আইসিসিতে স্পিকার

অন্যায়-বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়তে দৃঢ় প্রত্যয়ী বাংলাদেশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৮, ০১:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোম সংবিধি গ্রহণের বিংশতমবার্ষিকী উপলক্ষে গত সোমবার নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) আয়োজিত সিম্পোজিয়ামে অংশ নিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। সেখানে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আইসিসির কাছে বাংলাদেশ ‘রুলিং’ প্রত্যাশা করেছে বলে গতকাল সংবাদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল। পরে স্পিকারকে উদ্ধৃত করে রোহিঙ্গাবিষয়ক বক্তব্যে সংশোধন এনেছে সংসদ সচিবালয়। এতে ‘রুলিং প্রত্যাশার’ লাইনটি বাদ দিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।
সিম্পোজিয়ামে স্পিকার বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববাসী মিয়ানমার কর্তৃক একটি সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রত্যক্ষ করল। জাতিসংঘ ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনাটিকে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এখন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
স্পিকার বলেন, মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হলেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্যা আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-১-এ উপস্থাপন করেছে। বাংলাদেশ সর্বজনীন রোম সংবিধির গুরুত্বকে স্বীকার করে এবং আদালতের সকল লক্ষ্য অর্জনে অব্যাহতভাবে সমর্থন করে যাচ্ছে। অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়তে বাংলাদেশ দৃঢ়প্রত্যয়ী। অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশ্ববাসীর সঙ্গে বাংলাদেশ সহযাত্রী হবে।
রোহিঙ্গা বিতাড়নের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা প্রশ্নে বাংলাদেশের মতামত জানতে চেয়ে গত মে মাসে চিঠি দিয়েছিল হেগের আন্তর্জাতিক আদালত। জুনের শুরুতে বাংলাদেশ সরকার ওই চিঠির জবাব দিয়েছে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। কিন্তু সেখানে মিয়ানমারের বিচারের পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট করা হয়নি। মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য না হওয়ায় সেখানে সংঘটিত অপরাধের বিচার করার সরাসরি কোনো এখতিয়ার এ আদালতের নেই।
কিন্তু লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বিতাড়িত করে যেভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়েছে, তার বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আছে কিনা, তা জানতে রুল চেয়ে হেগের ওই আদালতের কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদা গত এপ্রিলে একটি আবেদন করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের মতামত পাওয়ার পর মিয়ানমারের বক্তব্য জানতে চেয়ে সময় বেঁধে দিয়েছে আইসিসি। আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে মিয়ানমারকে এর জবাব দিতে হবে।
রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওই দমন-পীড়নের মুখে গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করলেও মিয়ানমার বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

 

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে