সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কণ্ঠরোধ হলো কোথায়?

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:৪৮ | আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:২১ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অনেক সম্পাদক-সাংবাদিক বলছেন, তাদের কণ্ঠরোধ হয়েছে। কণ্ঠটা রোধ হলো কোথায়? কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থ বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মতামত দিয়েছেন; কিন্তু সমগ্র দেশের জন্য বিলটি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা তাদের মাথায় আসেনি। তারা শুধু তাদের কণ্ঠরোধ হলো কিনা সেটাই দেখেন; কিন্তু তাদের তো কণ্ঠরোধ হয়নি। দেশের স্বার্থেই ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনের সমাপনী  বক্তব্যে পাস হওয়া ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮’ প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র সমাজ ও দেশের স্বার্থে যে বিলটি কত গুরুত্বপূর্ণ, তারা একবারও চিন্তা করেননি; বিষয়টি তাদের মাথায়ও আসেনি। কই, কণ্ঠ তো তাদের রোধ হয়নি, কণ্ঠ আছে বলেই তো তারা মতামত দিচ্ছেন। কণ্ঠরোধ করলে তো মতামত দেওয়ার মতো ক্ষমতা থাকত না। আর কণ্ঠরোধটা যে কী, সেটা মার্শাল ল যখন ছিল তখন বুঝেছে। এ দেশে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা ছিল; অবশ্য যারা তাদের তোষামদি করেছে, তাদের অসুবিধা হয়নি। যারা তাদের অন্যায়ের কথা বলতে গেছে, তাদের অসুবিধা হয়েছে। বেশি দূর যেতে হবে না, ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের আমলে কীভাবে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হয়েছেন, সেটি তারা ভুলে গেছেন। এই দেশে একটা টেলিভিশন ছিল। কোনো সরকার সাহস পেয়েছে এই টেলিভিশনকে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে? আমরা দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন মধ্যরাত পর্যন্ত টকশো হয়, সেখানে যা খুশি আলোচনা করতে পারছে। কেউ গিয়ে তো তাদের গলা চেপে ধরছে না। কেউ তো তাদের বাধা দেয় না। শুধু তাদের সাংবাদিকতার বিষয়টাই তারা দেখছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিকতা হবে গঠণমূলক। সাংবাদিকতা থাকবে দায়িত্বশীল, সমাজের জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য। নিশ্চয়ই সাংবাদিকতা সংঘাতের জন্য হবে না। সাংবাদিকতা দেশের অকল্যাণের জন্য হবে না। দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য হবে না। এমন সাংবাদিকতা থাকতে হবে, যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মানুষের ভেতরে আত্মবিশ্বাস আনবে, মানুষের ভেতরে সন্দেহের সৃষ্টি করবে না। মানুষকে বিভ্রান্ত করবে না, মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করবে না। একটা সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদকে উসকে দেবে না। সেটাই তো হওয়া উচিত। আমরা তো সেরকম সাংবাদিকতাই চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউটিউব-ফেসবুকের ভালো দিক আছে। আবার খারাপ দিকও আছে। খারাপ বিষয়গুলো সমাজের জন্য অশুভ বিষয় বয়ে আনে। অনেক ছেলেমেয়ে এর প্রতি এডিকটেড হয়ে যায়। অপব্যবহার হয়, অপপ্রচার হয়। এমনভাবে অপপ্রচার হয় যে, পারিবারিক অসন্তোষ তৈরি হয়। আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। এসব বিষয়তো আমাদের দেখতে হবে। এ নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আমাদের একান্ত দরকার। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দিকটাও আছে। এসব মাধ্যম যদি সুস্থভাবে পরিচালিত হয়, তা হলে সেটিা ভালো হতে পারে। আবার উল্টো হলে সমাজ ও সংসার ধ্বংসের দিকে ঠেলে নিয়ে যেতে পারে। সবার জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। সে লক্ষ্য নিয়েই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস হয়েছে। এখানে শুধু গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারের কথা চিন্তা করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ বছরের শেষবেলা। পড়ন্তবেলা। আবার নির্বাচন হবে। যারা জয়লাভ করবে তারা ক্ষমতায় আসবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করেছি, মজবুত করেছি। যারা এটা দেখেন না তাদের আসলে নড়বড়ে অবস্থা। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে। সাধারণ জনগণ কিন্তু এসব বোঝে। আবার যদি ক্ষমতায় আসি তাহলে প্রতিটি গ্রামকে আমি শহরে পরিণত করব। আমরা সমগ্র দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের মতে দেশে উন্নয়ন বলে কিছুই হয়নি। এটাই তাদের চরিত্র। কিছু মানুষ আছে তাদের কিছুই ভালো লাগে না। তারা কোনো কিছুই ভালো চোখে দেখতে পারে না। তাই আমি সেগুলো  নিয়ে ভাবি না। আমি দেশের জন্য কাজ করি, দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। আমার আত্মবিশ্বাস আছে। কারো লেখা পড়ে, পত্রিকা পড়ে আমাকে শিখতে হবে না; আমি জানি। তবে পত্রিকা দেখে আমি তথ্য সংগ্রহ করি। কেউ কষ্টে থাকলে তা লাঘবের চেষ্টা করি।

শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা আছে বলেই আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা দিনবদলের সনদ দিয়েছিলাম। মুষ্টিমেয় লোক ছিল ক্ষমতাশালী। দেশের বড় একটি অংশ অবহেলিত ছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দল হিসেবে যে আর্থিক নীতিমালা করা দরকার তা করেছি। তাই আর্থসামাজিক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। অর্থনীতিকে যথেষ্ট শক্তিশালী করেছি। বাজেট বাস্তবায়ন করতে আজ কারো কাছে হাত পাততে হয় না। এই সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি পরিকল্পিতভাবে এগোনোর কারণে। তাই বাংলাদেশ আজ বিশে^র কাছে রোল মডেল।

সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সেশন আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ১০ দিন সংসদ চলেছে। এর মধ্যে ১৮টি বিল পাস করেছি। প্রতিটি বিল তারা পুঙ্খানুপঙ্খভাবে পড়েছেন। মতামত দিয়েছেন। এই যে আগ্রহ, এটা ভালো। দশম জাতীয় সংসদে কোনো অশালীন কথা নেই। এটা গণতেন্ত্রর ভিতকে শক্তিশালী করেছে, মজবুত করেছে। এক সময় এই পার্লামেন্টে অনেক নোংরা ভাষা ব্যবহার হয়েছে। এক সময় মানুষের কাছে সংসদ নিয়ে আগ্রহ কমে গিয়েছিল; কিন্তু এবার সংসদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন হয়েছে। এবার বিলে অনেক বিষয়ের সঙ্গে সামাজিক বিষয় নিয়েও বিল পাস হয়েছে। যৌতুক নিয়ে বিল পাস হয়েছে।

সড়ক পরিবহন বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি করা হয়েছে। সবার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর ধরে এ নিয়ে কাজ করা হয়েছে। অনেকে প্রশংসা করেছেন। কোনো খুঁত তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। তারা কিন্তু মেধাবী। তারা কখনো স্বীকৃতি পায়নি বা তারাও চায়নি। কর্মক্ষেত্রে তারা যেন প্রবেশ করতে পারে, জীবনটাকে যেন উন্নত করতে পারে, সেটা চেয়েছি। প্রায় ৯ বছর তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বিলটি পাস করা হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে