স্বামীর গলা কেটে স্ত্রীর আত্মহত্যা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ আগস্ট ২০১৮, ০১:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্ত্রী জোৎ¯œা বেগমের সন্দেহ, তার স্বামী আবু সাঈদ স্বপন (৪৫) অন্য কোনো নারীকে বিয়ে করেছেন বা কারো সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে এ দম্পতির মধ্যে মনোমালিন্য ও ঝগড়াঝাটি চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতেও ঝগড়া হয় তাদের। গতকাল শুক্রবার সকালে স্বামীকে হাত-পা বেঁধে গলা কাটার পর আত্মঘাতী হন জোৎ¯œা (৩০)। এর আগে তিনি রাতেই ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন দুই শিশু সন্তানকে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী গোলাপবাগের ২৫/খ/১ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় নিজ ঘরের ফ্যানের সিেঙ্গ ঝুলন্ত অবস্থায় ওই গৃহবধূর মরদেহ এবং তাদের দুই সন্তান সাজিদ হোসেন ইপ্তি (১৪) ও মেয়ে সানজিদা আক্তার জোহাকে (৭) অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পাশের ঘরের বিছানা থেকে গুরুতর আহত স্বপনকে (৪৫) উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য জোৎ¯œার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত স্বপন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছে এই দম্পতির সন্তানরা। তারা এখন স্বজনদের কাছে রয়েছে। 
ঢামেক হাসপাতাল নাক কান গলা বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, স্বপনের ঘাড়ে তিনটি, গলার নিচে একটি ও বাম হাতে একটি ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। 
প্রাথমিক তদন্ত ও নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, নিহতের স্বামী স্বপন মিয়ার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদীতে। ওই দম্পতি দুই সন্তানকে নিয়ে গোলাপবাগ এলাকার ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। স্বপন বেইলি রোডের ইনফিনিটি মেগাশপের ম্যানেজার। তিনি আরেকটি বিয়ে করেছেন অথবা তার সঙ্গে এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক চলছে-কিছুদিন ধরে এমন সন্দেহ থেকে স্বপনের সঙ্গে স্ত্রী জোৎ¯œার কলহ চলছিল। এ নিয়ে জোৎ¯œাকে প্রায়ই মারধর করতেন স্বপন। বৃহস্পতিবার রাতে একই বিষয় নিয়ে তাদের ঝগড়া হয়। এরপর শুক্রবার সকালে স্বপনকে হাত-পা বেঁধে বঁটি দিয়ে গলা কাটেন ও এলোপাতাড়ি কোপান জোৎ¯œা। এরপর নিজে পাশের কক্ষে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, জোৎস্না রাতেই স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। কারণ তিনি রাতেই দুই সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়েছিলেন। 
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ জোৎস্নার লাশ এবং আহত স্বপন ও তাদের সন্তানদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে পাঠায়। পারিবারিক কলহ ছাড়া এই ঘটনার অন্য কোনো রহস্য আছে কিনা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে ওসি কাজী ওয়াজেদ জানান।  
জ্যোৎস্নার চাচাত ভাই আবদুল করিম জানান, গতকাল দুপুর ১২টার কিছু পরে ওই বাসার একটি কক্ষের খাটের ওপর স্বপনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। দরজা ভেঙে পাশের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন জ্যোৎস্নাকে। অচেতন ইপ্তি ও জোহাকে সোয়া ১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। শিশু দুটি জানিয়েছে, অনেকটা জোর করেই মা তাদের পানি খাওয়ান। এর পরপরই ঘুমিয়ে পড়ে তারা। পরে আর কিছুই দেখেনি শিশু দুটি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে