স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম

অধিদপ্তরের নির্দেশনায় কাজ হলেই ভালো

  অনলাইন ডেস্ক

২১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৮, ০১:২৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য খাতে নানা অনিয়মের কারণে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ঘটনাচক্রে সেই ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটতে দেখা যায়, কখনো কখনো যা ভয়ানক রূপ নিতে থাকে। সরকারি হাসপাতাল আর বেসরকারি ক্লিনিক উভয় ক্ষেত্রেই অনিয়ম ও অবহেলা ঘটছে এবং রোগীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় ভাঙচুর, মারধর, ধর্মঘটের মতো ঘটনাও ঘটছে। বিভিন্ন ঘটনার কথা বাদ দিলেও এ কথা সবাই মানবেন যে, আমাদের স্বাস্থ্যসেবার মান আশানুরূপ নয়। এর পেছনে অনেক কারণের মধ্যে ডাক্তারদের অনিয়ম ও অবহেলা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা খাতটির মূল কার্যক্রম অর্থাৎ রোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। তারা যদি নিজেদের দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ও মনোযোগী না হন তা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে কীভাবে?

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত রোগী-চিকিৎসক একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের পালনের জন্য একটি ‘কড়া নির্দেশ’ জারি করেছে। ‘চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ নিষ্পত্তিকরণে এবং চিকিৎসাসেবা ও পণ্যের মানোন্নয়নে করণীয় প্রসঙ্গে’ শীর্ষক এই সুস্পষ্ট নির্দেশনা বিজ্ঞপ্তি আকারে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে প্রেরণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে সাতটি বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসকদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি, ভর্তি রোগীদের যাবতীয় তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ, দরপত্র মোতাবেক পণ্যের মান নিশ্চিত করা, নিজ প্রতিষ্ঠান বা অধীনস্থ কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনোরূপ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জরুরিভাবে অবহিত করা, নিয়ন্ত্রণকক্ষের হটলাইন নম্বরটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক স্থানে প্রদর্শন, সরবরাহকৃত সরকারি ওষুধের তালিকা নিয়মিতভাবে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছে হালনাগাদ করে পৌঁছানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও যতœশীল হওয়া।

এসবই বস্তুতপক্ষে সাধারণ বিরাজমান নিয়ম। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারি অফিসে নিয়ম মানার চেয়ে ভাঙার রেওয়াজ কম নয়। আর বেসরকারি খাতেও নিয়ম ভেঙে অধিকতর মুনাফার প্রবণতা রয়েছে। দুর্নীতি-অদক্ষতা এবং কর্তব্যে অবহেলা আমাদের পিছু ছাড়ছে না। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনও বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান শুরু করেছে। তাতে পরিস্থিতির একটু উন্নতি হতে পারে।

জনগণ সরকারি হাসপাতালের সার্বিক মানোন্নয়ন চায়, রোগী-চিকিৎসক সম্পর্কের উন্নয়ন চায়, ওষুধ ও পথ্যের মান বৃদ্ধি চায়, সর্বোপরি চায় চিকিৎসা ও সেবার মানোন্নয়ন। সরকারি হাসপাতালে পরিস্থিতির উন্নতি হলে তার প্রভাব বেসরকারি ক্লিনিকেও পড়বে। দেখা যাক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশনা, অধিকতর নজরদারি এবং দুদকের তৎপরতায় কিছু কাজ হয় কিনা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে