমস্যায় আছেন। কেউ কেউ বৈধ অবস্থানের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ডলার উপার্জনের আশায় থেকে গিয়ে আইনি জটিলতায় পড়েছেন। বন্দিদের মধ্যে অল্প কিছু নিশ্চয় রয়েছেন যারা ফৌজদারি অপরাধের আসামি। যেহেতু বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের পাঠানো অর্থের ওপর দেশের অনেক পরিবার নির্ভরশীল এবং তার চেয়েও বড় কথা, তাদের পাঠানো অর্থের কারণেই দেশের অর্থনীতি আজ চাঙ্গা রয়েছে, তাই তাদের কল্যাণে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে আমরা প্রায়ই অভিযোগ পাই সেসব দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে। শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষ সাধারণত প্রাপ্য কনস্যুলার সহায়তা পান না বলেই অভিযোগ রয়েছে। অতিসম্প্রতি সৌদি আরব থেকে বিপুল পরিমাণ নারী শ্রমজীবী ফিরে আসছেন কর্মস্থলে অশেষ ভোগান্তির শিকার হওয়ার পর। দূতাবাস তাদের প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করছে, কিন্তু প্রয়োজন ছিল কর্মপরিবেশ উন্নত করার ব্যাপারে সে দেশের কর্মকর্তা পর্যায়ে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠা।

আমাদের অর্থনীতিতে অভিবাসী শ্রমজীবীদের অবদান আরও বেশ কিছুদিন প্রয়োজন হবে। তাই আশা করব সরকার বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আগে তাদের কাগজপত্রের বৈধতা, নিয়োগ ও বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবশ্যই নিয়মিত তদারক করতে হবে। দেশের যেসব নাগরিক মাতৃভূমিতে আত্মীয়স্বজনকে ছেড়ে দূর বিদেশে বৈরী আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিবেশে কঠোর পরিশ্রম করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল ও চাঙ্গা রাখেন তাদের প্রতি জাতির কর্তব্য রয়েছে। সেখানে অবহেলা চলতে দেওয়া যায় না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে