বিশ্বকাপ আসরে নারী ক্রিকেট দল

স্কটল্যান্ডকে ৪৯ রানে হারিয়ে বাছাইয়ের ফাইনালে

  এম.এম. মাসুক

১৩ জুলাই ২০১৮, ০১:৪৩ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ১১:৫০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৮-এর বাছাইপর্বে ফেভারিটের তকমা গায়ে এঁটে খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। তবে ফেভারিটের মতোই দাপুটে ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন সালমা-রুমানারা। গ্রুপপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে।

এখানেও বাজিমাত করেছেন লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। গতকাল বাছাইপর্বের সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডকে ৪৯ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। এ জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলাও নিশ্চিত করল নারী ক্রিকেট দল। আগামী নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বসবে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। টুর্নামেন্টে ১০ দল অংশ নেবে। এ ১০টি দলের একটির নাম এখন বাংলাদেশ।

এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে মেয়েরা। ২০১৪ সালে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়েছিল বাংলাদেশে। ওই বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে খেলে। ২০১৬ সালে বাছাইপর্ব খেলেই বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে উঠেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই ধারা এবারও বজায় রাখল সালমা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দলটি। বাছাইপর্বের ফাইনালে সালমাদের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড।

নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনে সেমিফাইনালে টস হেরে আগে ব্যাটিং পায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান সংগ্রহ করেন সালমারা। জবাবে ৭ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রানে থেমে যায় স্কটল্যান্ডের ইনিংস। স্কোরই বলছে, অল্প পুঁজি পেয়েও জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি তাদের। বাংলাদেশের নারী দলের বোলিং খুবই ধারালো। গ্রুপপর্বের প্রতি ম্যাচেই বোলিংয়ে নৈপুণ্য দেখিয়ে যাচ্ছে। জয় এনে দিচ্ছেন মূলত বোলাররাই। সেমিফাইনালে আবার বোলাররা কৃতিত্ব দেখালেন। নাহিদা-রুমানাদের সামনে স্কটল্যান্ডের চার ব্যাটারকে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। আগের ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়া ফাহিমা খাতুন সারা ব্রায়েসের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নেন। স্কটল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন ব্রায়েস। অধিনায়ক সালমা খাতুনও একটি উইকেট পান। ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করায় সেমিফাইনালে ম্যাচসেরা হন রুমানা আহমেদ।

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শামিমা ও আয়েশা ৫১ রানের দারুণ সূচনা এনে দেন। শামিমা ২২ ও আয়েশা ২০ রান করে সাজঘরে ফেরার পর বাংলাদেশ লড়াকু পুঁজি পায় নিগার সুলতানার ব্যাটে। ২টি চারের সাহায্যে ৩৬ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংস খেলেন নিগার সুলতানা। সানজিদা ১৯ ও ফাহিমার ১৫ রানের দুটি ছোট ইনিংস পুঁজি বড় করেছে। এর আগে গ্রুপপর্বে তিনটি ম্যাচ খেলে প্রত্যেকটিতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। তাতে গ্রুপপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে মেয়েরা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ঈর্ষণীয় সাফল্য পাচ্ছে। ক’দিন আগে বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়েছে। এর আগে মেয়েদের হাত ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শিরোপার দেখা পায় বাংলাদেশ। ভারত-পাকিস্তানের মতো দলকে মাটিতে নামিয়ে এশিয়া কাপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতেছে সালমা-রুমানারা। এবার আরেকটি সাফল্য যোগ হলো তাদের নামের পাশে। তবে সালমাদের দৃষ্টি এখন ফাইনালের দিকে। গত বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ফাইনালে আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরেছিলেন। আগামীকাল ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে