ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকার দাবি আদায়ে আন্দোলনের হুমকি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:৪৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রমিকদের দাবির মুখে মালিকপক্ষ ৫ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মুজরি দিতে সম্মত হয়েছেন, যা চলতি মাসে সরকারের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ঘোষণা করে; কিন্তু এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ গার্মেন্টস শ্রমিকরা। ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা আদায়ের দাবিতে অটল রয়েছেন তারা। আর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে এই ৮ হাজার টাকায় ব্যয়ভার বহন করা কোনোভাবে সম্ভব না বলেও দাবি করেন শ্রমিক নেতারা। আর প্রধানমন্ত্রীর মুখে ঘোষণা শুনতে চান শ্রমিকরা। তাদের দাবিÑ শ্রমিকদের বঞ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করেছে মালিকপক্ষ। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট বুঝবেন।
এদিকে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে প্রতিদিনই কর্মসূচি দিচ্ছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। গতকাল রবিবারও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন।
তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, কোনোভাবেই আর ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই ৮ হাজার টাকা মেনে নিয়েছেন মালিকরা। মালিকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর ওপর বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা থেকেই ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়।জানা গেছে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য সর্বশেষ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়। দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনার পর গত ২৯ জানুয়ারি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। গত মাসে সর্বশেষ সভায় শ্রমিকপক্ষ ১২ হাজার ২০ টাকা ও মালিকপক্ষ ৬ হাজার ৩৬০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। এই আলোচনার মধ্যেই সম্প্রতি ৫ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা করার ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। তার এমন বক্তব্যের পর শ্রমিকরা নানা ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন আমাদের সময়কে জানান, শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর এখনো যথেষ্ট সময়ে রয়েছে। সরকার ইচ্ছে করলে শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে পারে। বর্তমান বাজারে ৮ হাজার টাকায় চলা যায় না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মজুরি বোর্ড ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি ঘোষণা দেয়; কিন্তু এই ঘোষণার মধ্যেও পরিপক্বতা নেই। কারণ হচ্ছেÑ এই ঘোষণাটি দেবেন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান; কিন্তু চেয়ারম্যান এখনো ঘোষণা দেননি।
এর পর গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেট প্রকাশের পর একটি পরিস্কার বক্তব্য থাকেÑ বর্ধিত বেতনের বিষয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে উত্থাপন করতে হবে। বোর্ড তাদের আপত্তিগুলো শুনবে এবং একটি ডিক্লারেশন  দেবে।
এদিকে স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি শামিমা নাসরিন জানান, আমাদের দাবি আদায়ের ব্যাপারে আমরা লড়ে যাব। প্রধানমন্ত্রী বরাবর আজ (গতকাল) স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আশা করি প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বিবেচনায় নেবেন এবং ন্যূনম মজুরি আরও বৃদ্ধি করবেন। আমরা সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি এসএম মান্নান (কচি) আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমানে পোশাকশিল্প কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি যেসব কারখানা আছে, সেগুলোও ভালো নেই। তিনি বলেন, একদিকে গার্মেন্টস আনুষঙ্গিক সব পণ্যের দাম বেড়েছে, অন্য দিকে ক্রেতারা তৈরিপণ্যের দাম একটাকাও বাড়াননি। এর পর রয়েছে ব্যাংকের উচ্চসুদ। এসব কারণে মালিকপক্ষ খুবই সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি যে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, এতেই অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।  
এদিকে সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা মজুরি প্রত্যাখ্যান করে দাবি আদায়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)। সংগঠনটি সরকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য সম্প্রতি ঘোষিত ১৭ হাজার ৮১২ টাকার সমান মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে জি-স্কপের নেতারা এ দাবি জানান। মালিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করা ‘দুঃখজনক’ বিষয় বলেও মনে করেন তারা। জি-স্কপের সদস্য সচিব নাইমুল আহসান জুয়েলের সভাপতিত্বে এতে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতারা বক্তব্য দেন।
 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে