ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসছে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ আগস্ট ২০১৮, ০১:০৮ | আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীতে গণপরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসছে। এর আওতায় আগামী ২০ আগস্টের মধ্যেই এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে প্রধানন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের ‘ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন’ সম্পর্কে এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে গত বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডজনখানেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় চারটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এগুলো হলো- শহরে চলাচলকালে সব গণপরিবহনের দরজা বন্ধ রাখতে হবে। নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না। গণপরিবহনের দৃশ্যমান দুটি স্থানে চালক ও হেলপারের ছবিসহ নাম এবং চালকের লাইসেন্স নম্বর ও মোবাইল নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। সব মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে বাধ্যতামূলক হেলমেট পরিধানের পাশাপাশি সিগন্যালসহ আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। মহাসড়ক বা দূরপাল্লার বাসে চালক এবং যাত্রীদের জন্য সিটবেল্ট স্থাপন ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ২০ আগস্টের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। বিআরটিএ এবং বাংলাদেশ পুলিশ এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।

সড়ক ব্যবস্থাপনায়ও নয়টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে ২০ আগস্টের মধ্যে রাজধানীর যেসব স্থানে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস রয়েছে, সেসব স্থানের উভয় পাশের ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি যারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস ব্যবহার করবে তাদের ‘ধন্যবাদ’ কিংবা প্রশংসাসূচক সম্বোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাসে প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ২০ আগস্টের মধ্যে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা এবং ৩০ আগস্টের মধ্যে বাইরে আয়নার ব্যবস্থা করতে হবে।

১৮ আগস্টের মধ্যে শহরের সব সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও রোড সাইন দৃশ্যমান করে ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ পার্কিং এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। সড়কের নামফলক দৃশ্যমান স্থানে সংযোজন করতে হবে। ট্রাফিক সপ্তাহে চলমান কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে হবে। দুই সিটি করপোরেশন ও ডিএমপিকে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

সিটি করপোরেশন বাস্তবায়িত ট্রাফিক সিগন্যালে স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগনাল ব্যবস্থাপনা পুলিশকে হস্তান্তর করতে হবে। শহরে রিমোট কন্ট্রোল অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগনালিং চালু করতে হবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিএনসিসি ও ডিএমপিকে সময় দেওয়া হয়েছে। এজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনিষ্পন্ন বাংলাদেশ পুলিশ থেকে পাওয়া ‘জনবল’বিষয়ক প্রস্তাবের সব সিদ্ধান্ত সমন্বয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ফোকাল পয়েন্টে কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ এবং উত্তর সিটি করপোরেশন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। দুই সিটি করপোরেশনকে রোড ডিভাইডারের উচ্চতা বৃদ্ধি বা স্থানের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ছাড়া মহাখালী ফ্লাইওভারের পর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ন্যূনতম দুটি স্থানে স্থায়ী মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে যানবাহনের ফিটনেস এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা নেওয়া হবে। শহরের অন্যান্য স্থানেও প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী অনুরূপ কাজের জন্য মোবাইলকোর্ট বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ঢাকা  জেলা প্রশাসন, ডিএমপি ও বিআরটিএকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে