ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

  অনলাইন ডেস্ক

২২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ০১:২০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীসহ সারাদেশে ছিনতাই বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়েছে। ঢাকার শ্যামপুরের পোস্তগোলা ব্রিজের অদূরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাসচালক সুমন। মর্মান্তিক এ ঘটনা গত ১৫ জুন মধ্যরাতের। খুনিদের ধরা তো দূরের কথা, দুই থানার (শ্যামপুর ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ) দায় এড়ানোতে গত ৩৫ দিনে মামলাই হয়নি। মামলা বা তদন্তের দায়িত্ব না নিলেও ময়নাতদন্ত ছাড়াই সুমনের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে শ্যামপুর থানার পুলিশ। ছুরিকাঘাতের পর আশপাশে কাউকে না পেয়ে সুমন নিজেই একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন। পরদিন সেখানকার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনায় ময়নাতদন্ত করার নিয়ম। পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ ফেরত দিতে পারে না। নিহতের পরিবার মামলা করতে না পারলে বা অপারগতা প্রকাশ করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার কথা। মামলা দায়ের বা ময়নাতদন্ত না হলে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে বুঝতে হবে।

বিপদের কথা হলো, ছিনতাইকারীরা এখন শুধু লোকজনের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়েই ভাগছে না, ছুরিকাঘাত করছে, এমনকি গুলি করতেও দ্বিধা করছে না। ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা যত ঘটছে, সে তুলনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার, বিচার ও শাস্তির ঘটনা খুবই কম। বিচারহীনতার পরিবেশে সব অপরাধীর সাহস বাড়ে। পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব আন্তরিকভাবে তৎপর থাকলে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য এভাবে বাড়ত না।

সবাই বিশ্বাস করতে চায়, পুলিশ আন্তরিক হলে অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অসম্ভব নয়, যার প্রমাণ বিভিন্ন সময় একাধিক ঘটনায় পাওয়া গেছে। বিপরীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অপরাধ সংশ্লিষ্টতার নজিরও নেহাত কম নয়। ছিনতাই বেড়ে যাওয়া এবং কোনো ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকেও গ্রেপ্তার করতে না পারা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। আমাদের পরামর্শ হলো, পুলিশকে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল এটা করা যেতে পারে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে