আদিবাসী দিবসের প্রত্যাশা

সরকারের আরও সংবেদনশীল ভূমিকা কাম্য

  অনলাইন ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০১:৩৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী মানুষ ভালো নেই। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে বড় নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত দেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানি ভাবধারার অভিযোগ তুলে একেই সব ধরনের সংখ্যালঘু নির্যাতনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেশের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তাসমূহের যে সংগঠন তার নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমাও (সন্তু লারমা) সম্প্রতি ঢাকায় এক সভায় আদিবাসীদের অস্তিত্ব বিপন্ন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে প্রায় ৪৫টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বাস রয়েছে। সারাবিশ্বে এ রকম প্রান্তিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটির মতো। তারা নিজ নিজ দেশে সংখ্যালঘু এবং বেশিরভাগ দেশে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন, প্রান্তিক এবং প্রায়ই উপেক্ষিত-নিপীড়িত। আমেরিকা ও কানাডার রেড ইন্ডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ার আদি অস্ত্রাল আর নিউজিল্যান্ডের মাউরিরাই ছিল সেসব দেশের আদি ভূমিপুত্র। কিন্তু ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা তাদের নির্মমভাবে হত্যা করে নিজেরাই এসব দেশ ও জমি দখল করে নিয়েছিল। তার পর দলে দলে ইউরোপীয় অভিবাসীরা দেশগুলোর দখল নিয়ে নেয়।

আজ দেশে যে অল্পসংখ্যক আদিবাসী রয়েছে তারা মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপন করছে। এমন বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষদের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘ ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ঘোষণা করেছে ১৯৯৪ সালে। সেই থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার দেশের ক্ষুদ্র জাতিসমূহকে আদিবাসীর স্বীকৃতি দেয় না। এ ছাড়া মূলধারার একশ্রেণির বাঙালি ছলে-বলে-কৌশলে এদের জমিজমা দখল করে নিচ্ছে। আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালির সংখ্যা ১১টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ছাড়িয়ে গেছে। কেবল তা-ই নয়, কৃষিভিত্তিক জীবনে অভ্যস্ত সমতলের বাঙালি পার্বত্য বনভূমির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব অনুধাবনে সক্ষম হয়নি। ফলে নানাভাবে পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি বাঙালিদের অধিকারে চলে আসছে। স্বার্থের নানামুখী দ্বন্দ্বের কারণে আজ বাঙালি-পাহাড়ি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে; আবার পাহাড়িদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সেখানে একদিকে সামরিক উপস্থিতি ও ভূমিকা বেড়েছে, অন্যদিকে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা দুরূহ হয়ে পড়েছে। পরিণতিতে পাহাড়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, খুনাখুনি ও অস্থিরতা বাড়ছে। সমতলেও আদিবাসী বসতিতে ভূমি দখল, নারী নির্যাতন, বসতবাড়ি হস্তান্তর এবং আদিবাসীদের স্থানান্তরের ঘটনা বেড়ে চলেছে।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বাংলাদেশের ৩০-৪০ লাখ আদিবাসীর স্বার্থ, স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা রক্ষায় জাতিসংঘ ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ আজ সময়ের দাবি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে