ইসলামে অভিবাদন নীতি

  মুফতি তাউহিদুল ইসলাম

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:০৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুসলিমদের পরস্পর সাক্ষাতে সালাম দিয়ে অভিবাদন জানানো সুন্নত। সালামের বাক্যটি হচ্ছে ‘আসসালামু আলাইকুম’। এটাকে আরও বাড়িয়ে বলা যায় ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’। সালামের দুটি অর্থÑ এক. তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। দুই. শান্তি দানকারী আল্লাহ তোমার ওপর রয়েছেন।

সালামের নিয়মটি আল্লাহতাআলা আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমেই প্রচলন করেন এবং তার বংশধরদের জন্য এটাকে অভিবাদন জানানোর নিয়ম হিসেবে দান করেন। একটি হাদিসে আছে, আল্লাহতাআলা যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন। তখন বললেন, অবস্থানরত ফেরেশতাদের ওই দলটিকে সালাম করো এবং তারা যা জবাব দেয় তা শ্রবণ করো। এটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তানদের সালাম। তখন তিনি তাদের কাছে গিয়ে বললেন, আসসালামু আলাইকুম। তারা জবাবে বললেন, আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ। (বোখারি ও মুসলিম)।

সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে সালামের জবাব দিতে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম পন্থায় জবাব দাও, অথবা উত্তরে তাই বলো’ (যতটুকু সে বলেছে)। (সুরা নিসা : ৮৬)।

এ আয়াতের আলোকে সালামের জবাবে ‘ওয়ালাইকুমুসসালাম’ বলা ওয়াজিব। আর উত্তম হচ্ছে সালামদাতার শব্দ থেকে বাড়িয়ে বলা। যেমন, ‘আসসালামুআলাইকুম’-এর জবাবে ‘ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ বাড়িয়ে বলা। সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ শব্দগুলো বাড়িয়ে বললে সওয়াব বেশি হয়। একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর খেদমতে এসে বলল, ‘আসসালামুআলাইকুম’। তিনি তার জবাব দিয়ে বললেন তার জন্য দশটি নেকি। আরেক ব্যক্তি এসে বলল, ‘আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। তিনি তার জবাব দিয়ে বললেন তার জন্য বিশটি নেকি। কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি এসে বলল, ‘আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’। তিনি তার জবাব দিয়ে বললেন তার জন্য ত্রিশটি নেকি। (তিরমিজি)।

সালাম শুদ্ধ করে উচ্চারণ করা বাঞ্ছনীয়। সমাজে দেখা যায়, অনেকেই ঠিকমতো উচ্চারণ না করে বলে ‘সাম আলাইকুম’, যার অর্থ হচ্ছে আপনার ওপর ধ্বংস নেমে আসুক। যা বদদোয়া। ইহুদিরা হিংসাবশত এভাবে বলত। এমনকি কখনো নবীজি (সা.)-কেও এই শব্দে সালাম দিত। নবীজি (সা.) তাদের উত্তরে বলতেন, ‘ওয়াআলাইকুম’ অর্থাৎ তোমাদের জন্যও অনুরূপ হোক। (বোখারি)।

হাদিস শরিফের মাধ্যমে সালামের অনেক ফজিলত জানা যায়। নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ইমান গ্রহণ না করো। আর তোমরা ইমানদার বলে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না পরস্পরকে ভালোবাসো। আমি কি তোমাদের এমন কথা বলে দেব না, যা দ্বারা তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসতে পারবে। তা হলো তোমরা পরস্পর সালামের ব্যাপক প্রচলন করো। (মুসলিম)।

অন্য একটি হাদিসে এসেছে, যে প্রথমে সালাম করবে সে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী। (আবু দাউদ)।

ঘরে প্রবেশের পর সালাম দিলে পরিবারের ওপর বরকত নাজিল হয়। (তিরমিজি)।

সালামের ব্যাপারে হাদিসের মধ্যে কিছু নিয়মাবলিও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবস্থানরত অনেকজনের মধ্যে একজন সালাম দিলে অনুরূপ অনেকজনের মধ্যে একজন সালামের জবাব দিলে সবার পক্ষ থেকেই আদায় হয়ে যায়। (আবু দাউদ)।

সালামের সময় হাত দিয়ে ইঙ্গিত করবে না। কেননা এটা ইহুদি ও নাসারাদের পন্থা। (তিরমিজি)। সালামের ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছেÑ ছোট বড়কে, আগন্তুক বা অতিক্রমকারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে, কমসংখ্যক অধিকসংখ্যককে সালাম করবে। (আবু দাউদ)।

কোথাও নারীদের জামাত থাকলে তাদের সবাইকে উদ্দেশ করে সালাম করা যায়। (আবু দাউদ)। এ ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশের জন্য অনুমতি প্রার্থনার উদ্দেশ্যে সালাম করার নিয়ম রয়েছে।

আল্লাহতাআলা সবাইকে সালামের ব্যাপক প্রচলনের তওফিক দান করুন।

য় মুফতি তাউহিদুল ইসলাম : মুহাদ্দিস ও নায়েবে মুফতি, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে