প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র নিয়ে কিছু কথা

  মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

২২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ০১:২০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন, জনপ্রতিনিধি, গণতন্ত্র ইত্যাদি নিয়ে কথাবার্তা কম হচ্ছে না। কিন্তু বিষয়গুলোর গভীরে কেউ খুব একটা যাচ্ছেন না। কিন্তু সে কাজটি খুবই জরুরি। তা না হলে এসব নিয়ে মানুষকে ‘হাইকোর্ট’ দেখিয়ে অশুভ উদ্দেশ্য হাসিলের প্রয়াস চলতেই থাকবে। তাই কিছুটা কঠিন ও তাত্তিক কথাবার্তা বলে মনে হলেও ‘প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র’ সম্পর্কে দু-চার কথা আজ এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

অনেকে ভাবেন, গণতন্ত্র হলো মানুষের ‘যা ইচ্ছা তাই করার’ অধিকার। কিন্তু এ ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ প্রথমত, কোনো মানুষের পক্ষেই সমাজ ও প্রকৃতির বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে ‘যা ইচ্ছা তাই করা’ সম্ভব নয়। তা ছাড়া যদি তা সম্ভব হতোও তা হলে এর ফলে সমাজে সৃষ্টি হতো ফ্রিস্টাইল নৈরাজ্য। অবাধ গণতন্ত্রকে এই ইচ্ছানিরপেক্ষ একটা সীমার মধ্যে কার্যকর হতে হয়। আসলে সবাইকে ‘যা ইচ্ছা তাই করতে দেওয়াটা’ নয়, বরং কাউকেই ‘যা ইচ্ছা তাই করতে না দেওয়াটাই’ হলো গণতন্ত্র। তাই কোথায় গণতন্ত্রের সীমা সেটি আগে ভালোভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

আমরা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র ‘ব্যক্তি সত্তা’সম্পন্ন মানুষ। সেই অর্থে আমরা সবাই ‘পৃৃথক’ ও ‘স্বাধীন’। কিন্তু আমাদের এই ‘স্বতন্ত্র-পৃথক-স্বাধীন’ সত্তা সর্বাংশে ও ষোল আনা পরিমাণে নিরঙ্কুশ নয়। সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার কাঠামোর অধীনে থেকেই একজন মানুষের ‘ব্যক্তি সত্তা’ অভিপ্রকাশিত হয়। তাই বলা যায়, ‘ব্যক্তি সত্তার’ পাশাপাশি মানুষমাত্রেরই রয়েছে একটি ‘সামাজিক সত্তা’।

আদিকাল থেকেই মানুষ হলো ‘সামাজিক জীব’। প্রধানত সমাজবদ্ধ হতে পারার কারণেই প্রাণিজগতের অন্যান্য জীবকে ছাড়িয়ে গিয়ে ‘প্রকৃতি’ শুধু তার জন্য ‘মানব’ স্তরে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব করেছে। ‘সমাজবদ্ধ-শ্রম’ তার উদ্ভবকেই শুধু সম্ভব করেনি। ক্রমবিবর্তনের ধারায় সেটিই তাকে লালন ও বিকশিত করেছে। মানুষের মস্তিষ্ক, ইন্দ্রিয়গুলো, শারীরিক গঠন, চেতনা ইত্যাদি সবকিছুই সম্ভব হয়েছে ‘সামাজিক শ্রমে’ তার সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়ায়। সে কারণে প্রতিটি মানুষের ‘ব্যক্তি সত্তা’ স্বাধীন হলেও তা সমাজ বাস্তবতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দ্বারা প্রভাবিত ও শর্তাবদ্ধ। এই সীমাকে মেনে নিয়েই কেবল সমাজের প্রতিটি ‘ব্যক্তি মানুষের’ স্বাধীন ও কর্তৃত্বসম্পন্ন হয়ে ওঠা সম্ভব।

কিন্তু কেবল ‘ব্যক্তি সত্তা’ ও ‘সামাজিক সত্তাই’ মানব অস্তিত্বের সবটুকু নয়। ‘মানুষ’ কেবল তার ব্যক্তি সত্তা এবং সামাজিক সত্তার জোরেই বেঁচে থাকে না। তাকে বাঁচতে হয় প্রকৃতি-জগতের নির্দিষ্ট বাস্তবতার মাঝে। এককভাবে বা সমাজবদ্ধভাবে প্রকৃতি-জগতের কিছু কিছু বিষয়কে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত করার শক্তি ও ক্ষমতা মানুষের আছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও তার ক্ষমতা অসীম বা একচ্ছত্র নয়। প্রকৃতি-জগতের অনেক কিছুকে মেনে নিয়েই তাকে চলতে হয়। এ ক্ষেত্রেও তার স্বাধীনতা বিমূর্তভাবে অসীম নয়। আসলে প্রকৃতি ও সমাজের আরোপিত সীমার মাঝেই কেবল মানুষের পক্ষে তার আপন ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হওয়া সম্ভব। এই সীমার মধ্যে থেকেই প্রতিটি মানুষের নিজেই নিজের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকারের ব্যবস্থাই হলো ‘গণতন্ত্র’।

এমন একটি ধারণা ব্যাপকভাবে প্রচলিত যে, কোনো একটি দেশে গণতন্ত্র আছে কী নেই তা বিচারের জন্য সে দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন ও নির্বাচিত সরকার থাকাটিই একমাত্র বা প্রধান বিবেচ্য বিষয়। কিন্তু একটি দেশে পূর্ণ গণতন্ত্র আছে কী নেই কিংবা থাকলেও তা কতটা আছে, তা বিচারের জন্য এটি একটি ‘প্রয়োজনীয় শর্ত’ হলেও তা ‘যথেষ্ট শর্ত’ নয়। সত্যি কথা বলতে কী, গণতন্ত্রের আসল মর্ম বিরাজ করে অন্যান্য এবং আরও মৌলিক ভিন্ন উপাদানের মাঝে। রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি তথা মানুষের বাস্তব জীবনের সব ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে মানুষের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ থাকার মাঝেই কেবল তার নিদর্শন পাওয়া যেতে পারে।

‘গণতন্ত্র’ একটি রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রপঞ্চ। ‘প্রকৃত-গণতন্ত্র’র (ৎবধষ ফবসড়পৎধপু) ভিত্তি হচ্ছে বহুমাত্রিক। তার নানা সুগভীর ও তাৎপর্যময় অর্থনৈতিক ও সামাজিকমাত্রিকতা রয়েছে। আবার তার অনেক রাজনৈতিক উপাদানও আছে। কেবল রাজনৈতিক উপাদানকে ভিত্তি করে ‘প্রকৃত গণতন্ত্রে’র সবটার প্রকাশ হয় না। হয় কেবল ‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্রের’ (ঢ়ড়ষরঃরপধষ ফবসড়পৎধপু) প্রকাশ। আবার রাজনৈতিক উপাদানগুলোকে বাদ দিয়ে শুধু অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াদির মধ্যে আটকে থাকলেও ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ পরিপূর্ণ হতে পারে না।

‘প্রকৃত গণতন্ত্র’র ধারণাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে হলে তাকে তার গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উপাদানের এই সামগ্রিকতার আলোকেই বিবেচনা করতে হবে। জাতিগত ও শ্রেণিগত সব ধরনের বৈষম্যের অবসান, জাতিগত-ধর্মগত-জেন্ডারগত সম-অধিকারের নিশ্চয়তা, উৎপাদন উপকরণ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর সামাজিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রের সামনে নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কিংবা আমির-ফকির নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান মর্যাদা, সবার জন্য সুযোগের সমতা, রাষ্ট্র পরিচালনাসহ সমাজজীবনের সব ক্ষেত্রে জনগণের সমবেত ইচ্ছাশক্তির কার্যকর কর্তৃত্বের ব্যবস্থা এসব হলো ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’র আবশ্যিক শর্ত। রাষ্ট্র ও সমাজজীবনে ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য এসব শর্ত পূরণ অপরিহার্য। কিন্তু শ্রেণিবিভক্ত ও শোষণভিত্তিক বর্তমান সমাজকাঠামোর মধ্যে এসব নিশ্চিত করা মোটেও সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার আমূল বিপ্লবী পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ অভিমুখে বিকাশের ধারা সূচনা করা। শ্রেণিহীন ও শোষণমুক্ত সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থাই কেবল সেই আকাক্সিক্ষত ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ নিশ্চিত করতে সক্ষম।

কিন্তু সমাজ বিপ্লবের এই কাজটি কোনো সহজ-সরল ব্যাপার নয়। কেউ চাইলেই তা রাতারাতি সংঘটিত করে ফেলতে পারে না। সে জন্য কঠিন শ্রেণি সংগ্রামসহ নানা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পথ করে নিতে হয়। ‘প্রকৃত-গণতন্ত্র’ ও সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে গণমানুষের সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এবং তার পাশাপাশি বিদ্যমান শোষণমূলক সমাজকাঠামোর মধ্যেও গণতন্ত্রের এসব বহুমুখী উপাদানগুলো যথাসম্ভব প্রসারিত ও গভীরতর করার কাজটি বিশেষত ‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্রে’র উপাদানগুলো যথাসম্ভব দৃঢ়, বিস্তৃত ও গভীরতর করার কাজটি সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যূনতম ‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের দেশের জনগণ কয়েক যুগ ধরে বুকের রক্ত ঢেলে সংগ্রাম করে আসছে। সে সংগ্রামে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক বিজয় অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনিক শ্রেণির কারসাজিতে সে বিজয় বারবার হাতছাড়া হয়ে গেছে। নব্বইয়ে সামরিক স্বৈরশাসন উৎখাতের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তা সত্তে¡ও ‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্র’ অর্জিত হয়নি। বরং দেশ আরও বেশি ‘গণতন্ত্রহীন’ অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। বিএনপির পর দেশ এখন আওয়ামী দুঃশাসনে পিষ্ট। দেশবাসীকে নানা ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক-ফ্যাসিস্ট কার্যকলাপ ও প্রবণতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিপর্যস্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্রের’ যেমন রয়েছে বিশেষ মর্মবস্তু (পড়হঃবহঃ), তেমনি তার আছে অনেক বাহ্যিক উপাদান (ভড়ৎস)। দুটোই গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি অপরটির পরিপূরক ও পরস্পরনির্ভরশীল। সব নাগরিকের জন্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, সবার জন্য নাগরিক অধিকারের গ্যারান্টি, চিন্তা ও বিবেকের পূর্ণ স্বাধীনতা, নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অধিকারের নিশ্চয়তা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, বাক-স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা ও মিডিয়ার স্বাধীনতা, প্রশাসনের ওপর জনগণের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের কার্যকর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ এসব হচ্ছে ‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্রে’র মর্মবস্তু। এই মর্মবস্তুর যথাযথ প্রতিফলনের জন্য একই সঙ্গে প্রয়োজন যথোপযুক্ত কাঠামোগত ব্যবস্থা ও বিধিবিধানের নিশ্চয়তা। বর্তমানে এসব উপাদানের সবগুলোকেই পদদলিত ও ধ্বংসের সম্মুখীন করা হয়েছে।

‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্রের’ কাঠামোগত ব্যবস্থার একটি অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ‘নির্বাচন’। নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে জনগণের ইচ্ছানুসারে গণতন্ত্রসম্মতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার সম্পর্কের মূল যোগসূত্রটি হলো ‘প্রতিনিধিত্বশীলতা’। সব নাগরিকের মতামত আগে জেনে নিয়ে, তার আলোকে দৈনন্দিন ভিত্তিতে প্রতি মুহূর্তের শাসন কাজ চালানো অবাস্তব ও অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে একমাত্র বাস্তবসম্মত বিকল্প পথ হলো, নাগরিকদের মতামতকে সরাসরি গ্রহণ করার অসম্ভব চেষ্টার বদলে, সেসব মতামতকে তাদের নির্দিষ্টসংখ্যক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতিফলিত করে রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালনার ব্যবস্থা করা। সে ক্ষেত্রে যা আবশ্যিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন তা হলো, এসব ‘জনপ্রতিনিধিরা’ যেন নাগরিকদের প্রকৃত প্রতিনিধি হন, তারা যেন অর্থ ও শক্তির সাহায্যে জোর করে ‘বিজয়ী’ হওয়া ভুয়া ‘জনপ্রতিনিধি’ না হন। সেটি করতে হলে জনগণ যেন নির্ভয়ে ও নিজ নিজ স্বাধীন বিচারবুদ্ধি দিয়ে তাদের প্রতিনিধি বাছাই করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। ‘প্রার্থী’ হওয়ার এবং অবাধে নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ‘ভোট’ দেওয়ার ব্যবস্থা, পরিবেশ ও সুযোগের নিশ্চয়তা বিধান একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আবশ্যিক শর্ত। এ কাজটি ঠিক ঠিকমতো সংগঠিত করাই হলো নির্বাচনের উদ্দেশ্য।

নির্বাচন অর্থবহ হতে হবে এবং তা হতে হলে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে তার অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য টাকার খেলা, পেশিশক্তির দাপট, সাম্প্রদায়িক প্রচারণার ধূম্রজাল, প্রশাসনিক কারসাজি ইত্যাদি থেকে নির্বাচনকে মুক্ত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য হলো, গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। এ ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজন হলো ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা’ প্রবর্তন করা। জনগণের প্রতিনিধিরা যদি যথার্থ ও সুুষ্ঠুভাবে নির্বাচিত হয় এবং সেসব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্তৃত্বে যদি রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালিত হয়, তখনই কেবল আমরা তাকে ‘প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র’ বলতে পারি।

গণতন্ত্রের সর্বাঙ্গীণ মর্মকথাকে আড়াল করে অনেকেই ‘প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রকেই’ গণতন্ত্রের শুরু এবং শেষ কথা তথা গণতন্ত্রের সারাৎসার বলে চালিয়ে দিতে চান। জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে বলেই সেসব ‘প্রতিনিধিদের’কেই জনগণের স্থলাভিষিক্ত বলে দাবি করতে চান। ‘জনগণ’ এবং ‘জনগণের প্রতিনিধি’ যে এক জিনিস নয় তা তারা ভুলিয়ে দিতে চান। ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ সংবিধানের ৭ (১) ধারায় বর্ণিত এই দ্ব্যর্থহীন ঘোষণাকে সংসদের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রসঙ্গের সঙ্গে তারা একাকার করে ফেলেন। এ ধরনের চিন্তাকে ‘এমপিতন্ত্র’ বলা গেলেও তাকে কখনই ‘গণতন্ত্র’ হিসেবে তো নয়ই, এমনকি তাকে ‘রাজনৈতিক গণতন্ত্র’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা যায় না। কিন্তু সেসব তো দূরের কথা, সামান্য ‘প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের’ ন্যূনতম ভিত্তিকেও আজ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

গণতন্ত্র নিয়ে মৌলিক বিবেচনার আরও অনেক বিষয় আছে। সেসব নিয়ে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এগুলোই হলো রাজনীতির মুখ্য বিষয়। কিন্তু ‘চলতি হাওয়ার রাজনীতি’তে এ ধরনের রাজনীতি চর্চার সময় কোথায়? ‘রাজনীতি’কে এখন রাজনীতিবিবর্জিত হালুয়া-রুটির কারবার এবং ‘নেতার’ গুণকীর্তনের প্রতিযোগিতায় পরিণত করা হয়েছে। এই অবস্থা বদলাতে হবে। রাজনীতিকে বাঁচাতে হবে! বিরাজনীতিকরণ, রাজনীতির প্রতি বৈরিতা বা রাজনীতিবিমুখতা দিয়ে তা বাঁচানো যাবে না। মূলত আদর্শ, ত্যাগ, দেশপ্রেমের রাজনীতি সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া সত্তে¡¡ও বামপন্থিদের একাগ্র সাধনা সে আলোর শিখাটি এখনো জ্বালিয়ে রেখেছে। এই শক্তিকে জোরদার করে তাকে রাজনীতির প্রধান ধারায় পরিণত করতে পারলেই কেবল রাজনীতিকে বাঁচানো সম্ভব।

য় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

ংবষরসপঢ়ন@ুধযড়ড়.পড়স

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে