sara

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী

বিচার বিভাগ গণতন্ত্রকে বিপন্ন করছে

  আহমেদ রশিদ

২২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ০১:২০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানের স্বল্পস্থায়ী গণতন্ত্রের এবারকার কালপর্বে আসন্ন ২৫ জুলাইয়ের নির্বাচন হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ও ত্রাস-জাগানিয়া। যথাসময়ে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় এখনো ঘোচেনি। পাকিস্তানের কায়েমি রাজনৈতিক ব্যবস্থা তুরস্ক ও মিসরের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করছে বলে মনে হয়। ওই দুই দেশে নির্বাচনের ঠিক আগে আগে ক্ষমতাসীনেরা গণমাধ্যমের ওপর কঠোর হাতে দমনপীড়ন চালায় এবং রাষ্ট্রসমাজ বা সিভিল সোসাইটিকে সন্ত্রস্ত করে তোলে। পাকিস্তানে নির্বাচন তত্ত¡াবধানের জন্য এখন নিরপেক্ষ মধ্যবর্তী একটি বেসামরিক সরকার ক্ষমতাসীন, কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের হাতেই রয়ে গেছে বলে মনে হয়। নির্ভেজাল গণতন্ত্রকে এই দুই প্রতিষ্ঠান নিজের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে গণ্য করে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত দমন-অভিযান সিভিল সোসাইটি কর্মী, বøগার ও মানবাধিকারকর্মী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তবে এদের প্রাথমিক লক্ষ্য গণমাধ্যম। পাকিস্তানের প্রাচীনতম ও প্রচারের দিক থেকে সর্ববৃহৎ ইংরেজি দৈনিক ডনের কথাই ধরুন। একের পর এক হুমকিধমকি, নিষেধাজ্ঞা ও গুরুতর সেন্সরশিপ মোকাবিলা করে পত্রিকাটিকে কাজ করতে হচ্ছে। একদিকে সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের কায়েমি ব্যবস্থা আর অন্যদিকে বেসামরিক রাজনীতিক, এই দুই পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণী প্রতিবেদন ছাপার শাস্তিস্বরূপ পাকিস্তানজুড়ে সেনাঘাঁটিগুলোতে ডন বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পরিবেশকদের বলে দেওয়া হয়েছে তারা যেন পত্রিকাটি না বেচে। টেলিভিশন চ্যানেল সরবরাহকারীরা ডনসংশ্লিষ্ট নিউজ চ্যানেল চালাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তানের বিরাট অংশে পত্রিকাটি পাওয়া যাচ্ছে না।

‘আমাদের হকারদের প্রায়ই পথরোধ ও হুমকিধমকি দেওয়া হয়, সব পত্রিকা তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়’, জুন মাসের মাঝামাঝি জ্যেষ্ঠ সম্পাদকদের এক মিলনমেলায় এ কথাই জানান ডন মিডিয়া গ্রæপের প্রধান নির্বাহী হামিদ হারুন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার কথাও তিনি বলেন।

জাতীয় গণমাধ্যমের পরিবেশ বেদনাদায়ক। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৩৯তম। যেসব ইস্যুতে সেনাবাহিনীর নেতিবাচক ভ‚মিকা সামনে আসে সেগুলো সেন্সর করা কিংবা সংবাদপত্র নিজেই তা না ছাপা এখন প্রায় সর্বব্যাপী রূপ নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অনেকগুলো টিভি স্টেশন তরুণ পশতুনদের নতুন প্রতিবাদী আন্দোলনের খবর প্রচার করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। কারণ তারা সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থাকে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করছে।

গত দুই বছরে বহু সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী নিখোঁজ ও অপহরণের শিকার হন। এদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস আটক থাকার পর ছাড়া পান। কিন্তু কারা তাদের অপহরণ করেছিল অথবা কী কারণে সে কথা বলার সাহস তারা দেখাতে পারেননি। তাদের কয়েকজন, যারা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা মারধর ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন, তবে কারা তাদের নির্যাতন করেছে সে কথা বলেননি। জুন মাসের শুরুর দিকে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব গুল বুখারি অপহৃত হন। একটি টিভি স্টুডিওতে যাওয়ার পথে লাহোরের কেন্দ্রস্থল থেকে পাঁচ গাড়িবোঝাই পুরুষ তাকে তুলে নিয়ে যায়। গুল তার বøগে সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছিলেন। তার সৌভাগ্য যে দ্রæতই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বুখারি অপহৃত হওয়ার আগের দিনই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সেনাবাহিনী গণমাধ্যমের ওপর হুকুম জারি করছে না, তবে মূলধারার কয়েকজন সাংবাদিকের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

গণমাধ্যমের ওপর এই দমনপীড়ন চলছে এমন এক সময়ে যখন সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের কায়েমি ব্যবস্থার সঙ্গে বিদায়ী মুসলিম লীগ সরকারের টানাপড়েন তুঙ্গে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার দলের আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত, যদিও বড় সব দলেই দুর্নীতি ব্যাপক বিস্তৃত। তা ছাড়া পররাষ্ট্রনীতির ওপর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিবেশী ইন্ডিয়া ও আফগানিস্তানের প্রতি বৈরিতা অবসানে সেনাবাহিনীর অস্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জও করেছিলেন শরিফ।

দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ক্ষমতা হারানোর আগে শরিফ ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। চলতি বছরের ৬ জুলাই দুর্নীতিবিরোধী এক আদালত শরিফ, তার মেয়ে মরিয়ম ও মেয়ের জামাইকে দÐিত করে। লন্ডনে থাকা সম্পদের উৎসের ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণাদি দিতে না পারার জন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। শরিফকে দেওয়া হয় ১০ বছরের জেল ও আশি লাখ পাউন্ড জরিমানা আর মরিয়মের হয় সাত বছরের জেল ও ২০ লাখ পাউন্ড জরিমানা। শরিফ ও তার দলের দাবি আদালত ও সেনাবাহিনী নিজ বিশেষ স্বার্থে তাকে কোরবানি দিয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কিছু মুসলিম লীগ নেতাকে দলত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দিতে অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে বলেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মুসলিম লীগের ওপর এমন দমনপীড়নের ফলে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের ‘সেনাঘনিষ্ঠ’ দল তেহরিক-ই-ইনসাফ।

মুসলিম লীগবিরোধী এই অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সেনাবাহিনী একপ্রকার জনপ্রিয় চিন্তায় টোকা দিচ্ছেÑ এমন কথা সামনে আনছে যে বেসামরিক রাজনীতিকেরা দুর্নীতি করে দেশটা ছোবড়া বানিয়ে ফেলছে, আর সেখানে দাঁড়িয়ে তারা রাজনীতির ময়দান সাফসুতরো করছে, সামরিক শাসন জারি না করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করছে। তারই অংশ হিসেবে বছরের শুরুর দিকে সুপ্রিমকোর্ট আদেশ জারি করেন যে নির্বাচনের সব প্রার্থীকে তাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করতে হবে। বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দুনিয়ার নানা প্রান্তে তাদের সম্পত্তি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকার তথ্য প্রকাশ করেছে। যেসব দল ও রাজনীতিক সেনাবাহিনীর ভ‚মিকার প্রকাশ্য সমালোচনা করেনি, যেমন ইমরানের পিটিআই কিংবা পাকিস্তান পিপলস পার্টিÑ তাদের শরিফের মতো কোনো তদন্তের সম্মুখীন হতে হয়নি।

‘বেসরকারি সরকারের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে এক ভীতিকর অভ্যুত্থান ঘটে গেছে’, মন্তব্য করেন ফারহাতুল্লাহ বাবর, যিনি স্পষ্টভাষী এক সাবেক সিনেটর ও বিশিষ্ট বিরোধী নেতা। ‘অতীতের সামরিক আইনের থেকে এবার আলাদা, ফলে যা ঘটেছে তা হলোÑ বেসামরিক সরকার আছে, অথচ তার কর্তৃত্ব নেই; গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে, কিন্তু সাংবাদিকের স্বাধীনতা নেই।’

এখন পর্যন্ত আসন্ন নির্বাচনের ব্যাপারে পাকিস্তানি জনগণের উৎসাহ তেমন দেখা যায়নি। রাজনৈতিক জটিলতা বাড়ছে আর সন্ত্রাসী হামলা ঘটে চলেছে। এখন যে অবস্থা তাতে মনে হয় এ নির্বাচন একটি খÐিত ও দুর্বল কোয়ালিশন সরকার উপহার দেবে। সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগও সেটাই চায়। দেশব্যাপী কোনো দলেরই ভিত্তি নেই। চার প্রদেশের মধ্যে বড়জোর দুটিতে একেকটা দলের শক্ত অবস্থান আছে। মুসলিম লীগকে ছেঁটে ফেলার জন্য কায়েমি ব্যবস্থা কর্তৃক জোর চেষ্টা আর সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা সত্তে¡ও দলটি তার অনেক দিনের পরম্পরাগত জনসমর্থন অনেকটাই ধরে রাখতে পেরেছে। যদি ক্ষমতা ধরে রাখতে নাও পারে, তবু দলটি পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল পাঞ্জাব প্রদেশে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতবে। পাঞ্জাবে তাদের নেতা নওয়াজের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ। শাহবাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি, তবে তার নেতৃত্বের গুণাবলিতে ঘাটতি আছে।

মুসলিম লীগের প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী ইমরানের পিটিআই। কায়েমি ব্যবস্থার সমর্থন আছে এমন অনেক প্রার্থী ইমরানের দলে ভিড়েছেন। ইমরান সেনাপ্রিয়, তবে তার জনসমর্থন মূলত উত্তরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ। তদুপরি, তার নির্বাচনী প্রচারেও ত্রæটি ছিল। অন্যান্য দলের দলত্যাগী নেতাদের অনেককে নিজের দলে জায়গা করে দিয়েছেন। তবে তরুণদের মাঝে তার আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। এরাই ছিল তার দলের প্রধান সমর্থক। ইমরানের দল থেকে বয়োবৃদ্ধ ও দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিকেরা প্রার্থী হোক তা তারা চায়নি। অন্যদিকে বেনজির ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির সারাদেশে শক্ত অবস্থান থাকলেও এখন শুধু দক্ষিণের সিন্ধু প্রদেশেই তাদের নির্বাচনী প্রভাব সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

সন্ত্রাসবাদ অবসানের দিকে সেনাবাহিনীর দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকার কথা। অথচ নির্বাচনের আগে আগে বেলুচিস্তান ও খায়বার পাখতুনখোয়া প্রদেশ দুটিতে প্রার্থীদের ওপর বেশ কয়েকটি প্রাণক্ষয়ী আত্মঘাতী হামলা ঘটেছে। দুই প্রার্থীসহ ১৭০ জন নিহত হয়েছে আর আহত হয়েছে ৩০০ জন। হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানি তালিবান ও অন্যান্য চরমপন্থি গোষ্ঠী। এসব গোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে সেনাবাহিনী বরং এদের মূলধারায় টেনে আনতে সচেষ্ট। বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন কতকগুলো চরমপন্থি সংগঠনকে নতুন নাম ও পরিচয়ে নির্বাচন করার অনুমোদন দিচ্ছে। যেমন আল্লাহু আকবর তেহরিক নামের নতুন নির্বাচনী মঞ্চ থেকে লস্কর-ই-তৈয়েবা ২০০ জন প্রার্থী দিয়েছে। অথচ লস্কর হলো জাতিসংঘ ঘোষিত একটি বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আর এর নেতা হাফিজ সাঈদের ওপর ১ কোটি ডলারের বাউন্টি ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইন্ডিয়া ও অন্যান্য দেশে লস্কর বড় মাপের হামলা চালিয়েছেÑ ২০০৮ সালের এক মুম্বাই হামলাতেই নিহত হয় ১৬৬ জন। আরেকটি উদাহরণ হলো, শিয়াবিরোধী কট্টর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নেতা আওরঙ্গজেব ফারুকি, যার নাম পাকিস্তানের নিজস্ব সন্ত্রাসবাদ নজরতালিকায় থাকা সত্তে¡ও পাকিস্তানের আদালত তাকে নির্বাচনে লড়ার পথ সুগম করে দিয়েছে। এসব গোষ্ঠীর কেউ নির্বাচনে জিতবে না, তবে এদের চরমপন্থি ¯েøাগান ও কৌশল অনেক আসনের নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চরমপন্থিদের নির্বাচনে দাঁড়ানোর স্বাধীনতা দেওয়া হলো এমন এক সময় যখন পাকিস্তানের মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার কারণে দেশটিকে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের নজর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অর্থপাচার এবং চরমপন্থিদের অর্থসংগ্রহের ব্যাপারে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে পাকিস্তানকে তারা কালোতালিকাভুক্ত করতে পারে, যার পরবর্তী ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

রুটিরুজির কথা বাদে ভোটারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হলো একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সেনাবাহিনীর গণতান্ত্রিক ভ‚মিকা কী হবে আর আগামী সরকারের ওপর, বিশেষত পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে সেনাবাহিনীর কতটা প্রভাব থাকা উচিত। এই প্রশ্নে সামরিক-বেসামরিক দ্ব›েদ্বর ইংরেজি দৈনিক ডনের অনুসন্ধান সেনাবাহিনীকে বিক্ষুব্ধ করেছে। বহু বছর ধরে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষত আফগানিস্তান, চীন, ইন্ডিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক। ক্ষমতায় থাকাকালে শরিফ কয়েকবার ইন্ডিয়ার সঙ্গে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেছেন। আফগানিস্তানের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ অবসানে সাহায্য করতে চেয়েছেন। আফগান তালেবানের মতো চরমপন্থি গোষ্ঠীকে পাকিস্তানের সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয় প্রদান বন্ধ করতে চেয়েছেন। তার চেষ্টা বরাবরই ব্যর্থ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। এ ক্ষেত্রে তারা মনে করেছে শরিফ তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে অনধিকার চর্চা করছেন। আফগান ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের লাগাতার অভিযোগ ও বিরুদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে সেনাবাহিনী কাবুলের সঙ্গে সৌহার্দ স্থাপনের দিকে গেছে। অন্যদিকে পাঞ্জাবভিত্তিক কতকগুলো চরমপন্থি গোষ্ঠী প্রচ্ছন্ন পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে ইন্ডিয়া-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রবেশ ও হামলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সেই সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ব্যাপারে ইন্ডিয়ার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের অনাগ্রহের ফলে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক এখন একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

পাকিস্তানের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ইতিহাসে দেখা যায়, প্রতিটি নির্বাচনের পর জালিয়াতি, ভোট কারচুপি ও কারসাজির অভিযোগ ওঠে। এবার অবশ্য ভয়ের জায়গা নির্বাচনপূর্ব কারসাজি এবং বিচার বিভাগ-সেনাবাহিনীর কায়েমি ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে অবাঞ্ছিত প্রার্থীদের লড়াইয়ের ময়দান থেকে বিদায় করে দেওয়ার বন্দোবস্ত। প্রচÐ ক্ষমতাধর এই কায়েমি ব্যবস্থা প্রকৃত গণতন্ত্রের বিকাশ দেখতে চায় না। এমন আশঙ্কাও আছে যে, দমনপীড়নের শিকার রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করতে পারে। খুব অশান্ত এক অঞ্চলের কেন্দ্রে থেকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত পাকিস্তান নতুন অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা হজম করতে পারবে না। তাই সব ক্ষমতাকেন্দ্র একতাবদ্ধ হয়ে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সচেষ্ট হওয়া দরকার।

য় ফরেন অ্যাফেয়ার্স ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া ইংরেজি থেকে অনুবাদ : মুহাম্মদ হাবীব

আহমেদ রশিদ : পাকিস্তানি সাংবাদিক এবং আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক জনপ্রিয় লেখক

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে