ঢাকা বরাবরই অপরিকল্পিত নগরী

  ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:৪৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাচীন বিশ্বের নগর সভ্যতাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিকল্পিত নগর গড়ে ছিলেন সিন্ধুর নগর পরিকল্পনাবিদগণ। আর তা করেছিলেন আজ থেকে প্রায় সাত হাজার বছর আগে। সিন্ধু সভ্যতার হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নগরের পরিকল্পনা দেখলে বোঝা যায় কতটা সচেতনতা আর দক্ষতা নিয়ে নগর গড়ে তোলা হয়েছিল। সে যুগে নগরের জনসংখ্যাইবা কতটুকু ছিল! তথাপি দূরদৃষ্টি প্রয়োগ করতে ভোলেননি পরিকল্পনাবিদগণ। তাই তাদের নগরীর প্রধান সড়কগুলো ছিল ৩৫ ফুট চওড়া। সবচেয়ে অপরিসর রাস্তা ছিল ১০ ফুট প্রশস্ত। ৫ ফুট চওড়া ছিল গলিপথ। সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য রাস্তার প্রান্তসীমার বাড়ি বৃত্তাকারে তৈরি করা হতো। নগর জীবনকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য মাটির নিচে সুরক্ষিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল। বাড়িগুলো থেকে ময়লা পানি প্রধান ড্রেনে সংযুক্ত হতো। প্রতœতাত্ত্বিকগণ নিশ্চিত হয়েছেন নির্দিষ্ট সময় অন্তর ড্রেনের পাইপ পরিষ্কার করা হতো। ডাস্টবিন, সড়ক বাতি প্রভৃতির ব্যবস্থা করেও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

আজ সাত হাজার বছর পর আধুনিক যন্ত্রযুগে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন নগরী ঢাকার বিপর্যস্ত নাগরিক জীবন দেখে বোঝা যায় না কোনো কালপর্বে এই নগরী গড়ে তুলতে এর বিস্তার ঘটাতে কোনো পরিকল্পনাবিদ মেধা খরচ করেছিলেন কিনা, কোনো রাষ্ট্র পরিচালক এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে সময় পেয়েছিলেন কিনা, কোনো রাজনৈতিক দলের বিবেচনার বিষয় ছিল কিনা! তাই প্রতি বর্ষা মৌসুমে বা কয়েক ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাত হলে জলাবদ্ধতায় নগরজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। তার পর ধীরে ধীরে থিতিয়ে গিয়ে আবার শীতনিদ্রা দেয়। যেসব কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয় তাতে অর্থ খরচ হয় ঠিকই কিন্তু তেমনভাবে সাফল্য আসে না। এ কারণে সমস্যা সমাধানের পথে অগ্রসর না হয়ে ক্রমে জটিল হতে থাকে।

আমি বিশেষজ্ঞ নই। তবে কাছে থেকে চার দশক ধরে ঢাকার রূপান্তর দেখে এর সংকটের সাধারণ কারণ বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। ইতিহাসের যতটুকু সূত্র পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যায় পরাধীনতা, ঔপনিবেশিক ধারা, রাজনৈতিক ব্যর্থতা, পরিকল্পনাহীনতা, অদূরদর্শিতা আর দুর্নীতি ঢাকাকে অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে উঠতে উৎসাহ দিয়েছে। এ পর্যন্ত পাওয়া সূত্র থেকে জানা যায় সেন শাসনযুগের শেষ দিকে অর্থাৎ ১২ শতকের শেষ দিকে ঢাকায় নাগরিক জীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় গবেষণার অভাবে সে সময়ের নগরীর বিস্তার বা প্রকৃতি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। চৌদ্দ শতকের চল্লিশের দশকেই দিল্লির কর্তৃত্ব অস্বীকার করে সোনারগাঁওয়ে স্বাধীন সুলতানি রাজ্যের পত্তন হয়। এই রাজ্যের দুটি প্রদেশ বা ‘ইকলিমের’ একটি ছিল মুবারকাবাদ। লিপিতাত্ত্বিক প্রমাণে নিশ্চিত হওয়া গেছে এই প্রদেশের রাজধানীর কেন্দ্র ছিল আজকের পুরান ঢাকা। প্রাদেশিক রাজধানীর গভর্নর হিসেবে ‘খাজা জাহান’ পদাধিকারী একজনের নামও লিপি সাক্ষ্যে পাওয়া যায়। গবেষণার দুর্বলতায় ঢাকায় প্রায় ৭০০ বছর আগে স্থাপিত প্রথম রাজধানী ও এর নাগরিক জীবন আমাদের কাছে এখনো অস্পষ্ট। সুলতানি এবং বারোভূঁইয়াদের শাসনকালে স্বাধীন অবস্থানের কারণে নগর বিকাশের সম্ভাবনা থাকলেও ইতিহাসে তা আমরা তেমনভাবে উন্মোচন করতে পারিনি। মোগল শাসনকালে সতেরো শতকের শুরুর দিকে বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে। বাংলা দিল্লির অধিকারে চলে যায়। ঢাকা জাহাঙ্গীরনগর নাম নিয়ে মোগল সুবার রাজধানী হয়। শুরুর দিকে দিল্লি থেকে প্রেরিত সুবাদাররা ঢাকার নাগরিক জীবন উন্নয়নে তেমন মনোযোগ দেননি। সতেরো শতকের ষাটের দশকে সুবাদার শায়েস্তা খান দায়িত্বে এসে ঢাকার উন্নয়নে দৃষ্টি দেন। কিন্তু এ বিকাশ ধারা প্রলম্বিত হয়নি। আঠারো শতকের প্রথমদিকেই নবাব মুর্শিদ কুলি খান ঢাকা থেকে রাজধানী সরিয়ে নেন মুর্শিদাবাদ। ফলে পরিকল্পিত নগরজীবন বিকাশ মোগল পর্বেও হয়নি। আজকের পুরান ঢাকায় মোগল যুগের সাক্ষ্য বহন করা রাস্তাঘাট আর এর অপ্রশস্ততা দেখে বোঝা যায় সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনাবিদদের মতো দূরদৃষ্টিতে আর মমতায় এ যুগে ঢাকার বিকাশ ঘটেনি। টিকে থাকা কয়েকটি ইটের স্থাপনা ছাড়া মোগল আমলে ঢাকায় পরিকল্পিত নগর গড়ার প্রামাণ্য কোনো উপাত্ত আমাদের হাতে নেই।

ঔপনিবেশিক শাসনকালের একটি বড় কালপর্বে ঢাকা ছিল কলকাতা প্রশাসনের অধীনে। বিশ শতকের শুরুতে বঙ্গভঙ্গের পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা নগরীর যতটুকু বিকাশ হয়েছে বা নাগরিক জীবন উন্নয়নের চেষ্টা হয়েছে এর প্রধান কৃতিত্বই ছিল ঢাকার নবাবদের। তবে সরকারি পরিকল্পনা না থাকায় ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা যায়নি। বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকা পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হলো বটে তবে এর প্রকৃত আয়ুষ্কাল ছয় বছরের বেশি ছিল না। তবে পুরো ইংরেজ শাসনকালে ঢাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে টিকে থাকলেও শাসকদের ঔপনিবেশিক মানসিকতার কারণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ঢাকার নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কোনো অবকাঠামো তৈরি হয়নি। কিন্তু এ পর্ব থেকে ক্রমে ঢাকায় জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটেছে। নানা পেশাজীবীর আগমন ঘটেছে। বেড়েছে নাগরিক জীবনের চাহিদা। কিন্তু দূরদৃষ্টি নিয়ে ভবিষ্যতে অবকাঠামো তৈরির প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি। আরেক মনোজগতে ঔপনিবেশিকতা নিয়ে পাকিস্তানি শাসকরা তাদের কালপরিসর কাটিয়েছে। এ পর্বে শাসকরা ইসলামাবাদকে তিলোত্তমা বানানোর পরিকল্পনায় ব্যস্ত থাকায় ঢাকার দিকে নজর দেওয়ার সময় পায়নি। পাকিস্তানি শাসনপর্বে অধিকার আদায় ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে রাজনীতি উত্তাল হলেও ঢাকা নগরীর পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবার মতো প্রজ্ঞা দেখাতে পারেননি কেউ।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে দেশ গড়ার পর্বে যে দূরদর্শী পরিকল্পনা থাকার দরকার ছিল সে দৃষ্টিতেও ঢাকা সুবিচার পায়নি। বরং এই সার্বভৌম দেশে যে ভবিষ্যতে পরিকল্পনার দরকার ছিল তা গ্রহণে আমরা ব্যর্থ হই। প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ যখন খুব প্রয়োজন ছিল তখন রাজধানীকেন্দ্রিকতা প্রাধান্য পেল। বিভাগীয় শহরগুলোর শিল্প, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক গুরুত্ব কমতে থাকল আর সব চাপ এসে পড়তে থাকল রাজধানী ঢাকায়। পনেরো ষোলো শতকে বাংলার স্বাধীন সুলতানরা যেভাবে ভাবতে পেরেছিলেন বিশ শতকের রাষ্ট্র পরিচালকরা তেমনভাবে ভাবতে পারলেন না। দিল্লির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাকে সাজাতে চেয়েছিলেন সুলতানরা। তারা প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ সম্পন্ন করেছিলেন। এ পর্বে আমরা বাংলাজুড়ে অন্তত ১৬টি টাকশাল নগরী গড়ে উঠতে দেখি। যেগুলো ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ফলে রাজধানী গৌড় আর সোনারগাঁওয়ে সবাইকে ছুটে আসতে হয়নি। তাই এ পর্বের রাজধানী বিপন্ন দশায় পতিত হয়নি পরিকল্পনাহীনতার কারণে। বরং গৌড় আর সোনারগাঁওয়ের বাইরেও বাগেরহাট, ঝিনাইদহের বারোবাজার, রাজশাহী, আজকের চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিকল্পিত নগরের বিকাশ ঘটেছিল।

স্বাধীন বাংলাদেশে একে একে সবই হলো; ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির মর্যাদা বাড়িয়ে হলো সিটি কপোরেশন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্রতিষ্ঠিত হলো ঢাকা ওয়াসা, রাজধানীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য ডিআইটিকে শক্তি বাড়িয়ে করা হলো রাজউক। কিন্তু কোনো স্বস্তি এলো না। কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা করতে পারল না এই প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকার নিয়ন্ত্রিত ও আশ্রিত প্রতিষ্ঠান হলেও রাজনৈতিক পা-াদের অশুভ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো এসব প্রতিষ্ঠানে। নাগরিক সুবিধার বদলে সিটি করপোরেশন নাগরিক সংকট বাড়াল। ট্যাক্সের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে থাকল নগরবাসী আর জঞ্জালে ডুবতে থাকল নগর। পার্ক থেকে ফুটপাত সবই দখল হতে থাকল। দখল হতে থাকল খাল থেকে নদী পর্যন্ত সব কিছু। এখানে ওখানে খোঁড়াখুঁড়িতে নাকাল চলাচল অনুপযোগী রাস্তার সংখ্যা বাড়তে থাকল। পলিথিন আর নানা বর্জ্যে বন্ধ হয়ে যেতে থাকল ড্রেন। সিন্ধু সভ্যতার পৌরপিতারা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কারের ব্যবস্থা রাখলেও সাত হাজার বছর পর এ দেশের আধুনিক পৌরপিতারা ড্রেনেজ সিস্টেম প্রসঙ্গে ভাববার অবকাশ পেলেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বটে, তবে এর সুফল না দেখা পর্যন্ত নগরবাসী স্বস্তি পাবে না। এখনো নগরের কোনো কোনো অংশে সামান্য বৃষ্টির পানি ড্রেনে গড়ানোর আগেই নগরবাসীর ঘরে ঢুকে যায়, অনেক স্থানে রাজপথ খাল বিলে রূপান্তরিত হতে থাকল। রাজউকের নগর পরিকল্পনা অসাধু কর্মকর্তা, ইউনিয়ন নেতা এবং দালালদের হাতে বন্দি হতে থাকল। খাল বিলের খাসজমিতে ভূমিদস্যুদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। রাজউক পাস করে দেয় এদের বহুতল ভবনের প্ল্যান। অপরিকল্পিত কংক্রিটের বস্তিতে নাগরিক জীবনে দম বন্ধ করা পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভারী বৃষ্টি হলে নগরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ডিএনডি বাঁধের ভেতর মানুষ জলবন্দি থাকে। রাজপথে নেমে পানিতে ডুবে বিকল হয়ে যায় অনেক নাগরিকের গাড়ি। এরা প্রত্যেকেই নাগরিক সুবিধা পাওয়ার চুক্তিতেই সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও সরকারকে ট্যাক্স দেন। এখন ক্ষতিগ্রস্ত সবাই যদি সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করে তখন সংশ্লিষ্টদের কি জবাব থাকতে পারে?

রাজধানীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য জমে ড্রেন অকার্যকর হয়ে যাওয়া এবং রাজধানীর ভেতরে ও বাইরের জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া। এভাবে বৃষ্টি ও বন্যার পানি বেরিয়ে পাওয়ার পথ সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পুকুর খাল নদী ভরাট করার নতুন প্রযুক্তির পাইকারি ব্যবহার হচ্ছে প্রকাশ্যেই। পাইপ সংযোগে মোটর চালিয়ে টনে টনে বালি ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে সব। মোহাম্মদপুরের পশ্চিমের নিম্নাঞ্চল, খিলগাঁও তালতলার পূর্বাঞ্চল, বাড্ডার পূর্বাঞ্চল, উত্তরার পশ্চিম-উত্তরের নিম্নাঞ্চল, আশুলিয়ার চারপাশ, আমিনবাজারের পর থেকে আরিচা রোডের দুপাশে বেশ কয়েক মাইলজুড়ে ছিল প্লাবন ভূমি ও প্রাকৃতিক জলাধার। কিছুকাল আগেও বর্ষায় বিপুল জলরাশি থৈ থৈ করত। এখন এর অনেকটাই ভূমিদস্যুদের থাবায়। হাউজিং কোম্পানিগুলো সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ভরাট করে ফেলছে। আশুলিয়া থেকে উত্তরার পথে গেলে দেখা যাবে কীভাবে ভরাট হচ্ছে তুরাগ নদী। কারা অনুমতি দিচ্ছে আল্লাহ মালুম।

জনস্বার্থের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনো সরকারই আমলে আনেনি। আর আনবেইবা কীভাবে। ভূমি দখলের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব সক্রিয় থাকে। এ প্রভাব এড়াতে পারে না কার্যত আমাদের সব ‘গণতান্ত্রিক’ সরকার। যে সরকারগুলোর নীতিনির্ধারণ বা নীতি বাস্তবায়নে জনস্বার্থের বদলে দলীয় পা-াস্বার্থ গুরুত্ব পায়।

এসব বাস্তবতার পরও বলব রাজধানীর নাগরিক জীবন প্রতিদিন যেভাবে দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে তাতে সরকারি চোখ বন্ধ রেখে ঝড় এড়ানো যাবে না। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব এড়াতে চাননি। সংশ্লিষ্টদের তিনি জলাবদ্ধতা দূর করতে বারবারই নির্দেশ দিয়েছেন। অতীতের সরকারপ্রধানগণও অমন নির্দেশ দিতেন। কিন্তু তা কার্যকর হতে দেখা নগরবাসীর কপালে জোটেনি। সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউক তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। দখলমুক্ত করা যায়নি জলাধারগুলো। আদালতের রায়ও কার্যকর হয়নি। দলের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চা থাক বা না থাক মানুষ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতান্ত্রিক আচরণ দেখার জন্য। সামনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন। এসব হিসাবনিকাশ নাগরিক ভোটারদের মধ্যে অবশ্যই থাকবে। আমরা আশা করব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের সমর্থন থেকে শক্তি সঞ্চয় করবেন। ইতোমধ্যে অনেক সাধু পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। ‘ক্ষমতাবান’ সুবিধাবাদীদের পরোয়া না করে ঢাকা নগরীর সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখলে হয়তো এর সুফল আমরা দেখতে পাব।

য় ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে