স্ত্রীর মর্যাদা না পেয়ে...

  ঝালকাঠি প্রতিনিধি

১২ জুলাই ২০১৮, ০২:৪৯ | আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৮, ১০:১০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে এক দম্পতির হাতে লাঞ্ছিত হয়ে আত্মহত্যা করতে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন এক তরুণী। বর্তমানে আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঝালকাঠিতে।

জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ আলমের (৭২) কাছে স্ত্রীর মর্যাদা চেয়েছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারজানা ববি নাদিরা (২৫)। তার ভাষ্য, শাহ আলম তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েছেন গত তিন বছর আগে এবং এতদিন ধরে তিনি স্ত্রীর মতোই নাদিরাকে ব্যবহার করে আসছিলেন।

গতকাল দুপুরে নাদিরা শাহ আলমের কাছে স্ত্রীর মর্যাদা দাবি করেন। একপর্যায়ে সেখানে শাহ আলমের স্ত্রী জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী শাহানা আলম এসে উপস্থিত হন এবং নাদিরার ওপর চড়াও হন। জেলা পরিষদ ভবনে সবার সামনেই নাদিরাকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন শাহানা আলম। এর পরপরই দোতলা পরিষদ ভবনের ছাদে উঠে সেখান থেকে লাফিয়ে পড়েন নাদিরা। তিনি এখন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নাদিরা ওই জেলা পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাদিরাকে থাপ্পড় মারতে মারতে চেয়ারম্যানের কক্ষের বাইরে নিয়ে আসেন শাহানা আলম। ঘটনাস্থলে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাহ-আলম ও তার স্ত্রী তাদের গাড়িতে উঠে জেলা পরিষদ ত্যাগ করার সময় নাদিরাও তাদের গাড়িতে উঠতে চেষ্টা করেন। নাদিরাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে দেন চেয়ারম্যানের স্ত্রী। রাগে-এর পরই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নাদিরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাদিরা বলেন, সরদার শাহ আলমের স্ত্রীর মর্যাদা পাওয়ার জন্য আমি প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেব। যার স্ত্রী হওয়ার জন্য এতো ঘটনা, সেই সরদার মো. শাহ-আলমের কোনো ভাষ্য জানা যায়নি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে