জিপিএ-৫ ছাড়াও উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গঠন সম্ভব

  এম এইচ রবিন

২২ জুলাই ২০১৮, ০০:৪৭ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ০৮:৫৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বা জিপিএ-৫ না পাওয়া মানেই জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এসব শিক্ষার্থীরও উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ আছে। হতাশ না হয়ে তাদের নতুন করে জীবন গড়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

সদ্য প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলে দেখা গেছে, চলতি বছর পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন। বোর্ডগুলোর তথ্যানুযায়ী, সর্বোচ্চ ভালো গ্রেড জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯ হাজার ২৬২ জন, গড়ে মাত্র ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। এরপর ৪ থেকে ৫ জিপিএ পেয়েছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ২৭০ জন বা ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ জিপিএ নম্বর পেয়েছেন এক লাখ ৮২ হাজার ৪৩৯ জন বা ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ জিপিএ নম্বর পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ১৫৪ জন বা ১৭ দশমিক ০১ শতাংশ। ২ থেকে ৩ জিপিএ নম্বর পেয়েছেন ২ লাখ ২৩ হাজার ১৭৩ জন বা ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১ থেকে ২ জিপিএ নম্বর পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫০৩ জন বা ১ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ ৮ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯ জন জিপিএ ৫-এর চেয়ে কম নম্বরধারী শিক্ষার্থী।

অভিভাবকদের আশঙ্কা, এসব শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রতিযোগিতায় হিমশিম খাবেন। ভালো মানের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন। কম জিপিএ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। চরম হতাশায় আছেন আরও কম নম্বরধারী শিক্ষার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, কম জিপিএ পাওয়া মানেই জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। জিপিএ-৫ মানেই সেরা হওয়া নয়। এ ধ্যানধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে। এই বৈশ্বিক যুগে কেউ এক শ্রেণিতে কম গ্রেড নিয়ে পেছনে পড়ে থাকা ঠিক না। বিকল্প ভাবতে হবে। সবাইকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন নয়। এর চেয়েও আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক ক্যারিয়ার গঠন করা যেতে পারে। বিশেষ করে কারিগরিতে সেই সুযোগ আছে। এসব সেক্টরের খোঁজখবর নিতে হবে।

জানা গেছে, ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশন প্রোগ্রাম (ইউএফপি), ন্যাশনাল ডিপ্লোমা (এনডি), ইউএফপি ও এনডির এক বছর মেয়াদি প্রি-ইউনিভার্সিটি কোর্স রয়েছে, যা এইচএসসি বা এ লেভেলের সমমান। ইউএফপি বা এনডি সম্পন্ন করে দেশে-বিদেশে ডিপ্লোমা কিংবা ব্যাচেলর কোর্সে সরাসরি ভর্তির সুযোগ আছে। দেশেও এভিয়েশন খাতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬ মাস মেয়াদি এয়ারহোস্টেস অ্যান্ড কেবিন ক্রু, এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট এবং ট্রাভেল ট্যুরিজম অ্যান্ড টিকেটিং কোর্স সম্পন্ন করে দেশে-বিদেশে চাকরির সুযোগ পাবে। পড়াশোনার জন্য দেশে-বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তিন বছর মেয়াদের ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস), ডক্টর অব ডেন্টাল সার্জারি (ডিডিএস), ব্যাচেলর অব বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস, ব্যাচেলর অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যাচেলর অব এনভায়রনমেন্ট হেলথ অ্যান্ড সেফটি, ব্যাচেলর অব মেডিক্যাল ইমাজিং, ব্যাচেলর অব নার্সিং, ব্যাচেলর অব ফার্মেসি এবং ব্যাচেলর অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংও রয়েছে। আরও আছে দুই বছরের অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা ডিগ্রি কোর্স প্যারামেডিক্যাল, নার্সিং, ফিজিওথেরাপি, মেডিক্যাল ইমাজিং, মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংসহ আরও অনেক বিষয়।

ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন ‘বিল্ড স্কিল বাংলাদেশ ফর ইমাজিং বাংলাদেশ অ্যাজ ডেভেলপড নেশন’-এ উল্লেখ করা হয়েছে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধান অন্তরায়। বিদ্যমান শ্রমবাজারে কর্মে নিয়োজিত এবং ২০৩০ সাল অবধি শ্রমবাজারে আগমনযোগ্য শ্রমশক্তিকে উচ্চ দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। তবেই বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত হবে। কারিগরি শিক্ষাই হতে পারে সেই ব্যবস্থা।

বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এমকে বাশার বলেন, এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করা কিংবা বি, সি, ডি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে না। প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ লাখ শিক্ষার্থী এভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। এসব শিক্ষার্থী হতাশায় ভোগে; কেউ কেউ নেশাদ্রব্য গ্রহণসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। আমি মনে করি, উচ্চ মাধ্যমিকে ফেল কিংবা কম জিপিএ পাওয়া মানেই জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এদের জন্য প্রয়োজন বিশেষ কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষা। তাদের ক্ষেত্রে মা-বাবার ইতিবাচক অনুপ্রেরণা থাকতে হবে। সন্তানকে হেয়, কটাক্ষ করা যাবে না। এই বয়সী ছেলেমেয়েদের আত্মসম্মানবোধ বেশি কাজ করে। তাই তাদের উৎসাহ দিতে হবে, ইতিবাচক পরামর্শ দিতে হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে