টিকফা বৈঠক

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিস্তারে কাজ হোক

  অনলাইন ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:০৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক শুরু হয়েছে। টিকফা বা ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্টের আওতায় এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হচ্ছে। বাংলাদেশ বৈঠকে পাঁচটি বিষয়ের ওপর জোর দেবে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশি পণ্যের ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা ও এতে নৈতিকতার মান বৃদ্ধি, বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সহযোগিতা চুক্তি (টিএফএ) বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিরূপণ।

বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে বৈঠকে যোগদানকারী উচ্চপর্যায়ের দলটি এসব বিষয়ে অনুকূল ফলের জন্য প্রস্তুতি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। এক সময় এ ফোরামের আলোচনায় বাংলাদেশের দিক থেকে অগ্রাধিকার পেত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জিএসপি সুবিধা পুনরায় চালুর বিষয়টি। কিন্তু এবার বাংলাদেশ এ বিষয়টি আর উত্থাপন করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজাধসে হাজারের বেশি শ্রমিকের মৃত্যুর পরই এই বাণিজ্যিক অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়। এর পর কারখানায় শ্রমিকদের কর্মস্থান, কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বেশ কিছু শর্ত দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ এগুলোর অধিকাংশ পূরণ করেছে এবং পাশাপাশি জিএসপি না থাকা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। এখন বস্তুত এর সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তির বিষয়ই জড়িত, এর বাইরে অর্থনৈতিক গুরুত্ব এখন অনুল্লেখ্য।

তবে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের গাড়িবহরে হামলার বিষয়টিও বৈঠকে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর হলেও এ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে মূল বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব বলেই মনে হয়। তা ছাড়া আগামী নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ করার বিষয়েও কথা হতে পারে। আমরা মনে করি এসব ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষে গ্রহণযোগ্য বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন হবে না।

কথা হলো যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী বিশ্বের প্রধান মুরব্বি দেশ হলেও মুক্তবাজার অর্থনীতির নিয়মে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে তাদের বেসরকারি খাতই মুখ্য বিষয়। ফলে এই দুই খাতে কার্যকর সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো ফল এ বৈঠকে আসবে না। তবে এখানে নীতি ও আইনের বিষয়গুলো নিয়ে কথা হতে পারে, যাতে বেসরকারি খাত এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের যে আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করছে তা বাস্তবায়ন সহজতর হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে