ধরা পড়ল বিআরটিএর টেন্ডার জালিয়াতি

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

সম্পাদকীয়  

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

গতকাল আমাদের সময়ের প্রতিবেদনে জানা যায় গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনে জালিয়াতি থেকে পরিত্রাণ পেতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যাদের হাতে জালিয়াতি রোধের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে, খোদ তারাই জড়িয়ে পড়েছেন জালিয়াতিতে। পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে বিআরটিএর কিছু কর্মকর্তার এহেন অসদুপায় সম্প্রতি ধরা পড়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তদন্তে। এরই ধারাবাহিকতায় এ হীন কা-ে জড়িত বিআরটিএর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং দরপত্র বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সূত্র ধরে মন্ত্রণালয় থেকে বিআরটিএকে বলা হয়েছে, দরপত্র প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণামূলক (মেলাফাইড এবং ইনটেনশনাল) ডকুমেন্ট প্রস্তুত করার কাজে যেসব কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে এবং তা অবহিত করতে।

আমরা মনে করি, বিআরটিএকে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ প্রায়ই বিআরটিএর সম্পর্কে গণমাধ্যমে যেসব চিত্র উঠে আসে তাতে প্রতিষ্ঠানটিতে দুর্নীতি যে জেঁকে বসেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

অস্বীকার করার উপায় নেই, দুর্নীতি আমাদের উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধে অনেক উদ্যোগ থাকলেও কেন সেগুলো ফলপ্রসূ হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা দরকার। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণ হওয়ার পরও দুর্নীতি-অনিয়মের মাত্রা আগের মতোই থেকে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনকই বটে। স্বল্পোন্নত দেশের গ-ি ছাড়িয়ে আমরা উন্নয়নশীল দেশের সারিতে নিজেদের অবস্থান করে নিতে পেরেছি। কিন্তু এটাও মনে রাখা চাই যে, মর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে উন্নত বিশ্বের সারিতে নিজেদের দেখতে চাইলে ‘দুর্নীতিকে না’ বলতেই হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থানের প্রমাণ দিতে হবে। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না তার সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, এ বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে