বড়পুকুরিয়ার ২২৭ কোটি টাকার কয়লা গায়েব

তদন্তে কমিটি, সাসপেন্ড ২

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

২২ জুলাই ২০১৮, ০২:৪৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির ইয়ার্ড থেকে প্রায় ২২৭ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ দুজনকে প্রত্যাহার এবং আরও দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে গত শুক্রবার গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি কমিটি।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুজন হলেনÑ বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলাম।
 একই সঙ্গে খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও কোম্পানি সচিব) আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে সিরাজগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদকে অপসারণ করে পেট্রোবাংলায় সংযুক্ত করা হয়েছে। আর তার এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পেট্রোবাংলার পরিচালক আইয়ুব খানকে।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আহŸায়ক করা হয়েছে কয়লা খনি কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার পরিচালক (মাইন অপারেশন) কামরুজ্জামানকে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সূত্র জানায়, ইয়ার্ডে বর্তমানে কয়লা থাকার কথা প্রায় দেড় লাখ টন। কিন্তু মাত্র পাঁচ-ছয় হাজার টন কয়লা আছে। অর্থাৎ ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লার কোনো হদিস নেই। কয়লার অভাবে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পথে। এ বিষয়টি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পেট্রোবাংলাকে জানালে কয়লা উধাও হওয়ার ব্যাপারটি প্রকাশ্যে আসে।
অন্য এক সূত্র জানায়, খনির ১২১০ নং ফেসে মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১৫ জুলাই থেকে কয়লা উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে খনির ১৩১৪ নং ফেসে নতুন করে যন্ত্রপাতি স্থাপন করে কয়লা উত্তোলনের কার্যক্রম চলছে। এ কার্যক্রম শেষে আগামী আগস্ট মাস থেকে কয়লার উত্তোলন শুরুর আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী) মাহবুবুর রহমান জানান, গত ২০ জুন বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৮০ হাজার টন কয়লার মজুদ দেখিয়েছিল। সেটা মাথায় রেখে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র কীভাবে চালু রাখা যাবে, তার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ জানায়, ইয়ার্ডে কয়লার মজুদ প্রায় শেষের দিকে এবং বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইয়ুব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে